
সামিট-এক্সিলারেট এলএনজি টার্মিনাল চালু, বেড়েছে গ্যাস সরবরাহ
আগস্ট ১৬, ২০২৬
ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে, আর হারিকেন নিয়ে বলছে-গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে: প্রধানমন্ত্রী
আগস্ট ১৬, ২০২৬দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯০২। এর মধ্যে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৮০৩ জন।
আর নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৯৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ঢাকায় ছয় আর সিলেটে মারা গেছে দুজন। এ সময় ৭২৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকার গত ৫ এপ্রিল জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। প্রথম ধাপে ১৮ জেলার ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকা দেয়া হয়। পরে ১২ এপ্রিল চারটি সিটি করপোরেশন এবং ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়। জাতীয় পর্যায়ের এ কর্মসূচিতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ৯ মে পর্যন্ত দেশের ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ। তবে এরপরও নিয়ন্ত্রণে আসেনি হাম পরিস্থিতি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতিতে হাম নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে রয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে বয়সভিত্তিক ক্যাচ-আপ টিকাদানের আওতায় আনতে হবে। সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার পাশাপাশি পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদেরও প্রয়োজন অনুযায়ী টিকার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি। টিকাদানের আওতা ৯৫ শতাংশের ওপরে নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোন এলাকায় কতসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে রয়েছে, তা দ্রুত চিহ্নিত করে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হলে হাম সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
দেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে হামের টিকাদানের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৯৫ শতাংশ অর্জিত হওয়ার ঘোষণা দেয়া হলেও এখনো একটি বড় সংখ্যক শিশু এ কর্মসূচির বাইরে রয়ে গেছে। একই সঙ্গে পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের মধ্যেও হামে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে টিকাদানের বয়সসীমা পাঁচ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১২ বছর করার পাশাপাশি প্রজননক্ষম নারী ও মায়েদেরও এ টিকার আওতায় আনা প্রয়োজন। কারণ যেসব মা টিকা পাননি, তাদের গর্ভজাত সন্তানের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে হামের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় না।’
তিনি আরো বলেন, শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পানে উৎসাহিত করা এবং ঘরে ঘরে সহজলভ্য পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবারের বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানো প্রয়োজন। এছাড়া টিকাদানের পর কত শতাংশ মানুষের দেহে কার্যকর প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে কিনা তা জানতে গবেষণার ওপর জোর দেন দিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ মাসে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৭৬ জনে। এ সময় দেশে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৮০০ জনে। এছাড়া গত পাঁচ মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৯৪ জন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭০০ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৪৯ জন।
পাঁচ মাসে হাম ও সন্দেহজনক হামে মৃত্যুতে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ (৪১৪)। এরপর যথাক্রমে সিলেট ১৩৫, রাজশাহী ৯৪, ময়মনসিংহ ৭৪, চট্টগ্রাম ৭৩, বরিশাল ৬৬, খুলনা ৩২ ও রংপুরে ১৪ জন মারা গেছে।
এদিকে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে হাম পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবং পাঁচ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের টিকাদান কার্যক্রমের বাইরে রাখায় সংক্রমণ বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ছে। কারণ লক্ষ্যমাত্রার ৯৫ শতাংশ কাভারেজ নিশ্চিত না হলে এ সংক্রমণ বহাল থাকবে।’
হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার চেয়ে কমিউনিটি সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু হাসপাতালের দ্বিতীয় পর্যায়ের চিকিৎসায় জোর না দিয়ে কমিউনিটি পর্যায়ে জ্বরের রোগীদের দ্রুত আইসোলেশন ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি, যা আইসিইউ খরচের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী। এ বিশাল কর্মযজ্ঞে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ভলান্টিয়ার হিসেবে যুক্ত করা এবং এনজিওগুলোর সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় গড়ে তোলা এবং জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’


