
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ পররাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রশ্ন / বিক্ষোভকারীরা কীভাবে এত দূর ঢুকতে পারল
ডিসেম্বর ২২, ২০২৫
দালাল গ্রেফতার
ডিসেম্বর ২২, ২০২৫নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর কোনো মনোযোগ নেই বলে অভিযোগ করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও মানবাধিকারকর্মীরা।
নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর কোনো মনোযোগ নেই বলে অভিযোগ করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও মানবাধিকারকর্মীরা। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, চলমান সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা বজায় থাকলে কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রূপান্তর ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে।
গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক কোয়ালিশন আয়োজিত ‘নির্বাচন ও নাগরিক নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহযোগিতা করে ব্রেইন (বিআরএআইএন) ও ভয়েস ফর রিফর্ম।
সভায় বক্তারা বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ও অনেক রক্তক্ষয়ের পর দেশের মানুষ ভোট দেয়ার একটি আশা পেয়েছে। এটি হয়তো দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্ভয় পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। তরুণ রাজনীতিকরাই যদি সুরক্ষা না পান, তবে সাধারণ মানুষ কীভাবে সুরক্ষা পাবে?’
আলোচনায় সরকারের বর্তমান ভূমিকাকে অত্যন্ত দুর্বল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বক্তারা বলেন, ‘সরকার সবচেয়ে অথৈর্বতার পরিচয় দিচ্ছে। তারা অনেকটা নপুংসক ভূমিকা পালন করছে, যা আমাদের একটি প্রহসনের নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’”সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাগুলোয় সরকারের নীরবতাকে রহস্যময় উল্লেখ করে বলা হয়, ‘ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর সরকার দরদ দেখালেও দায় নিতে চাচ্ছে না।’
আইনের শাসন না থাকায় এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোয় দ্রুত সিসি ক্যামেরা স্থাপন, আর কোনো প্রাণহানির আগেই দ্রুত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যসহ পেশিশক্তির রাজনীতি বন্ধের বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন বক্তারা।
আলোচনায় অভিযোগ করা হয়, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নির্বাচন বানচালের একটি স্পষ্ট ষড়যন্ত্র। বারবার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এ সংকট উত্তরণে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনকে এ মুহূর্তে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়ার দাবি জানানো হয়। বক্তারা একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘মানুষ যেখানে নির্ভয়ে কথা বলতে পারবে এবং নিজের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবে সে রকম পরিবেশ তৈরি করুন।’
অনুষ্ঠানে মানবাধিকারকর্মী আইরিন খান বলেন, ‘সরকারের দায়িত্ব তদন্ত করে ওসমান হাদীসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা। পাশাপাশি সম্প্রতি যে দুটি গণমাধ্যমে আক্রমণ করে পুড়িয়ে দেয়া হলো, তারও সঠিক তদন্ত হওয়া জরুরি। সরকারের জবাবদিহিতা ও দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে আরো বেশি নজর দেয়া প্রয়োজন।’
রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে দলগুলোকে ভেবেচিন্তে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। নির্বাচন একটি উপলক্ষ মাত্র, এর মূলে রয়েছে গণতন্ত্র। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে সম্ভব, তার পরিষ্কার ধারণা জনগণকে দিতে হবে এবং এক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও বিশাল ভূমিকা রয়েছে।’
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা, জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


