
অনিবার্য কারণ ছাড়া বিএনপি নির্বাচনি মাঠে থাকবে : নজরুল ইসলাম খান
ডিসেম্বর ৪, ২০২৫
গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে ‘মৌলিক ভুল’ ছিল: গুতেরেস
ডিসেম্বর ৪, ২০২৫দক্ষিণ গাজার ভেঙে পড়া ভবনগুলোর পাশ দিয়ে ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি নকশার পোশাক পরা ইমান হাসান লাওয়া আর স্যুট পরা হিকমত লাওয়া হাতে হাত ধরে হাঁটছিলেন। ঠিক একইভাবে সাজা আরো অনেক নবদম্পতিও সারি ধরে হাঁটেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় এ যেন এক অন্য রকম আনন্দ। ২৭ বছর বয়সী এ দুই ফিলিস্তিনি মঙ্গলবার যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ৫৪ দম্পতির গণবিয়েতে অংশ নেন। দুই বছরের ধ্বংস, মৃত্যু ও সংঘাতের পর এক বিরল আশা ও আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করে এ আয়োজন। খবর এপি।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হিকমত লাওয়া বলেন, ‘সবকিছুর পরও আমরা নতুন জীবন শুরু করব। ইনশাআল্লাহ, এ যুদ্ধের এখানেই শেষ হবে।’
নবদম্পতি ইমান হাসান লাওয়া ও হিকমত লাওয়া। ছবি: এপি
দম্পতিদের বহনকারী গাড়ির শোভাযাত্রা যদ্ধে ধ্বংসস্তূপ ঘেরা পথে চলে। হিকমত ও ইমান লাওয়া ফিলিস্তিনি পতাকা নাড়িয়ে অন্য দম্পতিদের সঙ্গে আনন্দ উদযাপন করেন। আর চারপাশে পরিবারগুলো গানের তালে নাচেন। সাদা, লাল ও সবুজ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা ইমান বলেন, ‘বছরের পর বছর কষ্টের পর এ বিয়ে তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনেছে।’ তবে তিনি জানান, যুদ্ধে তার বাবা-মা ও আরো অনেক স্বজনকে হারিয়েছেন। তাই এ আনন্দেও বেদনার ছাপ আছে।
ফিলিস্তিনি সংস্কৃতিতে বিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যুদ্ধকালীন গাজায় তা প্রায় থমকে গিয়েছিল। ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর গাজার পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে। বিয়ের অনুষ্ঠানও পুনরায় শুরু হয়েছে। যদিও তা আর আগের মতো জাঁকজমকপূর্ণ নয়।
গাজার ২০ লাখ মানুষের বেশিরভাগই ইমান ও হিকমতের মত বাস্তুচ্যুত। শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ত্রাণ সংকট ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সংঘর্ষ তাদের প্রতিদিনের জীবনে প্রভাব ফেলছে। সমগ্র গাজাজুড়ে চলমান মানবিক সংকটে এমন গণবিয়ের আনন্দ অনেকটা অপ্রত্যাশীতই। তারপরও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনুসের এ আয়োজনে তারা উচ্ছ্বসিত। বিয়েতে জনতা ফিলিস্তিনি পতাকা নাড়ায়।
দূর সম্পর্কের আত্মীয় এ তরুণ দম্পতি যুদ্ধের সময় পালিয়ে পাশের শহর দেইর আল-বালাহতে আশ্রয় নেন। তারা জানান, এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে সংসার গড়ে তুলবেন, তা তারা জানেন না। হিকমত লাওয়া বলেন, আমরা পৃথিবীর অন্য মানুষের মতোই সুখী হতে চাই। আমি আগে স্বপ্ন দেখতাম নিজের একটা ঘর, একটা চাকরি এবং সবার মতো একটা সুন্দর জীবন। এখন আমার স্বপ্ন শুধু থাকার জন্য একটি তাঁবু খুঁজে পাওয়া।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ‘আল ফারেস আল শাহিম’ এ আয়োজনের অর্থায়ন করেছে। পাশাপাশি তারা নবদম্পতিদের সামান্য অর্থসহ কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রিও উপহার দিয়েছে।
ফিলিস্তিনি বিয়ে নিয়ে গবেষণা করেন বার্নার্ড কলেজের সমাজবিজ্ঞানী রান্দা সেরহান। তিনি বলেন, বিয়ে ফিলিস্তিনিদের কাছে স্থিতিস্থাপকতার প্রতীক। নতুন প্রজন্ম আর ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উৎসব। এ দম্পতিরা অসম্ভব পরিস্থিতির মধ্যেও জীবন চালিয়ে যাবে।


