
খামেনি হত্যা: ‘ভয়াবহ প্রতিশোধের’ ঘোষণা আইআরজিসির
মার্চ ১, ২০২৬
কাতার, আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবে বিস্ফোরণ জ্বালানিতে বড় সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ
মার্চ ১, ২০২৬এই পরিস্থিতির সূচনা হয়েছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে সে সময় কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে ড্রোন হামলায় হত্যা করা হয়। সেই থেকে শুরু হওয়া এই ‘ডমিনো ইফেক্ট’ বা ধারাবাহিক ঘটনাবলি একের পর এক ইরানি নেতৃত্বকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডকে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের সাহিত্য ও ইতিহাসে তিনি এখন প্রথম ‘শহীদ’ সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন। তবে এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ কয়েক বছরের ধারাবাহিক উত্তেজনার এক চূড়ান্ত পরিণতি এই হত্যাকাণ্ড।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির সূচনা হয়েছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে সে সময় কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে ড্রোন হামলায় হত্যা করা হয়। সেই থেকে শুরু হওয়া এই ‘ডমিনো ইফেক্ট’ বা ধারাবাহিক ঘটনাবলি একের পর এক ইরানি নেতৃত্বকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সোলাইমানি হত্যার পর থেকে ইরানকে তাদের একাধিক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার এবং মিত্র সংগঠনের নেতাদের হারাতে হয়েছে। এর মধ্যে তেহরানের সুরক্ষিত এলাকায় হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়াকে হত্যা এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহর হত্যাকাণ্ড ছিল ইরানের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ও কৌশলগত ধাক্কা। এই অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেই দেশটিকে মোকাবেলা করতে হয়েছে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ধুঁকতে থাকা অর্থনীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল, যা খামেনির প্রশাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এই সম্পূর্ণ অস্থিরতার মূলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে ট্রাম্পের একতরফাভাবে বেরিয়ে যাওয়া এবং ইরানের ওপর একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এই সংকটের পটভূমি তৈরি করেছিল। এই চরম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের ধারাবাহিকতায় খামেনিকে তার নিজ দপ্তরে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারাতে হলো। বিশ্লেষকদের মত, দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলে আসা এই ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনাই শেষ পর্যন্ত এই ঐতিহাসিক এবং রক্তক্ষয়ী পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে।


