টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
মে ১০, ২০২৬
মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ও নারীর সুরক্ষায় বিশেষ বাহিনী গঠনের আদেশ বিজয়ের
মে ১০, ২০২৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
মে ১০, ২০২৬
মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ও নারীর সুরক্ষায় বিশেষ বাহিনী গঠনের আদেশ বিজয়ের
মে ১০, ২০২৬

যুদ্ধের ইতি টানার মতো কাছাকাছি অবস্থানে নেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

গত কয়েক দিনের বিচ্ছিন্ন উত্তেজনার পর, শনিবার হরমুজ প্রণালী এলাকায় কিছুটা শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা লড়াই বন্ধ করতে এবং শান্তি আলোচনা শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র যে সর্বশেষ প্রস্তাব দিয়েছে, ইরান তার কী জবাব দেয় সে অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন।

শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, তারা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের জবাব আশা করছেন। কিন্তু একদিন পার হয়ে গেলেও তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। এ প্রস্তাবে মূলত মূল আলোচনার আগে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

শনিবার মিয়ামিতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানির সঙ্গে বৈঠক করেন রুবিও। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং হুমকি মোকাবেলায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করেছে। তবে সেই বিবৃতিতে সরাসরি ইরানের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে শিপিং ডাটা অনুযায়ী, কাতারের একটি এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) বাহী ট্যাঙ্কার শনিবার হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছিল। এটি পাকিস্তানে যাওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে আস্থা বাড়াতেই ইরান ট্যাঙ্কারটিকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এটি সফল হলে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে এটিই হবে কাতারের প্রথম এলএনজি ট্যাঙ্কারের যাতায়াত।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংশয় ও সংঘর্ষ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মাধ্যমে এ যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দেয়া হয়।

ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘ফারস’ জানিয়েছে, শুক্রবার হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাহিনী ও মার্কিন জাহাজের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ হয়েছে। তবে পরবর্তীতে ‘তাসনিম’ সংবাদ সংস্থা ইরানি সামরিক সূত্রের বরাতে জানায়, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত হলেও আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের বন্দরে ঢোকার চেষ্টা করা দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন ফাইটার জেট জাহাজ দুটির ধোঁয়া নির্গমনকারী পাইপে আঘাত করে এবং তাদের ফিরে যেতে বাধ্য করে।

গত মাসে আমেরিকা ইরানি জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করেছিল। তবে সিআইএর একটি মূল্যায়ন অনুযায়ী, এ অবরোধের ফলে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হতে আরো অন্তত চার মাস সময় লাগবে। এ তথ্য ট্রাম্পের কূটনৈতিক কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিআইএর এ বিশ্লেষণকে ‘ভুল’ বলে দাবি করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান লড়াই শুধু জলপথেই সীমাবদ্ধ নেই। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, শুক্রবার তারা ইরান থেকে আসা দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও তিনটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। এতে তিনজন সামান্য আহত হয়েছেন। ইরান বারবার আমিরাত ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে কারণ সেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

এদিকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে নিষেধাজ্ঞাও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ১০ জন ব্যক্তি ও কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। তাদের মধ্যে চীন ও হংকংয়ের বেশ কয়েকজনও রয়েছে। তেহরানের শাহেদ ড্রোন তৈরির জন্য ব্যবহৃত অস্ত্র ও কাঁচামাল সংগ্রহে ইরানের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার দায়ে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ট্রেজারি বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবৈধ বাণিজ্যে সমর্থনকারী চীনসহ যে কোনো বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *