
কৃষি উন্নয়নে সরকারের নানামুখী কর্মসূচি কতটা সফল হবে
মে ১, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী সিলেট যাচ্ছেন আজ
মে ২, ২০২৬ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা দিতে মনোরেল নির্মাণ করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে রাজধানীর জন্য প্রণীত সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (ইউআরএসটিপি) নতুন এ পরিবহন ব্যবস্থাটি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এ বিষয়ে সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকার কোন কোন রুট দিয়ে মনোরেল চলাচল করা কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে, তা সমীক্ষার মাধ্যমে তুলে আনা হবে।
মনোরেল একটি আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা, যা একক বিম বা লাইনের ওপর দিয়ে চলাচল করে। তুলনামূলকভাবে কম জায়গায় এবং সরু বা ঘিঞ্জি এলাকায় সহজে নির্মাণ করা যায়। মেট্রোরেলের তুলনায় মনোরেলের নির্মাণ ব্যয় বেশ কম এবং এটি অনেক বেশি আঁকাবাঁকা পথে অনায়াসেই চলতে পারে। অবশ্য মেট্রোরেলের তুলনায় মনোরেলের যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা কম।
রাজধানী ঢাকায় বিদ্যমান মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল চালু করা বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। রাজধানীর যানজট নিরসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে সংকীর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মনোরেলকে উপযোগী সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঢাকায় মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার আলোকে। ২০১৫ সালে তা এক দফা সংশোধন করা হয়। ২০২৫ সালে আরেক দফা সংশোধন করে পরিকল্পনার একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে ডিটিসিএ।
Untitled-1
জানা গেছে, খসড়া ইউআরএসটিপি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে সেটি আবার ডিটিসিএর কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনায় বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো সমন্বয় করতে বলা হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মশিউর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইউআরএসটিপি মূলত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল এবং অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে সরকারের নির্বাচনী
ইশতাহারের সঙ্গে ইউআরএসটিপি সমন্বয় করার জন্য এটি মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইউআরএসটিপিতে মনোরেল যুক্ত করতে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাদের এ সম্পর্কিত সমীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে যে ঢাকার কোন কোন রুট দিয়ে মনোরেল নির্মাণ করা সম্ভব হবে।’
যোগাযোগ অবকাঠামো বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ঢাকার গণপরিবহন পরিকল্পনা মূলত বড় বড় সড়ক ও মেট্রোরেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কিন্তু মেট্রো সাধারণত প্রধান সড়ক ধরে চলে, যার ফলে শহরের ভেতরের ঘিঞ্জি এলাকা বা অলিগলির মানুষ সরাসরি এ সুবিধা পায় না। তারা তখন ছোট যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়, যা যানজট বাড়ায়। একটি আদর্শ গণপরিবহন ব্যবস্থায় মেট্রো একা যথেষ্ট নয়, সেখানে সাধারণ রেল, সার্কুলার রেল, মনোরেল এবং বাসের একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম থাকা প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. সামছুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকার মতো অপরিকল্পিত এবং ঘনবসতিপূর্ণ শহরে মনোরেল অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। মনোরেল বা এ-জাতীয় হালকা কাঠামো খুব অল্প জায়গায় এবং সাশ্রয়ী মূল্যে তৈরি করা যায়। যেখানে মেট্রোর ভারী অবকাঠামো নির্মাণ সম্ভব নয়, সেখানে মনোরেল ফিডার সার্ভিস হিসেবে কাজ করবে। এটি ঘিঞ্জি এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে মেট্রো স্টেশনে পৌঁছে দেবে। এ সমন্বিত ব্যবস্থা চালু হলে মানুষের ছোট গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমবে, যা প্রাকৃতিকভাবেই রাস্তা থেকে রিকশা বা অনিয়ন্ত্রিত ছোট যানবাহনের সংখ্যা কমিয়ে আনবে এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা সহজ হবে।
পাশের দেশ ভারতসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে সার্কুলার রেল, সাব-আরবান রেল, বাসের মতো গণপরিবহনের বিভিন্ন মাধ্যম একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। ঢাকাতেও এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে ড. সামছুল হক বলেন, ‘যদি আমরা সাশ্রয়ী মনোরেল, এলিভেটেড বাস সার্ভিস এবং মেট্রোকে একটি সুতোয় বাঁধতে পারি, তবেই শহরটি যাতায়াতের উপযোগী হবে।’


