সাতক্ষীরায় জিরার দাম ক‌মে‌ছে
আগস্ট ৩, ২০২৬
হামে থামছে না শিশুমৃত্যু, নতুন করে আরো চার প্রাণহানি
আগস্ট ৩, ২০২৬
সাতক্ষীরায় জিরার দাম ক‌মে‌ছে
আগস্ট ৩, ২০২৬
হামে থামছে না শিশুমৃত্যু, নতুন করে আরো চার প্রাণহানি
আগস্ট ৩, ২০২৬

এশিয়ায় কফির দাম স্থিতিশীল, বিশ্ববাজারে কোকো ও চিনি ঊর্ধ্বমুখী

এশিয়ার কফি বাজারে লেনদেন কিছুটা ধীরগতির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ ভিয়েতনামে মৌসুম শেষ হওয়ায় স্থানীয় বাজারে কফির দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

তবে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের উদ্বেগে কোকো ও চিনির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিজনেস রেকর্ডারের বাজার বিশ্লেষণসংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভিয়েতনামে রোবাস্তা জাতের কফি প্রধানত মধ্যবর্তী পার্বত্য অঞ্চল সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডস এলাকায় চাষ হয়। বর্তমানে সেখানে কফি মজুদ কমে এসেছে। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কিছুটা কম থাকায় লেনদেনের গতি কমে গেছে। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কফি প্রায় ৩ ডলার ৬৫ থেকে ৩ ডলার ৬৭ সেন্টে (৯৬ হাজার থেকে সাড়ে ৯৬ হাজার ডং) বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহেও দাম ছিল ৯৬ হাজার ৪০০ থেকে ৯৭ হাজার ডং।

আন্তর্জাতিক বাজারে সেপ্টেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে নির্ধারিত রোবাস্তা কফির দাম ১ শতাংশ বা ১১০ ডলার কমে প্রতি টন ৩ হাজার ৭৪৯ ডলারে নেমেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারের প্রভাবের কারণেই স্থানীয় বাজারে দাম কমেছে। অধিকাংশ কৃষক এরই মধ্যে তাদের উৎপাদিত কফি বিক্রি করে দিয়েছেন। কেবল যাদের নতুন মৌসুমের জন্য তাৎক্ষণিক নগদ অর্থের প্রয়োজন নেই, তারাই কিছুটা মজুদ ধরে রেখেছেন।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আবহাওয়াসংক্রান্ত সমস্যা এখনো ভিয়েতনামের উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেনি। তবে নভেম্বর-মার্চের মধ্যে চরম প্রতিকূল আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। এমন হলে তা পরবর্তী মৌসুমের ফলনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে কফি তোলার কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং সেখানকার আবহাওয়া চাষাবাদের অনুকূলে রয়েছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে কোকোর দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। পশ্চিম আফ্রিকায় ২০২৬-২৭ মৌসুমে উৎপাদন কমার পূর্বাভাসের কারণে চালানের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়েছে। লন্ডনের ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) কোকোর দাম ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৪ হাজার ৪১ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান কোকো রফতানিকারক দেশ ঘানার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা কোকোবড জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া, ফসলের স্বাভাবিক চক্র ও রোগের কারণে আগামী মৌসুমে উৎপাদন অন্তত ১৬ শতাংশ কমতে পারে। এ খবরের পর নিউইয়র্ক এক্সচেঞ্জে কোকোর দাম ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৫ হাজার ৪৩৫ ডলারে পৌঁছায়।

এদিকে বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং ব্রাজিলে কফি তোলার কাজ বিলম্বিত হওয়ায় অ্যারাবিকা কফির দাম দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি পাউন্ড ৩ ডলার ২৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। বাজারে স্বীকৃত বা সার্টিফায়েড কফির মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সরবরাহ সংকট আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

একই সময়ে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত চিনির দাম ১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি পাউন্ড ১৪ পাউন্ড ৬১ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে ঘাটতি দেখা দেয়ায় বছরের শেষ নাগাদ চিনির দাম আরো বাড়তে পারে। সাদা চিনির দামও দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৪৫৯ ডলার ১০ সেন্টে পৌঁছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *