
মারা গেছেন সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা
মে ১৬, ২০২৬
করপোরেট সুশাসন বিধিমালার খসড়া প্রকাশ তালিকাভুক্ত কোম্পানির পর্ষদে এক-তৃতীয়াংশ স্বতন্ত্র পরিচালক থাকতে হবে
মে ১৬, ২০২৬প্রয়াত ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রো। ফিদেল কাস্ত্রো কয়েক দশক ধরে কিউবার কমিউনিস্ট সরকার পরিচালনা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাউল কাস্ত্রো ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়েন এবং ২০২১ সালে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বও হস্তান্তর করেন
কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা। পদক্ষেপটিকে দ্বীপ রাষ্ট্রটির কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০ মে মায়ামিতে ৯৪ বছর বয়সী কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্র (ইনডাইটমেন্ট) প্রকাশের পরিকল্পনা করছেন ফেডারেল প্রসিকিউটররা। অভিযোগটি ১৯৯৬ সালের একটি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই সময় কিউবার নির্বাসিতদের পরিচালিত কয়েক উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছিল দেশটির যুদ্ধবিমান।
রয়টার্সের দেখা একটি আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, ওই ঘটনার নিহতদের স্মরণে ২০ মে মায়ামির প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি তারা।
অভিযোগপত্র কার্যকর হওয়ার আগে সেটি গ্র্যান্ড জুরির অনুমোদন প্রয়োজন হবে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে মায়ামি হেরাল্ড।
প্রয়াত ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রো। ফিদেল কাস্ত্রো কয়েক দশক ধরে কিউবার কমিউনিস্ট সরকার পরিচালনা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাউল কাস্ত্রো ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়েন এবং ২০২১ সালে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বও হস্তান্তর করেন।
১৯৯৬ সালের ওই ঘটনার সময় তিনি কিউবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন রাউল। কিউবা সরকার দাবি করে আসছে, কিউবার আকাশসীমায় উড়োজাহাজগুলো অনুপ্রবেশ করায় হামলা ছিল বৈধ প্রতিক্রিয়া।
যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলার নিন্দা জানিয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও কাস্ত্রো ভাইদের বিরুদ্ধে তখন কোনো ফৌজদারি মামলা করেনি। ২০০৩ সালে তিন কিউবান সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও তাদের কখনো যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়নি।
এই পদক্ষেপ এমন সময়ে আসছে যখন ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। কিউবার বর্তমান কমিউনিস্ট সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অদক্ষ বলে আখ্যা দিয়ে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ট্রাম্প কিউবার ওপর চাপ বাড়াতে দেশটিতে জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন। এর ফলে কার্যত এক ধরনের অবরোধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা বিদ্যুৎ বিভ্রাট বাড়িয়েছে এবং কিউবার অর্থনীতিতে আঘাত হেনেছে।
রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মামলা ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা মাদক পাচারের অভিযোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ওই অভিযোগকে জানুয়ারিতে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নেয়ার যৌক্তিকতা হিসেবে ব্যবহার করেছিল। মাদুরো নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মার্চে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলার পর ‘পরবর্তী লক্ষ্য কিউবা’।


