টানা বৃষ্টিতে বন্যায় ডুবেছে ব্যাংকক, দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণা
সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
টেকনাফে মানবপাচারের চেষ্টা, ১৭ জনকে উদ্ধার করল এসআরবি
সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
টানা বৃষ্টিতে বন্যায় ডুবেছে ব্যাংকক, দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণা
সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
টেকনাফে মানবপাচারের চেষ্টা, ১৭ জনকে উদ্ধার করল এসআরবি
সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

ভারত-সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া নিয়ন্ত্রণে সফল হলেও বাংলাদেশে আরো আগ্রাসী হয়ে উঠছে ডেঙ্গু

কলকাতায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের পেছনে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের নীতিগত পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশে প্রথম ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয় ষাটের দশকে। তবে রোগটি মহামারী হিসেবে বড় পরিসরে সামনে আসে ২০০০ সালের দিকে। এরপর প্রায় দুই দশক ডেঙ্গুর বিস্তার কমবেশি রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিকই ছিল। ২০১৯ সালে পরিস্থিতি বদলে যায়; ওই বছর ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। কভিড মহামারীর সময়েও এর প্রাদুর্ভাব থামেনি। আর ২০২৩ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু আরো ভয়াবহ ও বিস্তৃত রূপ নিতে শুরু করে।
বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়লেও এশিয়ার কয়েকটি দেশ ও শহর বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব দেশে শুধু কীটনাশক ছিটানোর ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, রোগী ও মশার নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশে ডেঙ্গু মোকাবেলায় এখনো কেবল মশা মারার ওষুধ ছিটানোর দিকেই তুলনামূলক বেশি মনোযোগ রয়ে গেছে।
প্রতিবেশী দেশ ভারতে ডেঙ্গুর ইতিহাস আরো পুরনো। চল্লিশের দশকে দেশটিতে প্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তবে রোগটি বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ে ১৯৬৩ সালে কলকাতায়। ওই প্রাদুর্ভাবে প্রায় ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়। এরপর দীর্ঘ সময় কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতি বছরই ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা গেছে। তবে ২০১০ সালের পর থেকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশে সরকারি হিসাবে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা যখন প্রায় এক লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে, একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজারের কিছু বেশি। দুই অঞ্চলের রোগ শনাক্ত ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকলেও এ ব্যবধান দেখায়, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গ গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
কলকাতায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের পেছনে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের নীতিগত পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্যে, প্রথাগত ফগিংয়ের মাধ্যমে এডিস মশা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না—এ উপলব্ধি থেকে কর্তৃপক্ষ ধীরে ধীরে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর বেশি জোর দেয়। শহরের কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে জন্য সারা বছরই নিবিড় নজরদারি চালানো হয়। এ কাজে মাঠপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক কর্মীর পাশাপাশি ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কলকাতার কৌশলের মূল ভিত্তি হলো মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেয়া। পাশাপাশি শহরের হাসপাতাল, নার্সিং হোম ও পরীক্ষাগারগুলোতে প্রতিদিন কী ধরনের রক্ত পরীক্ষা হচ্ছে এবং কোন ভাইরাস শনাক্ত হচ্ছে, তার তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা হয়। কোথাও ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলে দ্রুত ওই এলাকা চিহ্নিত করে আশপাশের বাড়িঘর ও সম্ভাব্য প্রজননস্থলে অভিযান চালানো হয় এবং এডিসের লার্ভা ধ্বংস করা হয়। এ ধরনের সমন্বিত নজরদারি ও উৎস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই কলকাতা ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কলকাতার অভিজ্ঞতা ঢাকার জন্য অনুসরণযোগ্য বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘কলকাতা হাইকোর্ট ২০১৯ সালে ফগিং নিষিদ্ধ করেছে। এর বিপরীতে তারা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি করেছে, ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে তা অনুসরণ করে নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু মোকাবেলা করেছে। অথচ আমরা এখনো কীটনাশক কেনার দিকেই বেশি আগ্রহী। মশা মরুক বা না মরুক, এসব কেনাকাটায় দুর্নীতির সুযোগ থাকে। সরকার সত্যিকার অর্থে আন্তরিক হলে সমন্বিত পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো সম্ভব। কিন্তু কোনো সরকারই সমস্যার গোড়ায় হাত দিতে চায়নি; বরং ওষুধ কেনাকাটাতেই বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে কেনাকাটা হয়, কিন্তু ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসে না।’
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এশিয়ার সফল উদাহরণগুলোর একটি সিঙ্গাপুর। ২০২০ সালে দেশটিতে রেকর্ড ৩৫ হাজার ৩১৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। ২০২২ সালেও বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়; আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ১৭৩। এরপর পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়। ২০২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজারে নেমে আসে। আর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত নথিভুক্ত হয়েছে ২ হাজার ৪১১টি সংক্রমণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঙ্গাপুরের সাফল্যের মূল ভিত্তি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নিয়মিত নজরদারি। কর্তৃপক্ষ বাড়িঘর, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত পরিদর্শন করে। কোথাও জমে থাকা পানিতে লার্ভা পাওয়া গেলে তা ধ্বংস করা হয়; প্রয়োজন হলে আইন প্রয়োগ ও জরিমানাও করা হয়। এর পাশাপাশি মশা ও রোগীর সংখ্যা পর্যবেক্ষণ, দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্ত, জনসচেতনতা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া বহনকারী পুরুষ এডিস মশা ছেড়ে দেয়ার কর্মসূচিও চালু করেছে দেশটি। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৭০ শতাংশের বেশি কমেছে। সিঙ্গাপুরের ব্যবস্থার বিশেষত্ব হলো, তারা কোনো একটি পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেনি; প্রায় ছয় দশক ধরে প্রজননস্থল ধ্বংস, নজরদারি, আইন প্রয়োগ, জনসম্পৃক্ততা ও নতুন প্রযুক্তি সমন্বিতভাবে ব্যবহার করছে। ফলে ডেঙ্গু নির্মূল না হলেও বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব ও সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
ঢাকার মতো দ্রুত নগরায়ণের চাপ রয়েছে মালয়েশিয়াতেও। কয়েক বছর আগেও দেশটিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বেশ নাজুক ছিল। ২০২২ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৪ হাজার। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তা এক লাখ ছাড়িয়ে যায়। ২০২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা নেমে আসে প্রায় ৪৪ হাজারে। তবে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত আবার প্রায় ৫৮ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৫৫ জন।
মালয়েশিয়ার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য হলো সমন্বিতভাবে একাধিক পদ্ধতির ব্যবহার। নিয়মিত মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসের পাশাপাশি রোগী ও মশার ওপর নজরদারি চালানো হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহার এবং আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে রোগ দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার ব্যবস্থাকেও জাতীয় পরিকল্পনার অংশ করা হয়েছে।
এ ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণকেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। বাড়িঘর ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করা হয়। ২০২৩ সালে স্বেচ্ছাসেবী ও বিভিন্ন সংস্থাকে যুক্ত করে দেশজুড়ে বড় পরিসরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছিল। পাশাপাশি মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগও রয়েছে। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব হিসেবে না দেখে স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও জনগণকে একই ব্যবস্থার অংশ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালয়েশিয়া উলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়া বহনকারী এডিস মশা ব্যবহারের কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির ২৮টি এলাকায় এ কর্মসূচি চালু ছিল। যেসব এলাকায় অন্তত দুই বছর ধরে কর্মসূচি চলেছে, সেখানে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মশা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতেই মৌলিক দুর্বলতা রয়েছে বলে মনে করেন গবেষকরা। তাদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর সময় হলো যখন এর ঘনত্ব কম থাকে। কিন্তু ঢাকায় সাধারণত মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার পরই মোবাইল কোর্ট, বিশেষ অভিযানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি জোরদার করা হয়। ফলে এসব উদ্যোগে সাময়িক কিছু প্রভাব পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ফল পাওয়া যায় না।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মশা নিয়ন্ত্রণে প্রথমেই চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথায় মশার ঘনত্ব বেশি, কোন প্রজাতির মশার উপদ্রব বেশি এবং কোন ওষুধ কত মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে—এসব তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। মশার অতিরিক্ত প্রজনন ঠেকাতে জলাশয়ে মাছ ও হাঁস ছাড়ার মতো জৈবিক পদ্ধতিও ব্যবহার করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী রাসায়নিক ওষুধ প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। এ ধরনের সমন্বিত পদ্ধতি অনুসরণ করেই কলকাতাসহ বিভিন্ন দেশ ও শহর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তুলনামূলক ভালো ফল পেয়েছে।’
এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ডেঙ্গুর পরিস্থিতি এ মুহূর্তে মেলানো কঠিন বলে মনে করেন ডা. কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য দেশে ডেঙ্গু রোগীর প্রকৃত সংখ্যার কাছাকাছি তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা মূলত নির্ধারিত কয়েকটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর হিসাবই জানি। বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে অন্য দেশের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করলে সঠিক চিত্র পাওয়া যায় না। যেমন মালয়েশিয়া যদি বলে তাদের ডেঙ্গু রোগী ৫০ হাজার, সেটি প্রকৃত সংখ্যার কাছাকাছি। কিন্তু বাংলাদেশে ৫০ হাজার রোগী দেখানো হলে বাস্তব সংখ্যা এর দুই-তিন গুণও হতে পারে। আমাদের এখানে এখনো প্রকৃত চিত্র উঠে আসছে না।’
বাংলাদেশের পরিবেশগত বাস্তবতার সঙ্গে কলকাতা বা সিঙ্গাপুরের পরিস্থিতির সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না বলে মনে করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হাসান সিদ্দিকী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল, বিল, নদী-নালা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বৃষ্টিপ্রবণ হওয়ায় এখানে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলকভাবে বেশি জটিল। তাই কলকাতা বা অন্য কোনো শহরের মডেল হুবহু অনুসরণ করলেই একই ফল পাওয়া যাবে—এমনটা ভাবা ঠিক নয়। ঢাকায় সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি জনগণেরও বড় ভূমিকা আছে। কলকাতার সাফল্যের অন্যতম কারণ ছিল জনসম্পৃক্ততা। কিন্তু ঢাকায় সে মাত্রার অংশগ্রহণ এখনো দেখা যায় না। মানুষও যথেষ্ট সচেতন নয়। প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ জায়গা থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন না হলে শুধু সরকার বা মশক কর্মীদের পক্ষে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।’
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা মশক নিয়ন্ত্রণে ফগিং ও লার্ভিসাইড প্রয়োগ করি। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। এর পরও কোনো বাসা বা প্রতিষ্ঠানে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলে জরিমানা করা হয়। বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী মশক নিয়ন্ত্রণে আমাদের করণীয় নির্ধারণ করা হয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *