
মেসির সম্মানে ম্যাচের ১০ম মিনিটে থামবে খেলা, বাজবে করতালি
সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬
সিঙ্গাপুর থেকে আরো চার কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন
সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।’
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে আরো দুটি নতুন রিগ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সেলিনা সুলতানার (৩৩৫ মহিলা আসন-৩৫) এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল। খবর বাসস।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তৈরি করা পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান বা আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট। দেশকে এর থেকে বের করে আনার জন্য বর্তমান সরকার কতগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
সরকারের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খনন/ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপ খনন এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান সাতটি কূপ খনন শেষ হলে আরো ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপগুলো খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার টুডি (দ্বিমাত্রিক) সিসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার থ্রিডি (ত্রিমাত্রিক) সিসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বাপেক্সকে শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে আরো দুটি নতুন রিগ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
‘অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। এছাড়া অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অফশোর এবং অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ: কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেগোসিয়েশন চলমান রয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৮ সালে ওই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (গ্যাস) সরবরাহ করা সম্ভব হবে মর্মে আশা করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরো ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে। এছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন দু-একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন হলে সামগ্রিকভাবে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।’
সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে আর্থিক প্রণোদনাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সৌর প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারিসহ প্রয়োজনীয় সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামকে শর্তসাপেক্ষে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, অগ্রিম কর এবং অতিরিক্ত ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী ছয় মাসের মধ্যে স্থাপিত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ১৫ পয়সা দরে কিনবে। এর অর্থ হলো, সরকার বাল্ক রেটের পাশাপাশি একটি প্রণোদনাও দেবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় খরচ ৬-৭ টাকা হিসাবে এ ব্যবস্থায় ৪০ শতাংশ মুনাফা ও ৫ শতাংশ প্রিমিয়ামসহ সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত লাভের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ প্রণোদনা তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।’
ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল হাসানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে ৯২টি বা এমনকি ২০০-৩০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, এমন প্রতিবেদন নাকচ করেছেন।
উত্তরে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সংখ্যাগুলো সঠিক নয় উল্লেখ করে বলেন, ‘আপনি যদি একটু বেশি তথ্য নিতেন, তাহলে দেখতেন—আপনি যে ৯৫টি কারখানা বন্ধের কথা বলেছেন, সেই তথ্যের সূত্র যারা ব্যবহার করেছিলেন, তারা পরের দিনই দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, তাদের তথ্য সম্পূর্ণ ভুল ছিল।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনটিতে সম্ভবত ২০২২ সালের কোনো পুরনো সংবাদ বা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে ওই প্রতিবেদন প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।’


