অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন
মে ৭, ২০২৬
বাংলাদেশের রফতানি প্রসঙ্গে এডিবির চিফ ইকোনমিস্ট একটি খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ঝুঁকিপূর্ণ
মে ৭, ২০২৬
অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন
মে ৭, ২০২৬
বাংলাদেশের রফতানি প্রসঙ্গে এডিবির চিফ ইকোনমিস্ট একটি খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ঝুঁকিপূর্ণ
মে ৭, ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে ‘এক পৃষ্ঠার সমঝোতা’র পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে একটি প্রাথমিক সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে এ যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে বলে নিশ্চিত করেছে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। চুক্তি প্রস্তাব পর্যালোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তেহরানও। এদিকে সমঝোতার সম্ভাবনা ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮ ডলারে নেমে এসেছে। খবর রয়টার্স, অ্যাক্সিওস ও আল জাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ প্রথম এ প্রস্তাবের কথা সামনে আনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪টি পয়েন্ট সংবলিত সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটবে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত শর্তাবলি ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে আরো আলোচনা হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া আশা করছে। এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। তবে সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটিই উভয় পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রসর পর্যায়ের আলোচনা।

মেমোতে উল্লেখিত অন্য শর্তাবলির মধ্যে রয়েছে ইরান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত অর্থ ছেড়ে দিতে সম্মত হবে। এছাড়া উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেবে।

গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এ যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া প্রস্তাবটি বর্তমানে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, ইরান প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে এবং শিগগিরই মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কাছে তাদের মতামত ও অবস্থান হস্তান্তর করবে।

আলোচনার অগ্রগতির কারণে এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি সচল করার সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের অনুরোধ, ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের সামরিক অভিযানে পাওয়া বিশাল সাফল্য এবং একই সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তির দিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি—এসব বিবেচনায় আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ইরান যদি সমঝোতায় সম্মত না হয়, তবে পুনরায় বোমাবর্ষণ শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ‘এপিক ফিউরি’কে কিংবদন্তি হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান যদি চুক্তির শর্তগুলো মেনে নিতে সম্মত হয়, তবে দীর্ঘদিনের এ সংঘাতের সমাপ্তি ঘটবে এবং কার্যকর অবরোধ তুলে নিয়ে হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। আর তা নাহলে আবারো বোমাবর্ষণ শুরু হবে। দুঃখজনকভাবে এবারের হামলার মাত্রা ও তীব্রতা আগের চেয়ে অনেক বেশি হবে।’

অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকি’ বন্ধ হলে নতুন শর্তে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সম্ভব হতে পারে।

প্রাথমিক এ সমঝোতায় যুদ্ধের অবসান এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রক্সি গোষ্ঠীদের সমর্থনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে যে দাবিগুলো করেছিল, তা এ তালিকায় উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিয়েও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা এখনো জানা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনায় জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮ ডলারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে চাঙ্গা ভাব দেখা দিয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এ সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে ইসরায়েলি মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প ও তেহরানের মধ্যে কোনো ধরনের চুক্তি হতে যাচ্ছে এ বিষয়ে ইসরায়েল সম্পূর্ণ অন্ধকারেই ছিল। সম্ভাব্য এ চুক্তি সম্পর্কে ইসরায়েলের কোনো ধারণা নেই এবং তারা উল্টো যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *