বকেয়া বেতনের দাবিতে যমুনা সার কারখানায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ
জানুয়ারি ৪, ২০২৬
পটুয়াখালীতে বাড়ছে তরমুজ আবাদ
জানুয়ারি ৪, ২০২৬
বকেয়া বেতনের দাবিতে যমুনা সার কারখানায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ
জানুয়ারি ৪, ২০২৬
পটুয়াখালীতে বাড়ছে তরমুজ আবাদ
জানুয়ারি ৪, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সেচ সংকটে ৫০০ বিঘা জমিতে বোরো আবাদে অনিশ্চয়তা

আমন ধান কাটার পর কার্তিক-অগ্রহায়ণ থেকে বোরো বীজতলা তৈরি শুরু করেন কৃষক।

আমন ধান কাটার পর কার্তিক-অগ্রহায়ণ থেকে বোরো বীজতলা তৈরি শুরু করেন কৃষক। ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারিতে চারা রোপণ করা হয়। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় বোরো আবাদ শুরু করেছেন কৃষক। তবে সেচ সংকটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ধানের চারা ও জমি প্রস্তুত করেও চাষাবাদ শুরু করতে পারছেন না কৃষক। এতে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের ললিহা বিলে অন্তত ৫০০ বিঘা জমিতে আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন চাষীরা। বিল ইজারাদারের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।

তারা বলছেন, বিলের পানি ছেড়ে দেয়ায় আশপাশের জমি এখন অনাবাদি হয়ে পড়ে রয়েছে। বিল ছাড়া পানির অন্য কোনো উৎস না থাকায় এখন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। যুগ যুগ ধরে চলা নিয়ম ভেঙে ইজারাদারের স্বেচ্ছাচারিতায় এমন সংকটে পড়েছেন তারা। অবশ্য চাষাবাদ শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, পানির অভাবে মারা যাচ্ছে ধানের চারা। জমি প্রস্তুতের প্রাথমিক কাজ শেষ হলেও পানি না পাওয়ায় শুরু করা যাচ্ছে না বোরো আবাদ। বর্ষা শেষে বিলের ইজারাদার পানি ছেড়ে দেয়ায় আবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। ইজারাদার নিজস্ব স্বার্থে পানি নিয়ন্ত্রণ করছেন। সেচ মৌসুম শুরু হলেও এখনো বিলে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা হয়নি। অনেক কৃষক বীজতলা তৈরি করলেও পানি না থাকায় চারা রোপণ করতে পারছেন না। যুগ যুগ ধরে বিলের পানি আটকে আশপাশের জমি চাষাবাদ করেন তারা। কিন্তু গত বছর বর্ষায় কৃষকরা বাঁধ দিলে তা ভেঙে দিয়ে পানি ছেড়ে দেন ইজারাদার। এখন পানিশূন্য অবস্থায় রয়েছে ললিহা বিল। ধান চাষ না করতে পারলে পথে বসবেন কয়েকশ কৃষক। বোরো ধানই তাদের প্রধান আয়ের উৎস। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাষাবাদ না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। অনেকে সার, বীজ ও শ্রমিকের জন্য টাকা খরচ করলেও আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘বছরের এই সময়টাতে পানি না পেলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাবে। ইজারাদার নিজের ইচ্ছামতো পানি ছাড়ছেন, এতে আমরা বোরো আবাদ করতে পারছি না।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাকলাইন হোসেন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি শুনেছি। বর্ষা মৌসুমে পানি আটকে রেখে আবার কৃষকরা ওই পানি দিয়ে বোরো আবাদ করেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সি বলেন, ‘কৃষক আমাদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *