
এশিয়ায় কফির দাম স্থিতিশীল, বিশ্ববাজারে কোকো ও চিনি ঊর্ধ্বমুখী
আগস্ট ৩, ২০২৬
মরচুয়ারি ভ্যানের স্বল্পতা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মৃতদেহ সংরক্ষণ ও পরিবহনে তৈরি হয় তীব্র সংকট
আগস্ট ৪, ২০২৬দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংক্রমণের পাশাপাশি বাড়ছে শিশুমৃত্যুও। নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তাদের মধ্যে তিনজন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। ভাইরাসজনিত সংক্রামক এ রোগে নতুন করে ১ হাজার ১৩৭ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের আওতায় ঘাটতি, দেরিতে হাসপাতালে আসা, অপুষ্টিসহ বিভিন্ন কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) একটি অনুসন্ধান বলছে, তিন থেকে আট মাস বয়সী শিশুরা হামের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭৪৮ শিশু। এছাড়া পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হামে আরো ৯৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে চলমান প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪৪।
একই সময়ে সংক্রমণও বাড়ছে। গত শনিবার সকাল থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে ১১৫ শিশুর দেহে হামের জীবাণু পাওয়া যায়। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২৯৫। এছাড়া নতুন করে আরো ১ হাজার ২২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। নিশ্চিত শনাক্ত রোগীদের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১৩৭। আর চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ পাওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৩-তে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সংক্রমণের চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে হাসপাতালগুলোয়। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৬২০ শিশু। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৮ হাজার ২৮৩ জন। বাকিরা এখনো দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হলেও সময়মতো টিকা নিলে এটি কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু যেসব শিশু নির্ধারিত সময়ে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা পায়নি কিংবা অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের মধ্যে রোগটি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করছে। নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিতের পাশাপাশি জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া ও শরীরে লালচে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
in
টিকা নেয়ার বয়স না হওয়া শিশুরাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে: বাংলাদেশে চলমান হামের বড় প্রাদুর্ভাবের জন্য ভাইরাসে এমন কোনো জিনগত পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা বর্তমানে ব্যবহৃত হাম-রুবেলা টিকার সুরক্ষা অকার্যকর করে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) এক অনুসন্ধানে তা জানা যায়। প্রাদুর্ভাবের ব্যাপকতার কারণে টিকার কার্যকারিতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, এ অনুসন্ধানের ফল তা সমর্থন করে না। তবে নিয়মিত টিকা নেয়ার বয়স হয়নি, অর্থাৎ নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা এ প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
গবেষকদের মতে, বর্তমানে দেশে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শনাক্ত হওয়া বি৩ জিনোটাইপের সঙ্গে মিল রয়েছে এবং এ পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি যে ভাইরাসটি টিকার সুরক্ষা এড়িয়ে যাচ্ছে। চলমান প্রাদুর্ভাবের ব্যাপকতা দেখে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছিল, হাম ভাইরাসে এমন কোনো জিনগত পরিবর্তন ঘটেছে কিনা যার কারণে প্রচলিত টিকার কার্যকারিতা কমে গেছে।
আইসিডিডিআর,বি এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের গবেষকরা গত ২০ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়া ১৪ বছরের কম বয়সী ৩৪১ সন্দেহভাজন শিশুকে নিয়ে অনুসন্ধান চালান। তাদের মধ্যে ৩২৪ জনের হাম পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিন থেকে আট মাস বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। এ বয়সী ১৪১ শিশুর মধ্যে ১৩৭ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
গবেষণায় আরো দেখা গেছে, নিয়মিত টিকা দেয়ার বয়স হয়নি—এমন নয় মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের, অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়। টিকা নেয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জন বা ৯৭ শতাংশের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এক ডোজ টিকা পাওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জনের এবং দুই ডোজ টিকা পাওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের পরীক্ষায় হাম ধরা পড়েছে।
তবে গবেষকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এ তথ্য থেকে কোনোভাবেই জনসংখ্যা পর্যায়ে টিকার কার্যকারিতা নির্ধারণ করা যাবে না। কারণ অনুসন্ধানটি শুধু হাসপাতালে ভর্তি সন্দেহভাজন রোগীদের ওপর পরিচালিত হয়েছে। ফলে দুই ডোজ টিকা নেয়া সব শিশুর ৭৬ শতাংশ হামে আক্রান্ত হচ্ছে—এমন ব্যাখ্যা সঠিক নয়।
আইসিডিডিআর,বির সংক্রামক রোগ বিভাগের ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির সহযোগী বিজ্ঞানী ডা. নূরজাহান মালিহা জানান, চলমান প্রাদুর্ভাবের কারণে মানুষের মধ্যে টিকার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে তাদের অনুসন্ধানে ভাইরাসটি টিকার সুরক্ষা এড়িয়ে যাচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে পরীক্ষায় হাম শনাক্তের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে জনসংখ্যা পর্যায়ে টিকার কার্যকারিতা নির্ধারণে আরো বড় পরিসরের গবেষণা প্রয়োজন।


