
একনেকে অনুমোদন ক্ষতিগ্রস্ত ৫ হাজার ২২৩ কিলোমিটার সড়ক মেরামতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ
আগস্ট ২০, ২০২৬
সিসিইএর বৈঠকে অনুমোদন স্পট মার্কেট থেকে আরো ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার
আগস্ট ২০, ২০২৬
চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও কমছে না লোডশেডিং।
স্থানীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। তবে চট্টগ্রামে চাহিদার তুলনায় ১০০-২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘাটতি থাকছে। এতে নগরী ও উপজেলার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলগুলোতেও বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বন্ধ রাখতে হচ্ছে কারখানার উৎপাদন। এতে বাড়ছে জেনারেটর ও জ্বালানি খরচ। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ঘাটতি না থাকলেও সরবরাহ সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ গ্রাহকের।
তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি ২৮টি পাওয়ার প্লান্ট, পিকিং প্লান্ট, আইপি বা নবায়নযোগ্য শক্তির প্লান্টের মধ্যে গড়ে তিন থেকে পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতিদিন নানা সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকে। বাকি কেন্দ্রগুলো থেকে গড়ে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। তবে চট্টগ্রাম শিল্পঘন অঞ্চল হওয়ার পরও এখানে গড়ে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৩০ থেকে ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ঘাটতি না থাকলেও উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি বড় অংশ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। ফলে চট্টগ্রামের নিজস্ব চাহিদার তুলনায় ১৫০-২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘাটতি থাকছে। এতে এ অঞ্চলে বারবার লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামের বাঁশখালী এসএস পাওয়ার বা মাতারবাড়ী প্লান্টের মতো বড় কেন্দ্রগুলো থেকে যে হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, তার পুরোটাই চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ থাকে না। সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে এ বিদ্যুৎ যুক্ত হয়ে ঢাকা, কুমিল্লাসহ দেশের অন্যান্য উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন এলাকায় চলে যায়। ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বিদ্যুতের সরবরাহ ঠিক রাখতে চট্টগ্রামের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকায় বারবার লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
এ প্রসঙ্গে পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী (বিতরণ) দক্ষিণাঞ্চল মো. কামাল উদ্দিন বণিক বার্তাকে জানান, এলএনজি টার্মিনালের কারণে গ্যাসের বেশ সংকট চলে এসেছে। তার পরও আমাদের সরকারি বা বেসরকারি বিদ্যুৎ উন্নয়ন কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশ ভালোই আছে। তবে আমাদের গড়ে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা থাকে। কিন্তু জাতীয় গ্রিডে ১০০-২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। যার কারণে রোটেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করতে হচ্ছে। গ্যাসের সংকট কেটে গেলে হয়তো বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি কমে আসবে, তখন লোডশেডিং কমে আসবে।
শিল্পোদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে এখন দিনে কয়েক দফা বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হচ্ছে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চালু থাকা মেশিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ ফিরে আসার পরও মেশিনগুলো স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে সময় লাগছে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদন শেষ করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে কারখানার শ্রমিক ও মেশিনের কর্মঘণ্টাও নষ্ট হচ্ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন চালু রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে জ্বালানি খরচ।
উদ্যোক্তারা আরো জানান, একদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি, অন্যদিকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এভাবে লোডশেডিং চলতে থাকলে উৎপাদন ব্যয় আরো বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহে জটিলতা তৈরি হবে। তাই শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে এইচএম স্টিলের পরিচালক মোহাম্মদ সরওয়ার আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে খুবই বিপদে আছি। তিন সপ্তাহ আগে থেকে মাতারবাড়ীতে এলএনজি টার্মিনালে গ্যাসের সংকটের কারণে কারখানাতে উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে। কিন্তু কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন কমে আসছে। প্রতিদিনের যে লক্ষ্যমাত্রা আছে সেটিও পূরণ হচ্ছে না। অন্যদিকে ৪ ঘণ্টার কাজ ৮ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি গ্যাসের চাপ কম থাকায় আমাদের চুল্লিতে যে তাপমাত্রা দরকার সেটা পাচ্ছি না। কিন্তু বিল তো ঠিকই বেশি আসছে। এভাবে কারখানা চালাতে গিয়ে প্রডাকশন প্রাইস বেড়ে যাচ্ছে।’
এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ। নগরীর বাইরে উপজেলা ও গ্রামে প্রতিদিনই গড়ে ৭-৮ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন তারা। দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর বাসিন্দা মো. সাদ্দাম হোসেন বণিক বার্তাকে জানান, কয়েকদিন ধরেই বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার মধ্যে আছে। দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। বিশেষ করে কয়েকদিন আগে বন্যার সময় থেকে এ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যাটা শুরু হয়েছে। এখন তো একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে কখন আসবে তার কোনো ঠিক নেই। এতে বাসাবাড়ির পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে দোকানপাট ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম
ব্যাহত হচ্ছে।


