খাবার কিনতেও ঋণ নিচ্ছে আর্জেন্টিনার মানুষ
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ১৩ রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬
খাবার কিনতেও ঋণ নিচ্ছে আর্জেন্টিনার মানুষ
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ১৩ রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

বেতন-ভাতা থেকে চিকিৎসা: যেসব সুবিধা পাবেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা

রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী, একজন পূর্ণ মন্ত্রী থেকে শুরু করে উপমন্ত্রী পর্যন্ত সবাই বেতন, আবাসন, যাতায়াত এবং চিকিৎসাসহ অন্তত ১৩ ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করেন।

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর এখন আলোচনায় তাদের প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি। রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী, একজন পূর্ণ মন্ত্রী থেকে শুরু করে উপমন্ত্রী পর্যন্ত সবাই বেতন, আবাসন, যাতায়াত এবং চিকিৎসাসহ অন্তত ১৩ ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করেন। সংবিধানসম্মত দ্য মিনিস্টার্স এবং মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট—এই আইনগুলোতেই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সুবিধা নির্ধারিত।

সরকারি পদমর্যাদা অনুযায়ী, একজন পূর্ণ মন্ত্রী মাসিক ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী ৯২ হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রী ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল বেতন পান। দায়িত্ব পালনের জন্য তারা সরকারের পক্ষ থেকে সুসজ্জিত ও বিনা ভাড়ার বাসভবন পান। তবে কেউ যদি সরকারি বাড়িতে না থেকে নিজস্ব বা ভাড়া বাড়িতে থাকতে চান, তবে মন্ত্রী মাসে ৮০ হাজার এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা ৭০ হাজার টাকা করে বাড়ি ভাড়া ভাতা পাবেন। এছাড়া বাসভবনের রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির যাবতীয় খরচও রাষ্ট্র বহন করে।

যাতায়াত ও ভ্রমণ ভাতা

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা সরকারি পরিবহন পুল থেকে সার্বক্ষণিক গাড়ি সুবিধা পাবেন। ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক কাজে প্রতিদিন ১৮ লিটার জ্বালানি তেলের খরচ সরকার প্রদান করবে। এছাড়া নির্বাচনী এলাকা বা দেশের অভ্যন্তরে সফরের জন্য বিশেষ জিপ গাড়ির সুবিধা এবং দৈনিক ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা (ভ্রমণ সাপেক্ষে) পাবেন। বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে তাদের জন্য ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধাও বরাদ্দ থাকে।

ব্যক্তিগত স্টাফ ও চিকিৎসা সুবিধা

একজন মন্ত্রী তার দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত সহায়তার জন্য উপসচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিব (পিএস), একজন সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) এবং দুজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিজের পছন্দমতো নিয়োগ দিতে পারেন। এছাড়া বাবুর্চি, অফিস সহায়ক ও আরদালিসহ প্রয়োজনীয় জনবলও তাদের দেয়া হয়।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো চিকিৎসা সুবিধা। মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য অসুস্থ হলে তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সরকার বহন করে। এক্ষেত্রে খরচের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই; কেবল ব্যয়ের ভাউচার জমা দিলেই তা পরিশোধ করা হয়।

নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন ও আপ্যায়ন

নিজ এলাকার মসজিদ, মন্দির বা জনহিতকর কাজে ব্যয়ের জন্য একজন মন্ত্রী বছরে ১০ লাখ টাকা, প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ৭ লাখ এবং উপমন্ত্রী ৫ লাখ টাকা থোক বরাদ্দ পান। এছাড়া দেশী-বিদেশী অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য পদমর্যাদা ভেদে মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা পান তারা।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সুবিধা

রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বেতন ও সুবিধা আলাদাভাবে নির্ধারিত। তিনি মাসিক ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল বেতন এবং ১ লাখ টাকা বাড়ি ভাড়া পান। এছাড়া তার যাতায়াত ও বিনোদনের যাবতীয় খরচ রাষ্ট্র বহন করে।

এমপিদের সুবিধা

এমপিদের মাসিক বেতন ৫৫ হাজার টাকা। এর বাইরে অতীতে এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পে কোটি টাকার বরাদ্দ পাওয়া এবং শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট পাওয়ার নজিরও রয়েছে।

পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট: শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা

বিগত সময়ে এমপিদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ ও রাজউকের প্লট বরাদ্দের চল থাকলেও, এবার সেখানে পরিবর্তনের সুর দেখা যাচ্ছে। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্য এসব সুবিধা না নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি আরো স্মরণ করিয়ে দেন যে, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি বছর নিজেদের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *