সাত দেশ থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল কিনবে সরকার
জানুয়ারি ৭, ২০২৬
১৪ ব্যাংক থেকে আরো ২২ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক
জানুয়ারি ৭, ২০২৬
সাত দেশ থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল কিনবে সরকার
জানুয়ারি ৭, ২০২৬
১৪ ব্যাংক থেকে আরো ২২ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক
জানুয়ারি ৭, ২০২৬

মস্তিষ্কের চার বাঁক: কোন বয়সে আপনার চিন্তাধারা বদলে যায়

গবেষণার প্রধান লেখক আলেকসা মাউসলি জানান, ৯, ৩২, ৬৬ এবং ৮৩ বছর বয়সে আমাদের মস্তিষ্কে উল্লেখযোগ্য কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনের ভিত্তিতে মানুষের জীবনকালকে ৫টি ধাপে ভাগ করা হয়েছে।

মানুষের মস্তিষ্ক সারা জীবন একইভাবে কাজ করে না। শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত এটি চারটি প্রধান সন্ধিক্ষণে নিজের গঠন পরিবর্তন করে। সম্প্রতি নেচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ৪ হাজার সুস্থ মানুষের মস্তিষ্কের স্ক্যান বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, আমাদের মস্তিষ্কের বিকাশ মোটেও সরলরৈখিক নয়। খবর দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

গবেষণার প্রধান লেখক আলেকসা মাউসলি জানান, ৯, ৩২, ৬৬ এবং ৮৩ বছর বয়সে আমাদের মস্তিষ্কে উল্লেখযোগ্য কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনের ভিত্তিতে মানুষের জীবনকালকে ৫টি ধাপে ভাগ করা হয়েছে।

শৈশব (জন্ম থেকে ৯ বছর): এই সময়ে মস্তিষ্কে নিউরাল সংযোগের ব্যাপক প্রসার ঘটে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক কিছুটা কম দক্ষ হয়ে পড়ে। গবেষকদের মতে, ভাষা শেখা ও হাঁটাচলার মতো জটিল দক্ষতা অর্জনের জন্যই সম্ভবত মস্তিষ্ক এই সময় এমন ধীরস্থিরভাবে কাজ করে।

কৈশোর ও তারুণ্য (৯ থেকে ৩২ বছর): এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী পর্যায়। এই সময়ে মস্তিষ্ক নিজেকে আরো দক্ষ ও দ্রুত করে তুলতে শুরু করে। গবেষকদের মতে, ১৮ বা ২১ বছর বয়সে আমরা কাউকে প্রাপ্তবয়স্ক বললেও, আদতে ৩২ বছর বয়স পর্যন্ত মস্তিষ্কের গঠন পুরোপুরি স্থিতিশীল হয় না।

পূর্ণ বয়স্ককাল (৩২ থেকে ৬৬ বছর): এটি মস্তিষ্কের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং স্থিতিশীল সময়। এই তিন দশকে মানুষের বুদ্ধিমত্তা, আচরণ ও ব্যক্তিত্বে তেমন বড় কোনো পরিবর্তন আসে না।

প্রারম্ভিক বার্ধক্য (৬৬ থেকে ৮৩ বছর): এই বয়সে মস্তিষ্ক বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তবে এর সবটুকুই নেতিবাচক নয়। গবেষক কেটি ইনসেল জানান, এই সময়ে স্মৃতিশক্তি কিছুটা কমলেও মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা এবং প্রজ্ঞা বৃদ্ধি পায়।

শেষ বার্ধক্য (৮৩ বছর ও তদূর্ধ্ব): এই পর্যায়ে মস্তিষ্কের কানেক্টিভিটি কমে গেলেও কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল আরো বেশি গুরুত্ব পায়। অনেকটা বিকল্প রুটে বাস চলাচলের মতো, মস্তিষ্ক তার হারানো সংযোগগুলোর অভাব পূরণে প্রধান কেন্দ্রগুলোকে আরো বেশি সক্রিয় করে তোলে।

এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসায়েন্টিস্ট সেথ গ্রান্ট বলেন, মস্তিষ্ক একবার তৈরি হয়ে স্থির হয়ে যায় না। এটি জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অনবরত নিজেকে পরিবর্তন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণা আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে কেন নির্দিষ্ট বয়সে মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে কিংবা কেন বার্ধক্যে বিশেষ কিছু আচরণ দেখা দেয়। পাশাপাশি খাদ্যতালিকা, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সামাজিক যোগাযোগ মস্তিষ্কের এই পরিবর্তনগুলোকে ইতিবাচক দিকে মোড় নিতে সাহায্য করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *