
গাড়ির ধাক্কায় নিহত এক
মে ১৮, ২০২৬
বিশ্ববাজারে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের দাম বেড়েছে
মে ১৮, ২০২৬কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভায় ৩৬ কোটি টাকার ড্রেন ও সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল জলাবদ্ধতা নিরসন আর নাগরিক সুবিধা বাড়ানো।
কিন্তু সেই উন্নয়ন প্রকল্পই এখন মানুষের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খোঁড়া ড্রেন, ভাঙা সড়ক আর নিরাপত্তাহীন নির্মাণকাজে বাড়ছে দুর্ঘটনা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ফেলে রাখা নির্মাণাধীন ড্রেনে পড়ে সম্প্রতি প্রাণ গেছে ছয় বছরের শিশু ইফাদের।
পৌর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঢাকার মেসার্স নূর কনস্ট্রাকশন পায় ৫ নম্বর প্রকল্পের কাজ। এর আওতায় ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আইনজীবী কাজলের বাড়ি থেকে মাথাভাঙা মন্দির এবং হারুন মিয়ার বাড়ি থেকে গড়াই নদী পর্যন্ত ১ হাজার ৬৭ মিটার ড্রেন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত অগ্রগতি মাত্র ৪ শতাংশ। একই সময়ে ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আরো দুটি ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরুই হয়নি। এ দুই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
এছাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গণমোড় থেকে দেলোয়ার মোড় পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি টাকার সড়ক নির্মাণকাজও শুরু হয়নি। অন্যদিকে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এমএন স্কুল থেকে পাবলিক লাইব্রেরি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের অগ্রগতি প্রায় ৬০ শতাংশে আটকে আছে। গত সোমবার নির্মাণাধীন ড্রেনে পড়ে মারা যায় ছয় বছরের শিশু ইফাদ।
এমএন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনের এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে বড় বড় গর্ত খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও রড বের হয়ে আছে, কোথাও জমে আছে নোংরা পানি। নেই কোনো সুরক্ষা বেষ্টনী বা সতর্কতামূলক চিহ্ন। শিশুটির মামা স্বাধীন হোসেন বলেন, ‘যথাসময়ে কাজ শেষ হলে ইফাদের মৃত্যু হতো না। এ মৃত্যুর দায় ঠিকাদার ও পৌর কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি স্বপন শেখ বলেন, ‘সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।’
তবে নাগরিকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে প্রকল্প ঝুলে থাকলেও কার্যকর নজরদারি দেখা যায়নি।’
এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, ‘জনবল সংকটসহ নানা কারণে এতদিন নিবিড় তদারকি সম্ভব হয়নি। শিশুমৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান, ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে এবং এখন থেকে কাজ কঠোরভাবে মনিটর করা হবে।’


