
আকস্মিক ঝড়ে বাড়িঘর লণ্ডভণ্ড
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
দাম বাড়িয়ে জনগণের রক্ত-ঘামের টাকা শোষণ করা হচ্ছে: সারজিস আলম
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬গবেষকরা জানিয়েছেন, কারখানার ভেতরের তাপমাত্রা প্রায়ই বাইরের তাপমাত্রার চেয়ে বেশি থাকে। ঢাকার আটটি কারখানায় ছয় মাস ধরে তাপমাত্রা পরিমাপের তথ্যের ভিত্তিতে তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। কারখানাগুলোর আয়রনিং ও ফিনিশিং বিভাগে কাজ করা কর্মীরা চরম তাপের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পোশাক উৎপাদনকেন্দ্রগুলোয় ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে কর্মীদের স্বাস্থ্য ও উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ। গতকাল প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শ্রমিকদের অতিরিক্ত তাপজনিত চাপ কমাতে শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করলে কারখানার মালিক ও তাদের সরবরাহকারী ব্র্যান্ডগুলোর জন্য আর্থিকভাবে লাভজনক হবে। খবর রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কারখানাগুলোয় তাপ প্রতিফলনকারী রঙ, ছাদে তাপ নিরোধক এবং বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করার মতো শীতলীকরণে বিনিয়োগ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক। এসব বিনিয়োগের খরচ চার বছরের মধ্যে উঠে আসবে। কর্মীদের জন্য তাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে যেসব সরবরাহকারী বিনিয়োগ করবে, তাদের পণ্যের দাম না কমিয়ে ব্র্যান্ডগুলোকে ওই খরচের একটি অংশ বহনের আহ্বান জানিয়েছে গবেষণাটি।
গবেষকরা জানিয়েছেন, কারখানার ভেতরের তাপমাত্রা প্রায়ই বাইরের তাপমাত্রার চেয়ে বেশি থাকে। ঢাকার আটটি কারখানায় ছয় মাস ধরে তাপমাত্রা পরিমাপের তথ্যের ভিত্তিতে তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। কারখানাগুলোর আয়রনিং ও ফিনিশিং বিভাগে কাজ করা কর্মীরা চরম তাপের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
অতিরিক্ত তাপজনিত চাপের কারণে এসব কারখানার বার্ষিক আয় গড়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এর ফলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো আর্থিক ঝুঁকিতে পড়ছে।
গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জেসন জাড বলেন, ‘ক্রেতা ও সরবরাহকারী উভয় পক্ষকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পরিসর সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছে প্রতিবেদনটি। আপনি যদি শীতলীকরণে বিনিয়োগের কথা ভাবেন, কিন্তু কত অর্থ খরচ হচ্ছে তা না জানেন, তাহলে সিদ্ধান্ত নেয়া খুব কঠিন।’
জাড বলেন, গত এক বছরে গবেষকদের সঙ্গে আলোচনায় পোশাক ব্র্যান্ডগুলো কারখানায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যয়ের অর্থ ফেরত আসতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ব্র্যান্ডগুলো তাদের উৎপাদনকারীদের সঙ্গে নিঃসরণ কমানোর খরচ, গ্রিনহাউজ গ্যাস (জিএইচজি) নির্গমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং বিকল্প জ্বালানির উৎস চিহ্নিত করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিন বছর আগে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বন্যার কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের পোশাক রফতানি আয় থেকে ৬৫ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত হারিয়ে যেতে পারে।
পোশাকশিল্পের সরবরাহ চেইনজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে। তবে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো অভিযোজনের জন্য কতটা অর্থ ব্যয় করছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
গত সপ্তাহে আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন (এএএফএ) চরম তাপমাত্রা থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষায় একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।
বাণিজ্য সংগঠনটি বলেছে, কোনো বিনিয়োগ থেকে উৎপাদনকারীর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক লাভ না এলে এককভাবে সেই ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে যৌক্তিক নাও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সহনশীলতা বাড়ানোর পদক্ষেপের খরচে ব্র্যান্ডগুলোর অংশ নেয়া উচিত।
এএএফএর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট নেট হারম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে চরম তাপমাত্রা ক্রমেই সাধারণ বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। আমাদের সরবরাহ শৃঙ্খলের মূল ভিত্তি যেসব শ্রমিক, তাদের সুরক্ষায় শিল্পকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে।’


