আবেদনের ৯৯ শতাংশই ই-পাসপোর্ট, বন্ধ হচ্ছে এমআরপি
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
সাভারে পুলিশকে পিটিয়ে হত্যায় প্রধান আসামির ৫ দিনের রিমান্ড
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
আবেদনের ৯৯ শতাংশই ই-পাসপোর্ট, বন্ধ হচ্ছে এমআরপি
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
সাভারে পুলিশকে পিটিয়ে হত্যায় প্রধান আসামির ৫ দিনের রিমান্ড
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড ২০০ রোগীর বিপরীতে একজন ডাক্তার, দুজন নার্স

অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান ডেঙ্গু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত এক নার্স। পরিস্থিতি বোঝাতে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে এক রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে নেয়া প্রয়োজন।
গত শুক্রবার রাত থেকে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি টিকাটুলীর বাসিন্দা আবু জাফর। চারদিনের চিকিৎসায় তিনি এখন বিপদমুক্ত। তবে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে তার। ৫৫ বছর বয়সী আবু জাফর বলেন, ‘এখানে প্রায় ২০০ রোগী চিকিৎসাধীন। অথচ তাদের জন্য রয়েছে মাত্র চারটি ওয়াশরুম। অতিরিক্ত রোগীর চাপে ওয়াশরুমগুলোর অবস্থাও খুবই খারাপ।’
আগস্টের শেষ থেকে গতকাল পর্যন্ত মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনের বেশি নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। রোস্টার অনুযায়ী সকালের শিফটে তুলনামূলক বেশি চিকিৎসক ও নার্স দায়িত্ব পালন করলেও দুপুর ও রাতের শিফটে প্রায় ২০০ রোগীর জন্য থাকছেন মাত্র একজন চিকিৎসক ও দুজন নার্স। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল সংকটের কারণে রোগীর এ চাপ সামাল দেয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।
সরজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর চাপে ঠাসা ডেঙ্গু ওয়ার্ড। নির্ধারিত শয্যা মাত্র ৪০টি হলেও গতকাল সেখানে চিকিৎসাধীন ছিল ১৯০ জন। ফলে শয্যা না পাওয়া দেড় শতাধিক রোগী মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই ওয়ার্ডটিতে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। গতকাল ভর্তি ছিল ১৯০ জন। ৬ সেপ্টেম্বর ২০০ জন, ৫ সেপ্টেম্বর ১৯২, ৪ সেপ্টেম্বর ১৭৯, ৩ সেপ্টেম্বর ১৮০, ২ সেপ্টেম্বর ১৮০ ও ১ সেপ্টেম্বর ১৭৭ জন চিকিৎসাধীন ছিল।
একই সময়ে প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে। গতকাল নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৪৫ জন। আগের দিন ৬ সেপ্টেম্বর ৬৬ জন, ৫ সেপ্টেম্বর ৩৬, ৪ সেপ্টেম্বর ৬৯, ৩ সেপ্টেম্বর ৫২, ২ সেপ্টেম্বর ৪১ ও ১ সেপ্টেম্বর ৪৭ জন ভর্তি হয়।
খিলগাঁওয়ের একটি পোশাক কারখানার কর্মী সাবানা (৩৮) জানান, প্রায় এক মাস ধরে জ্বরে ভোগার পর অবস্থার অবনতি হলে তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে কিছুটা সুস্থতার পথে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এত রোগীর মধ্যে টয়লেট মাত্র চারটি। নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট থাকলেও রোগীর অতিরিক্ত চাপে সেটি সেভাবে মানা যাচ্ছে না। সবসময়ই সিরিয়াল থাকে। এতে নারীদের ভোগান্তিই বেশি হচ্ছে। ওয়াশরুমগুলোও ব্যবহার উপযোগী নয়।’
অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান ডেঙ্গু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত এক নার্স। পরিস্থিতি বোঝাতে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে এক রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে নেয়া প্রয়োজন। একই সময়ে আরো কয়েকজন গুরুতর রোগীর স্বজন আমাকে ডাকছেন। এখন আমি কোন দিকে যাব? রোগী এত বেশি হলে সব প্রটোকল মেনে সেবা দেয়া সম্ভব হয় না।’
ডেঙ্গু রোগীদের মশারির মধ্যে থাকার নিয়ম থাকলেও গতকাল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সরজমিনে দেখা যায়, মাত্র একজন রোগীর শয্যায় মশারি টানানো ছিল। বাকি রোগীরা ছিল মশারি ছাড়াই। এ বিষয়ে রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতাল থেকে মশারি দেয়া হলেও তা ব্যবহারে কড়াকড়ি নেই। রোগী ও স্বজনদের মধ্যেও এ নিয়ে গাফিলতি রয়েছে। ফলে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় মশারি ব্যবহারের নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না।
কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালের শিফটে রোগীর চাপ তুলনামূলক বেশি থাকায় তিন-চারজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় দুজন নার্স ও দুজন ইন্টার্ন চিকিৎসকও দায়িত্বে থাকেন। তবে বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা এবং রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করেন মাত্র একজন চিকিৎসক ও দুজন নার্স। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে তাদের নির্ধারিত সময়ের বাইরেও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে ডেঙ্গু ওয়ার্ডের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে চিকিৎসক ও নার্স সংকটের কারণে তা বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ রোগীর চাপ রয়েছে। তাই অনেক রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সেরও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। তবে লজিস্টিক সাপোর্ট পর্যাপ্ত আছে। আমরা আরো একটি ফ্লোর ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বরাদ্দের চেষ্টা করছি। কিন্তু চিকিৎসক ও নার্স সংকটের কারণে সেটি এখনো সম্ভব হচ্ছে না।’
রোগীদের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতির কথাও জানান তিনি। ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রতিটি রোগীকেই একটি করে মশারি দিই। কিন্তু বেশির ভাগ রোগীই মশারি টানান না। এতে রোগীর স্বজনদের পাশাপাশি আমাদের চিকিৎসক ও নার্সদেরও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আমরা বারবার বলার পরও অনেকেই এ বিষয়ে উদাসীন থাকেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *