
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশ হতে পারে এশিয়ার ইলেকট্রনিকস হাব
মে ১৪, ২০২৬
ঋণ ও বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় এলাকা ছাড়ার কথা ভাবছেন অনেক কৃষক
মে ১৪, ২০২৬আগামী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বরে নেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
এ বিষয়ে মতামত নিতে গতকাল বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়। বৈঠকে অংশ নেয়া প্রায় সব পক্ষই ডিসেম্বরে পরীক্ষার বিরোধিতা করে। বিশেষ করে এ পরিকল্পনার তীব্র আপত্তি জানায় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষক ও অভিভাবকরাও তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
অংশীজনদের অধিকাংশই মত দেন, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে ও এইচএসসি এপ্রিলে আয়োজন করা উচিত। একই সঙ্গে তারা বলেন, ধাপে ধাপে সময় সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পরীক্ষাগুলো ডিসেম্বরে আনা যেতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সভায় দেশের বিভিন্ন জেলার অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মতামত দেন। তাদের বক্তব্য ছিল, এক বছরে হঠাৎ চার মাস এগিয়ে পরীক্ষা নেয়া হলে শিক্ষার্থীদের ওপর তীব্র মানসিক চাপ তৈরি হবে। এ কারণে তারা প্রতি বছর ধাপে ধাপে এক মাস করে সময় এগিয়ে আনার প্রস্তাব দেন, যাতে শিক্ষার্থীরা পরিবর্তনের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে।
সভায় উপস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অংশীজনদের কাছ থেকে আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে নেয়ার পক্ষে মতামত পাওয়া গেছে।
সভায় বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন, ‘আগামী বছর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হবে। যদি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষা শুরু করা যায়, তাহলে রোজার আগেই পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব।’
রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ তামান্না বেগম বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষা আগে নেয়া গেলে এইচএসসির সিলেবাস শেষ করার সুযোগ পাওয়া যাবে। তবে এইচএসসি পরীক্ষা মার্চ-এপ্রিলে হলে ভালো হয়। এছাড়া ফরম ফিলআপের পর শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্যও একটি ভালো সময় থাকে।’
বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘শিক্ষার্থী-শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা কবে নেয়া যেতে পারে এবং কীভাবে সময় সমন্বয় বা সিনক্রোনাইজ করা যায়, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। আমরা কতদিনের মধ্যে আমাদের লক্ষ্য পূরণ করব, ২০২৭ সালেই ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেব, নাকি ২০২৮ সালে গিয়ে সেটি সমন্বয় করব—এসব বিষয়েও মতামত পেয়েছি। তবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’


