সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
সাদিক কায়েম মেয়েদের প্যান্ট-জার্সি পরিয়ে মাঠে নামিয়ে গর্ব করে: চরমোনাই পীর
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
সাদিক কায়েম মেয়েদের প্যান্ট-জার্সি পরিয়ে মাঠে নামিয়ে গর্ব করে: চরমোনাই পীর
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, অক্টোবরে চুক্তি

মন্ত্রী বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য একটি টেকসই মিশ্র বহর বা “‍মিক্সড ফ্লিট” গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং কেনার চুক্তির পর এবার ইউরোপীয় কোম্পানি এয়ারবাস থেকে আরো ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ নিয়ে আগামী অক্টোবরেই চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গতকাল আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে গত ৩০ এপ্রিল চুক্তি হয়। ওই চুক্তিতে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার সুযোগ বা ‘রাইট টু পারচেজ অ্যাডিশনাল এয়ারক্রাফট’ রাখা হয়েছিল। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরো ১১টি বোয়িং কেনার জন্য গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সম্পূরক চুক্তি করা হয়েছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, যা বড় আকারের বা ওয়াইড বডি উড়োজাহাজ; আর ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স, যা সংকীর্ণ দেহের বা ন্যারো বডি উড়োজাহাজ কেনা হবে।
সব মিলিয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হলো বিমানের। এর মধ্যে ১৫টি ওয়াইড বডি এবং ১০টি ন্যারো বডি উড়োজাহাজ। ওয়াইড বডির মধ্যে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ এবং ১৩টি বোয়িং ৭৮৭-১০। চুক্তি অনুযায়ী ২০৩১ সালের নভেম্বর থেকে উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হবে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে সর্বশেষ উড়োজাহাজটি পাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। তবে বিমানের বহরে ঘাটতি কমাতে নির্ধারিত সময়ের আগেই অন্তত একটি উড়োজাহাজ পাওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যেই সেটি সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী।
এদিকে এয়ারবাসের কাছ থেকেও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা চলছে জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আমরা এয়ারবাস কিনছি। ১০টি কিনছি। অক্টোবরে চুক্তি হয়ে যাবে।’ এর মধ্যে চারটি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড বডি এবং ছয়টি এ৩২১ নিও ন্যারো বডি উড়োজাহাজ।
মন্ত্রী বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য একটি টেকসই মিশ্র বহর বা “‍মিক্সড ফ্লিট” গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’
বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় যাত্রী চাহিদা, বিমানের নেটওয়ার্ক ও বহর পরিকল্পনা, উড়োজাহাজের উড্ডয়ন সীমা, যাত্রী ধারণক্ষমতা, প্রতি ফ্লাইটে সম্ভাব্য যাত্রী এবং সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। ওয়াইড বডি উড়োজাহাজ মূলত মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ চাহিদার রুট এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে ন্যারো বডি উড়োজাহাজ আঞ্চলিক ও স্বল্প দূরত্বের রুটে ব্যবহারের পাশাপাশি বিমানের পুরনো বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপন করবে।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘বহর সম্প্রসারণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের মডেল অনুসরণ করছে সরকার। বর্তমানে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের বহরে ১৬৭টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যেখানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে রয়েছে মাত্র ১৯টি। দেশের মোট যাত্রী চাহিদার তুলনায় বিমান বর্তমানে ২০ শতাংশের কিছু বেশি পরিবহন করতে পারছে। বাকি চাহিদার বড় অংশ বিদেশী এয়ারলাইনসগুলো পূরণ করছে। এ কারণে উড়োজাহাজের ঘাটতি কমাতে সময়োপযোগী ক্রয় পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনায় কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব নেই বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
উড়োজাহাজ কেনার অর্থ কীভাবে পরিশোধ করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘বিমান একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। বিমানের নিজস্ব আয় ও উপযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে উড়োজাহাজ কেনার মূল্য পরিশোধ করা হবে। যেহেতু ধাপে ধাপে উড়োজাহাজ সরবরাহ করা হবে, অর্থ পরিশোধও ধাপে ধাপে হবে। বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, বিভিন্ন রুট থেকে সম্ভাব্য আয় এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়েই এ ক্রয় পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে সরাসরি সরকারি বাজেটের ওপর চাপ পড়বে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *