দ্বিতীয় উইকেটের পতন বাংলাদেশশের, ক্রিজে শান্ত আর মুমিনুল
মে ১৬, ২০২৬
হামের উপসর্গে আরো ২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৬১
মে ১৬, ২০২৬
দ্বিতীয় উইকেটের পতন বাংলাদেশশের, ক্রিজে শান্ত আর মুমিনুল
মে ১৬, ২০২৬
হামের উপসর্গে আরো ২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৬১
মে ১৬, ২০২৬

কারিনা কায়সার আর নেই

লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় কয়েক দিন ধরে সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সপ্তাহে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেয়া হয়

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে শুক্রবার দিবাগত রাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কারিনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।

মৃত্যুকালে কারিনা কায়সারের বয়স হয়েছিল ৩০ বছর।

লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় কয়েক দিন ধরে সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সপ্তাহে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেয়া হয়।

ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল কারিনার। চিকিৎসকরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। এরপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।

গতকাল রাতে ফেসবুকে কায়সার হামিদ লেখেন, ‘অত্যন্ত দুঃখে সাথে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে। আমার মেয়ের কোনো ভূল-ত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক। আমিন।’

গণমাধ্যমকে তিনি জানান, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার সময় হঠাৎ কারিনার প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। এর পর চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কারিনা। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’। এর মধ্যে ‘৩৬-২৪-৩৬’ চলচ্চিত্রটিতে তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

কারিনার অসুস্থতার পর থেকে তাকে দোয়ায় রেখেছিলেন সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা। তার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে শোকের ছায়া।

চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লিখেছেন, ‘যখন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ডাক আসছিলো তুমি নির্দ্বিধায় দাঁড়াইছিলা, কারিনা। বাংলাদেশ তোমাকে মনে রাখবে।

আর আমি মনে রাখবো তোমার উইটের কারণে, তোমার ডিলাইটফুল প্রেজেন্সের কারণে। তোমার সাথে করা কাজ “৩৬-২৪-৩৬”-এর কারণে। তুমি যেদিন প্রথম আমাদের বাসায় আসো সেদিন তুমি আমার আর তিশার সাথে ছবি তুলতে চাইছিলা। বলছিলা আমাদের ফ্যান তুমি। আমরা বলছিলাম, আমরা তোমার ফ্যান। তুমি লজ্জা পেয়ে হাসতেছিলা।

মানুষ মরে গেলে নাকি সব সত্য দেখতে পায়। এখন নিশ্চয়ই তুমি বিশ্বাস করছো আমরা তোমার অনেক বড় ফ্যান ছিলাম।

অনেক অনেক কথা মনে পড়ছে।

আল্লাহ, তোমাকে বেহেশত নসিব করুক, কারিনা। এই পোস্টে যদি হাহা দেখো, জানবা কিছু লোক শুধু মানুষ হত্যার জন্য বিখ্যাত তা না, মৃত্যুতে উল্লাস করবার জন্যও বিখ্যাত। ইউ নো দেম, বাংলাদেশ নোজ দেম। রেস্ট ইন পিস, মাই সিস্টার!’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *