মার্কিন রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডে আগুন, দুই সেনা আহত
মার্চ ১২, ২০২৬
ইরান যুদ্ধের জেরে শিপিংয়ের বাড়তি খরচ চাপবে ভোক্তার ওপর —মায়ের্স্ক সিইও
মার্চ ১৩, ২০২৬
মার্কিন রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডে আগুন, দুই সেনা আহত
মার্চ ১২, ২০২৬
ইরান যুদ্ধের জেরে শিপিংয়ের বাড়তি খরচ চাপবে ভোক্তার ওপর —মায়ের্স্ক সিইও
মার্চ ১৩, ২০২৬

রুশ জ্বালানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞায় ছাড় যুক্তরাষ্ট্রের

গতকাল পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ৩০টি স্থানে সমুদ্রে প্রায় ১২ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল রুশ উৎসের জ্বালানি তেলের সরবরাহ ভাসমান অবস্থায় ছিল। হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এ অনুমতি বিশ্ববাজারে প্রায় ৫-৬ দিনের তেলের ঘাটতি সামাল দিতে সাহায্য করতে পারে

সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ জ্বালানি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার ওপর ৩০ দিনের ছাড় (ওয়েভার) দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে অস্থির হয়ে ওঠা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল করতে পদক্ষেপটি নেয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স।

এ ছাড়ের ঘোষণার পর আজ এশিয়ায় সকালের লেনদেনে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমে আসে। এর আগে গতকাল জ্বালানি তেলের দাম ফের ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা এবং এরপর তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। যা মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এবং জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

ওয়াশিংটন গত বুধবার এক ঘোষণায় জানায়, কৌশলগত মজুদ (এসপিআর) থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল ছাড়বে। এর লক্ষ্য হলো ইরান যুদ্ধের পর আকাশছোঁয়া জ্বালানি তেলের দাম কমানো। ৩২টি দেশের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ এ পদক্ষেপ, যেখানে মোট ৪০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল বাজারে ছাড়ার কথা বলা হয়েছে।

গতকাল আইইএ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেল সরবরাহ বিঘ্নের সৃষ্টি করছে।

মার্কিন অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এ অনুমতিতে ১২ মার্চ পর্যন্ত জাহাজে তোলা রুশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ ও বিক্রির অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ অনুমতি ওয়াশিংটনের সময় অনুযায়ী ১১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় মার্কিন ব্যবসা ও ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এ নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছে হোয়াইট হাউজ। বিশেষ করে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটার হারানোর ঝুঁকি বাড়াতে চান না ট্রাম্প। তার দল রিপাবলিকান কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চায়।

মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে স্কট বেসেন্ট বলেন, পদক্ষেপটি ‘খুব সীমিত পরিসরের’ ও ‘স্বল্পমেয়াদি’। এতে রুশ সরকারের উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা হবে না।

তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দামের এ সাময়িক বৃদ্ধি একটি স্বল্পমেয়াদি বিঘ্ন, যা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের দেশ ও অর্থনীতির জন্য বড় সুবিধা বয়ে আনবে।’

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, গতকাল পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ৩০টি স্থানে সমুদ্রে প্রায় ১২ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল রুশ উৎসের জ্বালানি তেলের সরবরাহ ভাসমান অবস্থায় ছিল। হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এ অনুমতি বিশ্ববাজারে প্রায় ৫-৬ দিনের তেলের ঘাটতি সামাল দিতে সাহায্য করতে পারে।

নিষেধাজ্ঞা-ছাড়টি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ালেও এটি পশ্চিমা দেশগুলোর রাশিয়াবিরোধী প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে। তাদের লক্ষ্য হলো, ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নের জন্য রাশিয়ার আয়ের উৎস কমানো। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার মিত্রদের মতবিরোধও বাড়াতে পারে। কারণ ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভর ডার লিয়েন গত বুধবার জি-৭ নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপে অংশ নেয়ার পর বলেছিলেন, এখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সময় নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *