জিআই সনদ পেল মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়
জুন ১৭, ২০২৬
জোড়া গোলে নরওয়েকে জেতালেন হলান্ড, ৪-১ ব্যবধানে হার ইরাকের
জুন ১৭, ২০২৬
জিআই সনদ পেল মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়
জুন ১৭, ২০২৬
জোড়া গোলে নরওয়েকে জেতালেন হলান্ড, ৪-১ ব্যবধানে হার ইরাকের
জুন ১৭, ২০২৬

নতুন মূল্যহার কার্যকর দীর্ঘ টোকেন বিড়ম্বনায় যশোরের ৪৭ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার কার্যকরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যশোরের ৪৭ হাজার প্রিপেইড মিটার গ্রাহক।

টাকা রিচার্জের পর মোবাইলে ৮০ থেকে ২৪০ ডিজিটের অস্বাভাবিক দীর্ঘ টোকেন নম্বর আসায় তা মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। সামান্য ভুলে মিটার লক হয়ে যাওয়ায় তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনভর বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে শত শত পরিবারকে। আর লক হওয়া মিটার সচল করতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) যশোর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির যশোর-১ ও যশোর-২ বিতরণ বিভাগের আওতায় বর্তমানে যথাক্রমে ২৩ হাজার ও ২৪ হাজার স্মার্ট প্রিপেইড মিটার গ্রাহক রয়েছেন। মোট ৪৭ হাজার গ্রাহকের প্রায় সবাই দীর্ঘ টোকেন বিড়ম্বনার শিকার।

সরেজমিনে যশোর শহরের চিত্রামোড় এলাকায় ওজোপাডিকোর গ্রাহকসেবা কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, তীব্র গরমে ক্ষুব্ধ ও হতাশ গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড়। সবার হাতেই প্রিপেইড মিটারের নম্বর লেখা কাগজের টুকরো।

শহরের কাজীপাড়া কাঁঠালতলা এলাকার বাসিন্দা পারভীনা বেগম জানান, গত রোববার স্থানীয় দোকান থেকে ১ হাজার টাকা রিচার্জ করার পর তার মোবাইলে ২৪০ ডিজিটের একটি টোকেন নম্বর আসে। এত বড় সংখ্যা মিটারে তুলতে গিয়ে পরপর তিনবার ভুল করায় মিটারটি লক হয়ে যায়। ফলে দুইদিন ধরে তার পুরো বাড়ি বিদ্যুৎহীন।

একই ধরনের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে লাল দিঘিরপাড় এলাকার গ্রাহক রবিউল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আমার মিটারে ২২০ ডিজিটের টোকেন আসে। দুইবার ভুল করার পর তৃতীয়বারে অন্য একজনের সহযোগিতা নিয়ে সচল করতে পেরেছি। আমরা তরুণ ও শিক্ষিত হয়েও যেখানে হিমশিম খাচ্ছি, সেখানে বয়স্ক বা স্বল্পশিক্ষিত মানুষ কীভাবে রিচার্জ করবেন?’

মিটার লক হলে তা আনলক করতে ওজোপাডিকোকে টাকা দিতে হচ্ছে এবং মিটার সচল হতে দু-একদিন সময় লেগে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভোক্তা পর্যায়ে এ ভোগান্তির কথা স্বীকার করেছে ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষও। যশোর ওজোপাডিকো-১-এর সহকারী প্রকৌশলী জয়ন্ত কুমার পাল জানান, প্রতিদিন গড়ে ১০০-১৫০ গ্রাহক মিটার লক হয়ে যাওয়ার সমস্যা নিয়ে অফিসে আসছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫১৯ টাকা আবেদন ফি জমা দেয়ার মাধ্যমে মিটার আনলক করে দেয়া হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, এ ফি বাবদ তাদের ৬০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। এ আপৎকালীন মিটার আনলক করার ফি মওকুফ করার পাশাপাশি ওজোপাডিকোর পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে কারিগরি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) যশোরের সভাপতি পাভেল চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ মধ্যবয়সী, স্বল্পশিক্ষিত ও প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ। তাদের সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে এমন বড় পরিবর্তনের আগে বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো উচিত ছিল।’

হঠাৎ এত দীর্ঘ টোকেন আসার কারণ ব্যাখ্যা করে ওজোপাডিকো যশোর-১ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। আবাসিক প্রিপেইড মিটারে মূলত ছয়টি ধাপে বিদ্যুৎ বিল হিসাব করা হয়। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি ধাপের ইউনিট মূল্য বা ট্যারিফ পরিবর্তিত হয়েছে। মিটারে এ নতুন মূল্যহার কার্যকর (আপডেট) করতেই রিচার্জ টোকেনের সঙ্গে অতিরিক্ত টোকেন পাঠানো হচ্ছে।’

একবার সতর্কতার সঙ্গে দীর্ঘ টোকেনটি সঠিকভাবে মিটারে প্রবেশ করালে নতুন ট্যারিফ আপডেট হয়ে যাবে। পরবর্তী রিচার্জ থেকে গ্রাহকরা আবার আগের মতোই স্বাভাবিক ও ছোট টোকেন পাবেন বলেও জানান তিনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *