
১১ দলীয় ঐক্যের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার আহ্বান গোলাম পরওয়ারের
জুলাই ১৬, ২০২৬
স্বাস্থ্য খাতের প্রতিশ্রুতি যেভাবে বাস্তবায়ন করছে সরকার
জুলাই ১৭, ২০২৬জুলাই শহীদ দিবস আজ। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দিবসটি পালন করা হবে। দিবসটি পালন উপলক্ষে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিয়ে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। এর পরই ফুঁসে ওঠে সারা দেশের মানুষ। দিনটিকে স্মরণ করে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ এবং ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দপ্তরে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আজ ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুলাই শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। অন্যদিকে ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পাশাপাশি দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
এদিকে জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আজ ঢাকাসহ সারা দেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। দিবসটি শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে বাহিনীটি। গতকাল র্যাবের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দিবসটি ঘিরে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বা রাষ্ট্রবিরোধী চক্র যাতে নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া ১৬ জুলাই উপলক্ষে জারি করা সব আইন-শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নে র্যাব মাঠে রয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল এক বাণীতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের এ দিনে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে কলেজ শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ কমপক্ষে ছয়জন শহীদ হয়েছিলেন। রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন শহীদ আবু সাঈদ। আবু সাঈদের বুকে পুলিশের গুলি করার দৃশ্য গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে। কোটা সংস্কারের দাবি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে মোড় নেয়।
১৬ জুলাইকে জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির নির্মম প্রয়োগ এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র অথচ অদম্য সাহসী বীর ছাত্র-জনতা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল।’ তিনি সব শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনাও করেন প্রধানমন্ত্রী।
দিবসটি উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ।’ তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সব বীর শহীদের অসামান্য অবদান গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘জুলাই শহীদদের মহান আত্মদান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে রাষ্ট্রের শক্তির উৎস ও সর্বময় ক্ষমতার মালিক কেবলই জনগণ। জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বার্থ, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। জুলাইয়ের এ রক্তক্ষয়ী চেতনা আমাদের একটি মানবিক, স্বৈরাচারমুক্ত, সমতাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত নতুন রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা জোগায়।’


