
বগুড়ায় গ্রেফতার দুই
মার্চ ৩, ২০২৬
মার্কিন দূতাবাসের পর এবার সৌদি আরবে কূটনৈতিকপাড়ায় জোড়া বি স্ফো র ণ
মার্চ ৩, ২০২৬মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। গতকাল এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছিল। যদিও পরে সূচক কিছুটা নিম্নমুখী হয়।
গত রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত জ্বালানি তেলের মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৭২ ডলার ১৫ সেন্টে উঠে যায়। যদিও গত সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক কেনাবেচার সর্বশেষ দিন শুক্রবার পণ্যটির মূল্য স্থির হয়েছিল প্রায় ৬৭ ডলারে।
আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। শুক্রবার দিন শেষে পণ্যটির মূল্য স্থির হয়েছিল ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার ৮৭ সেন্টে। আর গতকাল রাত পৌনে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭৮ ডলার ৮৪ সেন্টে স্থিত হয়। যদিও দিনের শেষভাগে ব্যারেলপ্রতি ক্রুড অয়েলের দাম ৭৯ ডলার ৪১ সেন্টে উঠে গিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান এখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দেশটির প্রতিবেশীরাও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। হরমুজ প্রণালির কাছে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার পর বৈশ্বিক তেলের বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ইরানের সীমান্তঘেঁষা এ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরান থেকে রফতানীকৃত জ্বালানি তেল ও গ্যাস বা এলএনজিবাহী ট্যাংকার চলাচল করে।
দেশে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির দীর্ঘমেয়াদি উৎস সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর মধ্যে সৌদি আরবের অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল (এএলসি) ও আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল থেকে জ্বালানি তেল কেনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানি করে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিপিসি। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, বিপিসির আগামী ছয় মাসের জ্বালানি তেলের ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া দেশে এক মাসের জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে বলে গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নিশ্চিত করেছে বিপিসি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার পরিধি বিস্তৃত ও দীর্ঘ হচ্ছে। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে অনেক তেলবাহী ট্যাংকার আটকা পড়েছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি তেল পরিবহনে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে দেশের বাজারে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে গত শনিবার বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পরিশোধিত জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে আগামী জুন পর্যন্ত কোনো সমস্যা নেই। পরিশোধিত জ্বালানি তেল মালয়েশিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসছে। এসব দেশ থেকে জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে ক্রুড অয়েলের বিষয়টি (পণ্য পরিবহনে) আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।’
এদিকে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার কারণে আমদানিনির্ভর দেশগুলো এরই মধ্যে এশিয়ার বৃহৎ সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। খোলাবাজার থেকেও জ্বালানি তেল কেনার ক্ষেত্রে আমদানিকারক দেশগুলোর তোড়জোড়ের কথা জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশও বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে বলে জ্বালানি বিভাগসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এশিয়ার বৃহৎ জ্বালানি সরবরাহকারী চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুরের বাজারে দামের বড় উল্লম্ফন হচ্ছে। এছাড়া এসব বাজার থেকে অতি দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহ করাটাও সহজ নয় বলে মনে করেন তারা।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল সংগ্রহে জাহাজের সংকট বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া জাহাজের প্রিমিয়ামও বেড়ে যাওয়ার বড় আশঙ্কা রয়েছে বলে জ্বালানি আমদানিকারকরা জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে দেশগুলোর জ্বালানি তেল স্থাপনায় ইরানের ক্রমবর্ধমান হামলা। সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেল পরিশোধনাগারে গতকালও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি জায়ান্ট সৌদি আরামকোর রাস তানুরা পরিশোধনাগারটি এখন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ পরিশোধনাগারের দৈনিক সক্ষমতা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ব্যারেল। পরিশোধনাগারের পাশাপাশি কমপ্লেক্সটি সৌদি আরব থেকে জ্বালানি তেল রফতানির একটি টার্মিনাল হিসেবেও কাজ করে।
ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশ ইরান। বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ জোগান দেয় দেশটি। এখানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল। এছাড়া প্রতিদিন গড়ে ১৩ লাখ ব্যারেল কনডেনসেট ও অন্যান্য তরল জ্বালানিও রফতানি করে দেশটি।


