ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২,৬৪৫, আহত ১২,৬৬৬
জুলাই ৪, ২০২৬
খুচরা বিনিয়োগ কম এক দশকের মধ্যে স্বর্ণের বড় দরপতন
জুলাই ৪, ২০২৬
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২,৬৪৫, আহত ১২,৬৬৬
জুলাই ৪, ২০২৬
খুচরা বিনিয়োগ কম এক দশকের মধ্যে স্বর্ণের বড় দরপতন
জুলাই ৪, ২০২৬

লেনদেন বেড়েছে ৫০ শতাংশ ২২ মাস পর ৫ হাজার ৭০০ পয়েন্ট ছাড়াল ডিএসইএক্স

গত সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিস্থিতি দেখা গেছে। আগের কয়েক সপ্তাহের ইতিবাচক ধারাবাহিকতায় বাজারে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এ সময়ে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়ায় লেনদেনেও গতি আসে এবং এর প্রভাব পড়ে প্রধান সূচকগুলোতে। এতে ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে সূচক।

একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থাও ফিরে আসতে দেখা গেছে। বিশেষ করে বড় ও মধ্যম মূলধনি শেয়ারের দিকে আগের তুলনায় বেশি আগ্রহ দেখা গেছে। এসব শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়ায় বাজারে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক ধারা বজায় থাকে।

বিশেষ করে ব্যাংক, বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ এবং কিছু উৎপাদনমুখী খাতে সক্রিয় লেনদেন বাজারের গতি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ারের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি পুরো সূচকের উত্থানে ভূমিকা রেখেছে। গত সপ্তাহে অধিকাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়া থেকে বোঝা যায় বিক্রির চাপের তুলনায় চাহিদা কিছুটা শক্তিশালী ছিল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৯১ পয়েন্ট বে‌ড়ে ৫ হাজার ৭৪৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৩১ পয়েন্ট বে‌ড়ে ২ হাজার ১৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১৩১ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ২৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৬৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১৪৪ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৯১টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৭২টির, কমেছে ৯০টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির। আর লেনদেন হয়নি ২১টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থা‌নে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বিএসআরএম, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল প্রায় ৯৫২ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৫০ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১২ দশমিক ২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ব্যাংক খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়নের দখলে ছিল লেনদেনের ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। সাধারণ বীমা খাত ১১ দশমিক ৪ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ১০ দশ‌মিক ১ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে পাট খাতে। ৪ দশমিক ৭ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল তথ্যপ্রযুক্তি খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সিরামিক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। বস্ত্র খাত ৪ দশমিক ২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৩ দশ‌মিক ৭ শতাংশ।

সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ দশ‌মিক ৭১ শতাংশ বে‌ড়ে ১৫ হাজার ৪০৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ১৪৯ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ১ দশ‌মিক ৮৭ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৪৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ২৬৩ পয়েন্ট।

সিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া ৩২৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২১১টির, কমেছে ৮৯টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির বাজারদর।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *