
আমদানি বাড়লেও সাতক্ষীরার বাজারে কমেনি জিরার দাম
মার্চ ১৭, ২০২৬
লেবাননে খোলা আকাশের নিচে শত শত বাংলাদেশী, যুদ্ধে হারিয়েছেন কাজ-বাসস্থান
মার্চ ১৮, ২০২৬ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারকে ‘কৃষকের বন্ধু’ বলে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া ছিলেন কৃষকের বন্ধু; আপনাদের নির্বাচিত বর্তমান বিএনপি সরকারও হচ্ছে কৃষকের বন্ধু। কারণ কৃষক ভালো থাকলে, কৃষাণী ভালো থাকলে বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে। কৃষক ভাইদের আমরা ভালো রাখতে চাই, কৃষাণী বোনদের ভালো রাখতে চাই। বাংলাদেশের কৃষিকে আমরা শক্তিশালী ভিত্তির ওপর গড়ে তুলতে চাই।’
গতকাল দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠান ও সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি। উদ্বোধন শেষে খালের পাড়ে তিনি একটি বৃক্ষ রোপণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন উদ্বোধনের মাধ্যমে গতকাল দেশব্যাপী ‘নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির বাস্তবায়নকাজ শুরু হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খাল কাটার কথা বলেছিলাম, আজকে কাজটা শুরু করেছি। মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়ার কথা বলেছিলাম; সেটির কাজও আমরা শুরু করেছি। কৃষক ভাইদের জন্য সুদ মওকুফ করেছি, মা-বোনদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছি। কৃষক ভাইদের কাছেও আমরা কৃষক কার্ড দেব; যাতে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি, তাদের সহযোগিতা করতে পারি।’
কৃষক কার্ড বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো শুরু হয়নি, আগামী মাস থেকে আমরা এটার পাইলট প্রজেক্টের কাজ শুরু করব। ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সব কৃষক ভাইয়ের কাছে বিশেষ করে যারা ছোট কৃষক, ক্ষুদ্র, প্রান্তিক কৃষক, মধ্যম কৃষক—তাদের কাছে আমরা এ কার্ডগুলো দেব, যাতে এ কার্ডের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন রকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকের পাশে দাঁড়ানো।’
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কিছুটা সময়ের দরকার জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। এ এলাকাসহ পুরো দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়—সমগ্র রংপুর বিভাগের যত মা আছেন, সবার কাছে ধীরে ধীরে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। সরকারের বয়স হয়েছে মাত্র এক মাস, শুধু একটু সময়ের প্রয়োজন। আপনারা সবাই বোঝেন—মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই দেশের অর্থনীতির ওপর একটু চাপ পড়েছে। তার পরও আমাদের মা-বোনদের কাছে যে কমিটমেন্ট, যে ওয়াদা করেছি, সেগুলো আমরা ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।’
মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে যারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘অনেকে আছে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে কিন্তু বিভ্রান্ত করতে চায়। আমাদের সতর্ক সজাগ থাকতে হবে—বিভিন্ন রকম কথাবার্তা বলে কারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি হচ্ছে কৃষকের উপকার করা, আমাদের রাজনীতি হচ্ছে মা-বোনদের স্বাবলম্বী করে তোলা, আমাদের রাজনীতি হচ্ছে দেশের মানুষ, গ্রামের মানুষ, এলাকার মানুষ কীভাবে ভালো চিকিৎসা পেতে পারে, সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আমাদের সন্তানেরা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরা কীভাবে লেখাপড়া করে মানুষ হতে পারে—সেটাই হচ্ছে আমাদের রাজনীতি। আমাদের রাজনীতি হচ্ছে কী করে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, সেটি কৃষি হোক, সেটি শিল্প হোক—সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা।’
এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন চেয়ে তিনি বলেন, ‘এ কাজগুলো যদি করতে হয়, আমি কিন্তু একা পারব না। এজন্য জনগণকে সঙ্গে লাগবে। নির্বাচনে যেমন আপনারা ধানের শীষের সঙ্গে ছিলেন, আপনারা সমর্থন দিয়েছেন; এখনো আপনাদের সমর্থন ছাড়া এ কাজগুলো করতে পারব না। জনগণের সমর্থন ছাড়া দেশ উন্নয়নের কাজ সম্ভব না। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। সেই জনগণের সমর্থন প্রয়োজন।’
খাল খনন করলে জনগণের কী সুবিধা হয়, অনুষ্ঠানে সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা এ সাহাপাড়া খালটি পুনঃখননের কাজ শুরু করেছি। সম্পূর্ণভাবে যখন কাজ শেষ করতে পারব, তখন কিন্তু প্রায় ৩১ হাজার কৃষক এখান থেকে পানি পাবে। এ খালের সুবিধা পাবে ৩১ হাজার কৃষক। প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমি—এ খালে যে পানি থাকবে, সেই পানি সেচ সুবিধার মধ্যে আসবে। সাড়ে তিন লাখ মানুষ এ খালের পানির সুবিধা পাবে।’
শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা এবং পানি সংরক্ষণ করে মৎস্য চাষ এবং খালের দুই পাড়ে বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ খাল আপনারা পুনঃখনন শেষ করলে আমি আবার এটা দেখতে আসব।’
সরকারপ্রধান তারেক রহমান বলেন, ‘আমি নির্বাচনের সময়ে একটা কথা বলেছি, বিদেশে অনেকের আত্মীয়স্বজন আছে; তাদের সঙ্গে আপনাদের নিশ্চয় কথা হয়। তারা বলে, ওদের দেশটা সুন্দর। তো ভাই ওদের দেশটা যদি সুন্দর হয়, সেটা জিন-ভূতে এসে দেশ বানায় দিয়ে গেছে? ওদের দেশের মানুষই তো দেশ সুন্দর করেছে; করেছে না? ওই দেশের মানুষই তো ওদের দেশকে গড়ে তুলেছে। তাই তো? ওরা পারলে তাহলে আমরা কেন পারব না? আমরাও ইনশা আল্লাহ পারব।’
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে গতকাল প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে ৫৪টি জেলায় খনন কর্মসূচির সূচনা করলেন। ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাহাপাড়া খালটি খনন করেছিলেন।
গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় খাল খনন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। জেলা বিএনপি সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, মনজুরুল ইসলাম, সাদেক রিয়াজ, কাহারোল উপজেলা বিএনপি সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম।
এর আগে গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী বিমানযোগে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছেন। পরে সেখান থেকে সড়কপথে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় গিয়ে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।


