প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পোশাকশিল্প নেতাদের সাক্ষাৎ
মে ১১, ২০২৬
১৭৯ রানের লিড নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করল বাংলাদেশ
মে ১১, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পোশাকশিল্প নেতাদের সাক্ষাৎ
মে ১১, ২০২৬
১৭৯ রানের লিড নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করল বাংলাদেশ
মে ১১, ২০২৬

মার্কিন সামরিক সহায়তা থেকে বেরিয়ে ইসরায়েলকে স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর

ইরান সরকারকে উৎখাত করা সম্ভব কি-না, জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘সম্ভব কি? হ্যাঁ। নিশ্চিত কি? না।’

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা থেকে ধীরে ধীরে বের করে আনতে চান। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে তার। খবর রয়টার্স।

সিবিএস নিউজের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে গতকাল তিনি বলেন, ‘আমাদের সামরিক সহযোগিতার আর্থিক অংশে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তাকে শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই।’

নেতানিয়াহু জানান, ইসরায়েল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা পায়। তিনি আরো উল্লেখ করেন, ২০১৮-২৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল আর্থিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ‘এটাই একেবারে উপযুক্ত সময়’। ‘আমি পরবর্তী কংগ্রেসের জন্য অপেক্ষা করতে চাই না। আমি এখনই শুরু করতে চাই।’

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বিদলীয় সমর্থনের ভিত্তিতে সামরিক সহায়তা চলছিল। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন কংগ্রেস এবং জনমত উভয়ের মধ্যেই সেই সমর্থন কিছুটা দুর্বল হয়েছে।

গত মার্চে পরিচালিত পিউ জরিপ অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। বৈশ্বিক বিষয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতার ওপর আস্থা কম বা নেই বলে জানান ৫৯ শতাংশ। উভয় হারই আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।

নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘জ্যামিতিক হারে বিস্তার’। নাম উল্লেখ না করে অভিযোগ করেন, কিছু দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ‘ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষতিকরভাবে কাজে লাগাচ্ছে’। যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেন্সরশিপের পক্ষে নন।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র নেতানিয়াহু বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের পর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনও কমেছে।

এ যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, যার ফলে মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি ২০২৩ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। মূল কারণগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলের প্রবাহ ইরানের সীমিত করে দেয়া। এ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়।

নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরই ইসরায়েলি পরিকল্পনাকারীরা বুঝতে পারে ইরান এ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তিনি বলেন, ‘এটা কত বড় ঝুঁকি—এটা বুঝতে তাদের কিছুটা সময় লেগেছে, কিন্তু এখন তারা বুঝেছে।’

তবে ইরানে ইসরায়েলের সামরিক পরিকল্পনা বা সময়সীমা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান নেতানিয়াহু। সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, যদি ইরানের নেতৃত্ব দুর্বল হয় বা ক্ষমতা হারায়, তবে তার প্রভাব হবে ব্যাপক।

তিনি বলেন, ‘এই শাসন যদি সত্যিই দুর্বল হয়ে যায় বা পতন ঘটে, তাহলে এটি হিজবুল্লাহর শেষ, হামাসের শেষ, সম্ভবত হুথিদেরও শেষ—কারণ ইরান যে সন্ত্রাসী প্রক্সি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে তার পুরো কাঠামো ভেঙে পড়বে।’

ইরান সরকারকে উৎখাত করা সম্ভব কি-না, জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘সম্ভব কি? হ্যাঁ। নিশ্চিত কি? না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *