বিপুল ব্যয়ে নির্মিত মহাসড়কে বাড়ছে খানাখন্দ সংস্কারে ধীরগতি
অক্টোবর ১০, ২০২৫
হংকংয়ের কাছে ৭ গোলের থ্রিলারে হারল বাংলাদেশ
অক্টোবর ১০, ২০২৫
বিপুল ব্যয়ে নির্মিত মহাসড়কে বাড়ছে খানাখন্দ সংস্কারে ধীরগতি
অক্টোবর ১০, ২০২৫
হংকংয়ের কাছে ৭ গোলের থ্রিলারে হারল বাংলাদেশ
অক্টোবর ১০, ২০২৫

সাহিত্যে নোবেল পেলেন হাঙ্গেরির ঔপন্যাসিক লাজলো ক্রাজনাহোরকাই

এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন হাঙ্গেরির ঔপন্যাসিক লাজলো ক্রাজনাহোরকাই। সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী ১২২তম লেখক হিসেবে গতকাল তার নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি।

এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন হাঙ্গেরির ঔপন্যাসিক লাজলো ক্রাজনাহোরকাই। সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী ১২২তম লেখক হিসেবে গতকাল তার নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি। নোবেল কমিটি বলেছে, ‘তার মনোমুগ্ধকর এবং দূরদর্শী লেখা যা প্রলয়াতঙ্কের মাঝেও শিল্পের শক্তিকেই প্রতিবিম্বিত করে।’

লাজলো ক্রাজনাহোরকাই ডিস্টোপিয়ান ও বিষণ্নতাময় উপন্যাসগুলোর জন্য খ্যাত। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে সাতানত্যাঙ্গো, দ্য মেলানকোলি অব রেজিস্ট্যান্স। এগুলো পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। তিনি ২০১৫ সালে ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার এবং ২০১৯ সালে ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড ফর ট্রান্সলেটেড লিটারেচার জেতেন। নোবেল সাহিত্য কমিটি ক্রাজনাহোরকাইকে বর্ণনা করেছে সেন্ট্রাল ইউরোপীয় ঐতিহ্যের ‘মহান একজন মহাকাব্যিক লেখক’ হিসেবে। তাকে তুলনা করা হয়েছে, কাফকা আর টমাস বের্নহার্ডের মতো লেখকদের সঙ্গে।

লাজলো ক্রাজনাহোরকাইয়ের জন্ম ১৯৫৪ সালে, হাঙ্গেরির গিউলা শহরে। ১৯৮৫ সালে সাহিত্যজগতে তার অভিষেক প্রথম উপন্যাস সাতানত্যাঙ্গো প্রকাশের মাধ্যমে। সাহিত্য সমালোচকরা তাকে একজন পোস্ট-মডার্ন লেখক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। দীর্ঘ ও জটিল বাক্যে তার লেখায় ডিস্টোপিয়ান ও বিষণ্নতা প্রাধান্য পায়। তার লেখার স্বতন্ত্র ধরনের কারণেই তাকে গোগোল, মেলভিল ও কাফকার সঙ্গে তুলনা করে থাকেন সাহিত্য সমালোচকরা।

লাজলোর প্রথম উপন্যাস সাতানত্যাঙ্গো চলচ্চিত্রে রূপ নেয় কিংবদন্তি পরিচালক বেলা তারের হাত ধরে। ৭ ঘণ্টাব্যাপী এ চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে ক্রাসনাহোরকাই ও বেলা তারের মধ্যে সৃজনশীল সহযোগিতার এক অটুট বন্ধন গড়ে ওঠে।

ক্রাজনাহোরকাইয়ের সাহিত্যজীবনে ভাষার পাশাপাশি ভ্রমণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৮৭ সালে তিনি কমিউনিস্ট হাঙ্গেরি ছেড়ে পশ্চিম বার্লিনে ফেলোশিপে যান। এরপর মঙ্গোলিয়া ও চীন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখেন ‘দ্য প্রিজনার অব উর্গা’ ও ‘ডিস্ট্রাকশন অ্যান্ড সরো বিনিথ দ্য হ্যাভেনস’।

তার আরেক বিখ্যাত উপন্যাস ‘ওয়ার অ্যান্ড ওয়ার’ লেখার সময় তিনি ইউরোপজুড়ে ভ্রমণ করেন। সে সময়টাতে কিছুদিন অ্যালেন গিন্সবার্গের নিউইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্টেও বসবাস করেন তিনি। তিনি নিজেই জানান, ‘ওয়ার অ্যান্ড ওয়ার’ উপন্যাসটি সম্পূর্ণ করতে গিন্সবার্গের সহায়তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

লাজলোর পাঠক ও সমালোচকরা অনেকেই তাকে যুগান্তকারী সাহিত্যিক বলে মনে করেন। সুজান সন্টাগ তাকে ‘ধ্বংসাবশেষের সমসাময়িক হাঙ্গেরীয় সাহিত্যগুরু’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন। আর ডব্লিউজি সেবাল্ড প্রশংসা করেছেন তার দৃষ্টিভঙ্গির সর্বজনীনতাকে।

আজ শান্তিতে এবং আগামী ১৩ অক্টোবর অর্থনীতিতে এবারের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হবে নোবেল পুরস্কার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *