
নির্বাচনী ইশতাহারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ৪২২ প্রকল্প পুনর্গঠন চায় সরকার
আগস্ট ২৮, ২০২৬
বঙ্গভবনের প্রথম দরবারে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব
আগস্ট ২৮, ২০২৬ঢাকা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনাল এলাকা পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে।
৫৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৯ সালে। তবে নির্মাণকাজ শুরুর পর পুরনো দুই লেনের সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, বর্ষার পানি জমে জলাবদ্ধতা আর শুকনো সময়ে চারদিক ধূসর ধুলায় ঢেকে যায়। ধীরগতিতে চলে যানবাহন। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় থেকে শুরু করে পথচারী ও দূরপাল্লাগামী যাত্রী এবং পরিবহনচালকরা।
সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায়ও নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এ সময় তিনি চলাচলে জনদুর্ভোগ নিয়ন্ত্রণে ও দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর এমন নির্দেশনার পরও কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলমান থাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির সময় এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আবার বৃষ্টি থামার পর সড়কে জমে থাকা ধুলা যানবাহন চলাচলের সময় বাতাসে উড়তে থাকে। নিয়মিত ও সঠিকভাবে পানি না ছিটানোয় ধুলার মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।
পরিবেশবাদীরা জানান, দূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বয়হীতা রয়েছে। চার লেন সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তা মানছে না। এতে ধুলা দূষণে রোগবালাই থেকে শুরু করে পোশাক-পরিচ্ছদ, আসবাব, বাসাবাড়ি, খাবারদাবার সব কিছুতেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এ সড়কে চলাচলকারী ও দুই পাশের বাসিন্দারা।
সড়কের পথচারী ও বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন ধুলার মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। এতে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষ বেশি সমস্যায় পড়ছে।
জকসিন, মান্দারী, জেলা কারাগারসংলগ্ন এলাকা ও শহরের বাগবাড়ী সড়কের পাশের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, নির্মাণাধীন সড়কে কখনই পানি ছিটাতে দেখেননি তারা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে খাবারদাবার, মালপত্রসহ আসবাব ধুলাবালিতে একাকার হয়ে নষ্ট হচ্ছে। এতে বেচাবিক্রিতে চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা। একই পরিস্থিতি মহাসড়কের দুইপাশের বাসাবাড়িগুলোতেও।
শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, বেহাল সড়কের প্রভাব পড়েছে যান চলাচলেও। বড় বড় গর্তে পড়ে প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। কোথাও কোথাও যানবাহন বিকল হয়ে সড়কের ওপর পড়ে থাকছে। এতে যানজটের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরুপ পাল বণিক বার্তাকে ধুলাবালিযুক্ত সড়কে যাতায়াতে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নির্মাণাধীন সড়কে নিয়মিত পানি ছিটানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থেকে মান্দারী পর্যন্ত প্রায় নয় কিলোমিটার চার লেন নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড বিল্ডার্সের প্রকল্প ব্যবস্থাপক এমডি ইউছুফ। তিনি জানান, দুটি পানির ট্যাঙ্কবাহী গাড়ি নিয়ম করে সড়কে পানি ছিটানোর কাজ করছে। তবে পুরনো সড়ক মেরামতের কাজ ওয়ার্ক অর্ডারে ধরা নেই। তবু যতটুকু সম্ভব চলাচলের সুবিধার্থে করা হচ্ছে। তবে সরজমিনে কোথাও পুরো সড়কে পানি ছিটানোর কোনো ট্যাঙ্কবাহী গাড়ি দেখা যায়নি।
অন্যদিকে সড়ক বিভাগ বলছে, নির্মাণকাজ চললেও যানবাহন চলাচলের উপযোগী সড়ক ব্যবস্থাপনা, ধুলা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত তাগাদা দেয়া হচ্ছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত ও জনদুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন নোয়াখালী উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান উল্যা মজুমদার।
, ‘চার লেন নির্মাণকাজে যেখানে প্রয়োজন সেখানে পানি ছিটাতে হয়। তবে গর্তগুলো ঠিকাদারদের দিয়েই সংস্কারের কাজ করানো হচ্ছে।’


