সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনায় বর্তমান জ্বালানি সংকট
আগস্ট ৬, ২০২৬
বাংলাদেশ কখনো নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না —পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আগস্ট ৬, ২০২৬
সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনায় বর্তমান জ্বালানি সংকট
আগস্ট ৬, ২০২৬
বাংলাদেশ কখনো নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না —পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আগস্ট ৬, ২০২৬

চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী হিটলার-মুসোলিনি সম্পদ লুট করেননি, শেখ হাসিনার আমলে তা হয়েছে

পৃথিবীর নিষ্ঠুর ফ্যাসিস্ট ও নাৎসিরা জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকলেও শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, ‘‌হিটলার ও মুসোলিনি নিজেদের দেশের সম্পদ লুটপাট করেননি; কিন্তু শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের সম্পদ লুণ্ঠন ও বিদেশে অর্থ পাচার হয়েছে। হাসিনা হিটলার-মুসোলিনির চেয়েও নিকৃষ্ট ফ্যাসিস্ট।’

গতকাল রাজধানীর গুলশানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরের আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘‌নাৎসি হিটলার ও মুসোলিনির মতো ফ্যাসিস্টরা এথনিক ক্লিনজিং বা জাতিগত নিপীড়নের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। তবে তারা নিজেদের জাতিকে পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু হিটলার বা মুসোলিনি শেখ হাসিনার মতো টাকা পাচার করেনি, ব্যাংকের টাকা লুট করেনি, শেয়ারবাজার লুণ্ঠন করেনি, কিংবা সরকারি জমি দখল করেনি।‘

তার ভাষায়, তারা ভয়ংকর খুনি ও ফ্যাসিস্ট হলেও নিজ দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল। অন্যদিকে শেখ হাসিনার মূল এজেন্ডা ছিল গোটা জাতিকে লুণ্ঠন করে নিজের আত্মীয়-স্বজনকে বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করা। এ কারণেই শেখ হাসিনা ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট।

তিনি আরো বলেন, ‘‌রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের এক বিশেষ চোরাপথে দেশে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়েছিল। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তারা জনগণের রক্ত ঝরাতে দ্বিধা করেনি। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘‌এটি ছিল অত্যাচারীর বিরুদ্ধে জনগণের সুপ্ত শক্তির এক পারমাণবিক বিস্ফোরণ। তার দাবি, জনগণের সেই শক্তি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েই শেখ হাসিনা ধারাবাহিকভাবে”ভুয়া ও পাতানো নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছিলেন।’

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে বক্তব্যের সুযোগ দেয়ার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘‌এটি ভারত সরকারের দ্বিমুখী নীতির পরিচয়। অন্য দেশের একজন পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে বক্তব্যের সুযোগ দেয়া গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি ভারতের এ অবস্থানের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘‌ভারত এমন আচরণ করছে যেন কোনো ব্যক্তি ভারতপন্থী হলেই তার সব অপরাধ ক্ষমাযোগ্য।’

রিজভী বলেন, ‘‌গণতন্ত্রের লড়াই, কথা বলার স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে চূড়ান্ত গণতান্ত্রিক প্রত্যয়—সেই প্রত্যয় বাস্তবায়নে সমাজের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ যেভাবে অতীতে অংশ নিয়েছে। ভবিষ্যতেও অংশ নিতে দ্বিধা করবে না।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *