
বাংলাদেশে নতুন করে স্বৈরতন্ত্র কায়েমের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
সূচকে ঊর্ধ্বমুখিতা চার মাস পর ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে লেনদেন
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ঘর, পথ ও কর্মস্থলে নারীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। দেশের নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা ব্যয় বহন করবে রাষ্ট্র।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ঘর, পথ ও কর্মস্থলে নারীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। দেশের নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা ব্যয় বহন করবে রাষ্ট্র।’
গতকাল দুপুরে কক্সবাজার পৌর শহরের বাহারছড়ায় মুক্তিযোদ্ধা (গোলচত্বর) মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন প্রতিশ্রুতি দেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘যুবকরা প্রস্তুত হয়ে যাও। এ বাংলাদেশ শিগগিরই আমরা তোমাদের হাতে তুলে দেব। আগামী ১২ তারিখ এ দেশের আপামর জনগণ জুলুম ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখাবে।’
তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, এ নির্বাচন জাতির দিক পরিবর্তনের, জুলাই বীরদের প্রত্যাশা পূরণের ও মা-বোনদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে সবখানেই ইনসাফ কায়েম করা হবে। ন্যায় প্রতিষ্ঠাই হবে আমাদের মূল কাজ। সবকিছু ক্ষমা করা হলেও জুলাই হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে। এখানে কোনো মায়া, দয়া বা ছাড় নেই।’ একই সঙ্গে অনুতপ্তদের সংশোধনের সুযোগ দেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভুল মানুষই করে। অনুতপ্ত হলে তাদের ইতিবাচকভাবে সমাজে ফেরার সুযোগ দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলায় গোপনে আমার পেছনে লাগা হয়েছে। যারা পেছন থেকে আঘাত করে, তারা কখনো সামনে এগোতে পারে না। পেছনের লোকেরা পেছনে পড়ে থাকবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে নারীদের মাথার ওপর করে রাখা হবে।’
কক্সবাজার এখনো সিঙ্গাপুর হতে পারেনি কেন—এমন প্রশ্ন তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘অসৎ ও দুর্নীতিবাজ নেতৃত্বের কারণেই এ অঞ্চল পিছিয়ে রয়েছে।’ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বগলের নিচে ইনকিলাব রেখে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের কথা বললে জনগণের মন গলবে না। আমরা লেজ বা পা ধরব না—মাথা ধরব। একজনের শাস্তি দেখে যেন হাজারজন শুদ্ধ হয়।’
দেশ থেকে পাচার হওয়া প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ টাকা কোনো প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে যাবে না। জনগণের টাকা জনগণের কাজেই ব্যয় হবে।’
এ অঞ্চলে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি কেবল নামের প্রতিষ্ঠান হবে না; এমন শিক্ষা দেবে, যা মানুষ গড়বে এবং দেশ গড়ার কারিগর তৈরি করবে।’
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও নিজে দলের পক্ষে ভোট চেয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি দুটি ভোট দিতে হবে। প্রথমটি “হ্যাঁ” ভোট—জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানানোর জন্য। আর দ্বিতীয়টি হবে দেশ পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট। “হ্যাঁ” ভোট যেন কেবল মুখের নয়, বুকের ভাষা হয়। যারা শেষ পর্যন্ত এর বিপক্ষে দাঁড়াবে, জাতি তাদের অবস্থান বুঝে নেবে।’ কক্সবাজারের চারটি আসনেই দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রয়েছে। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি। আমাকে ফিরিয়ে দেবেন না।’
মহেশখালীতে জনসভা: এর আগে সকালে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। সেখানে তিনি বলেন, ‘গণভোটে “হ্যাঁ” মানে স্বাধীনতা ও অগ্রগতি আর “না” মানে গোলামি। গণভোটের বিপক্ষে যারা অবস্থান নেবে, জনগণ ধরে নেবে তারা আবারো পরিবারতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’ ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন পরিবার, প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের নিয়ে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে গণজোয়ার তৈরির আহ্বান জানান শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘যুবকরা বেকার ভাতা নয়, তারা চায় মর্যাদা ও ন্যায়বিচার। অপমানজনক ভাতা নয়, যুবকদের হাতে তুলে দেয়া হবে সম্মানজনক কর্মসংস্থান।’
মহেশখালী ও কুতুবদিয়াকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের চেয়েও ভালো অবস্থানে যেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির। দীর্ঘদিন অবহেলিত মহেশখালীকে একটি ‘স্মার্ট ইকোনমিক জোন’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি বিভক্ত বাংলাদেশ চাই না; আমি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই।’ তিনি ভোট চুরির বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
লোহাগাড়ায় জামায়াত আমির: দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পদুয়ায় নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। সেখানে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী জোট ক্ষমতায় গেলে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা করা হবে। আমরা কথা দিচ্ছি আল্লাহতায়ালা ইনসাফের সরকার গঠনের সুযোগ দিলে লুটেরাদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে সব বের করে আনা হবে। সে অর্থ রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা হবে। ইনসাফের ভিত্তিতে সারা বাংলাদেশের উন্নয়নে তা ব্যয় করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আর কেউ এক টাকার রাস্তা আট টাকায় গড়ার স্বপন দেখবেন না। জনগণের অর্থের পাই পাই হিসাব জনপ্রতিনিধিরা দিতে বাধ্য থাকবেন। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে জনপ্রতিনিধি ও তার পরিবারের আয়-ব্যয় প্রতি বছর জনগণের কাছে প্রকাশ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করে ঘোষণা দিয়েছি, ১৩ তারিখ থেকে ইনশা আল্লাহ আমাদের মহান প্রভু আমাদের একটা নতুন বাংলাদেশ দেবেন। সেদিন থেকে চাঁদাবাজ যারা, তাদের বলে দেব ওই কাজের দিন আজকেই শেষ।’
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘ন্যায় ইনসাফের এ বাংলাদেশ যারা চায় না, তারা পুরনো বন্দোবস্ত চায়। যেনতেনভাবে একটা নির্বাচন চায়। সংস্কারের জন্য গণভোট আগে চায়নি। এরপর সবার যখন দাবি এল, তখন বলল গণভোট মানি তবে তা একদিনে হতে হবে। কিন্তু আমরা বলেছিলাম আগে গণভোট হোক, তারপর সাধারণ নির্বাচন হোক। তারা মানল না। এখন তাদের দাবি মেনে নিয়ে একদিনে হলো, এখন বলল গণভোট আমরা মানি না, গণভোটের দরকার নেই। চতুর্দিক থেকে ঠ্যালা শুরু হয়েছে জনগণের। ঠ্যালার নাম বাবাজি। এখন আস্তে আস্তে শিশুর মতো মুখ ফুটতে শুরু করেছে—গণভোটে হ্যাঁ বলেন।’
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এ নির্বাচনী সমাবেশে শফিকুর রহমান দক্ষিণ চট্টগ্রামের দলীয় ও জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন।


