
ঈদের আগেই সম্মানী পাচ্ছেন ইমাম-মুয়াজ্জিনরা, শনিবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
মার্চ ১৩, ২০২৬
ঈদযাত্রা শুরু আজ ঢাকা ছাড়বে দেড় কোটি মানুষ
মার্চ ১৩, ২০২৬জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল।
এ সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশনস্থল ত্যাগ করেন।
গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সংসদের প্রথম অধিবেশনে রেওয়াজ অনুসারে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে এলে এ ঘটনা ঘটে। বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতির আগমন বার্তা ঘোষণা করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি বলেন, ‘দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী সংবিধানের ৭৩ (২) অনুযায়ী, সংসদের অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি ভাষণ প্রদান করবেন।’ এ সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিক্ষোভ শুরু করেন। স্পিকার বলেন, ‘সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি, সংবিধান ও রেওয়াজগুলো অনুসরণ করতে চাই। দয়া করে আপনাদের আসনে বসুন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনার জন্য অপেক্ষা করুন। সবাই সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখুন।’
বিক্ষোভের মধ্যে বিউগলের সুর বেজে ওঠে। অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি স্পিকারের ডান পাশে রাখা নির্ধারিত আসনের সামনে দাঁড়ান। তখন জাতীয় সংগীত বেজে ওঠে এবং অধিবেশন কক্ষের মনিটরে জাতীয় পতাকা প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারদলীয় সদস্যরা দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রথমে বিরোধীদলীয় সদস্যরা বসে থাকলেও জাতীয় সংগীতের এক পর্যায়ে তারাও আসন থেকে উঠে দাঁড়ান।
জাতীয় সংগীত পরিবেশন শেষে নির্ধারিত আসনে বসেন রাষ্ট্রপতি। অন্যদিকে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তারা রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বারবার অনুরোধ জানান স্পিকার। আর রাষ্ট্রপতি তার জন্য নির্ধারিত ভাষণ ডায়াসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা এ সময় স্লোগান দিতে থাকেন। হট্টগোলের মধ্যে বিএনপির কয়েকজন এমপি বলতে থাকেন, ‘আপনারা কাজটি ঠিক করছেন না, রাষ্ট্রপতি অর্ধেক মানছেন, অর্ধেক মানছেন না। তাকে অসম্মান করছেন।’ এ সময় স্পিকার সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রেখে নিজ নিজ আসনে বসার এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনার অনুরোধ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলতে থাকেন, ‘এ রাষ্ট্রপতি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের সহযোগী, দালাল। এ সংসদে আমরা তার ভাষণ মেনে নিতে পারি না।’ প্রায় ৪ মিনিট অচলাবস্থার পর রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শুরু করেন। এর মধ্যেও বিরোধী দলের বিক্ষোভ চলতে থাকে। স্লোগানের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি ভাষণ চালিয়ে যান। এক পর্যায়ে স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে যান বিরোধীদলীয় সদস্যরা। পরে রাষ্ট্রপতি তার নির্ধারণ ভাষণ শেষ করেন এবং স্পিকার অধিবেশন মুলতবি করেন।
সংসদ অধিবেশন শেষ না করে ওয়াকআউট করে বাইরে বেরিয়ে আসেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা সবাই জাতীয় সংসদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছি। কার্যক্রমের শুরু থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সবগুলো অংশে আমরা অংশ নিয়েছি এবং আমাদের বক্তব্য রেখেছি। আমরা মাননীয় স্পিকারের কাছে বলেছিলাম, ফ্যাসিবাদের দোসর এমন কেউ এ সংসদে বক্তব্য দিতে পারবে না। কারণ এ সংসদটি হচ্ছে ফ্যাসিবাদমুক্ত সংসদ। হাজারো মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে, আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এ সংসদ পেয়েছি। সরকারি দল বলেন, বিরোধী দল বলেন—যারা এখানে নির্বাচিত হয়েছেন, তারা নির্বাচিত হতে পেরেছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে এবং ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করার মাধ্যমে। ফলে ফ্যাসিস্টের সঙ্গে জড়িত এমন কেউ এ পার্লামেন্টে বক্তব্য দিতে পারবেন না।’
তিনি আরো বলেন, ‘যখন রাষ্ট্রপতি বক্তব্য দিতে এসেছেন, আমরা স্পিকারের কাছে বারবার আহ্বান করেছিলাম যে আমাদের এ বিষয়ে বক্তব্য রয়েছে। সে বক্তব্য বিরোধীদলীয় নেতা উপস্থাপন করবেন। কিন্তু আমাদের সময় দেয়া হয়নি, ফ্লোর দেয়া হয়নি।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা অনুরোধ করেছিলাম যে এ সংসদে যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ছিল, যারা খুনের সহযোগী ছিল, তারা কেউ যেন এখানে কোনো বক্তব্য রাখতে না পারে। আমরা আগামীতেও এ সংসদে কোনো অন্যায় বরদাস্ত করব না, মেনে নেব না। আমরা জনগণের স্বার্থের পক্ষে লড়াই করে যাব, অধিকারের পক্ষে লড়াই করে যাব। দেশবাসী, আমরা আপনাদের সাথে আছি, অধিকারের পক্ষে আছি।’
এর আগে এদিন বেলা ১১টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। সেখানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তাকে স্বাগত জানায় সরকারি ও বিরোধী দল। পরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই সনদ অনুযায়ী বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের কথা থাকলেও জামায়াত জোট কোনো নাম প্রস্তাব না করায় তা সম্ভব হয়নি।


