নারী প্রার্থী হওয়ায় অনেক বাধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
কক্সবাজারে জামায়াত আমির ঘর পথ কর্মস্থলে নারীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
নারী প্রার্থী হওয়ায় অনেক বাধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
কক্সবাজারে জামায়াত আমির ঘর পথ কর্মস্থলে নারীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬

বাংলাদেশে নতুন করে স্বৈরতন্ত্র কায়েমের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে

স্বাস্থ্য খাতকে আমরা নতুনভাবে গোছাব। এ দেশটা অত্যন্ত হতভাগা। আমরা হতভাগা জাতি। যাদের আমরা দায়িত্বে পাঠাই তারা নিজেদের আখের গোছানো ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ব্যস্ত।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। আসন্ন নির্বাচন, নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এবিএস ফরহাদ

ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনের পরিস্থিতি কেমন দেখছেন?

নির্বাচনে আমরা মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। এ এলাকার মানুষের একটা আক্ষেপ, এখানে এখনো অস্ত্র দেখিয়ে চাঁদাবাজি হয়। তারা একটা চাঁদাবাজমুক্ত ও মাদকমুক্ত সমাজ দেখতে চায়। সাধারণ মানুষ এখন কথা বলা শিখেছে। এটাই নতুন বাংলাদেশ। এ বাংলাদেশে কেউ নতুন করে আবার স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে চাইলে তাদের এ স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে। এখানে আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। জনগণ আমাদের ভালোবেসে ফেলেছে। আমরা বলেছি, কোনো ফ্যামিলি কার্ড না দিয়ে আমরা তাদের পরিবারের সদস্য হয়ে তাদের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হব।

নির্বাচনে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে?

বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই পরিবারতন্ত্র ও আমলাতন্ত্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কিছু আমলা ও সরকারি সংস্থার ভেতরে থাকা সুবিধাভোগী চক্র এখনো সক্রিয়। এখানে পরিবারতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্রের পাশাপাশি আধিপত্যবাদের বিষয়টিও জড়িত। যে কারণে বর্তমানে যুবসমাজ জেগে উঠেছে এবং আমরা কোনো চ্যালেঞ্জকে চ্যালেঞ্জ মনে করছি না। কিন্তু আমলাতন্ত্রের ভেতরের অনেকে বলছে, তারা হুমকি অনুভব করছেন। আমলাতন্ত্রে অনেকে পীর পরিবর্তন করেছেন, কিন্তু মানসিকতা বদলাননি। এখানকার বস্তিবাসী লোকজন বলছেন, তারা চান সন্ত্রাস ও চাঁদামুক্ত এলাকা। সেটা আমি পারব বলে তারা আশা করছেন।

আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

এখানকার মানুষ চায়, এখন যারা তাদের কাছে আসছেন তারা যেন পরেও আবার আসেন। আমি সবসময় এখানে আসব। তাদের সুবিধা-অসুবিধায় পাশে থাকব। আমরা মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা গড়তে চাই। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশন—সব মিলিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সার্বিক ব্যবস্থা নেব।

আপনার নির্বাচনী এলাকায় অভিজাত শ্রেণী ও বস্তিবাসী বসবাস করে। দুই শ্রেণীর ভোটারের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনে আপনার পরিকল্পনা কী?

এখানে যে দুই শ্রেণীর বসবাস, তাদের মধ্যে তুলনা হয় না। যারা অভিজাত শ্রেণী, তারা আমাদের কাছ থেকে সহায়তা চায় না। তারা চায় নিরাপত্তা, যানজটমুক্ত পরিবেশ। এমনকি রাতেও নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা নেই। তাদের জন্য ওই ব্যবস্থা করা হবে। বস্তির মানুষ চায় বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও মাদকমুক্ত পরিবেশের নিশ্চয়তা। এ দুই শ্রেণীর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। এজন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের পাশাপাশি মাদক ও চাঁদাবাজি নির্মূল করব।

বাজেট-বরাদ্দে দেশের স্বাস্থ্য খাত বরাবরই উপেক্ষিত। চিকিৎসা পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে এ বিষয়ে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

স্বাস্থ্য খাতকে আমরা নতুনভাবে গোছাব। এ দেশটা অত্যন্ত হতভাগা। আমরা হতভাগা জাতি। যাদের আমরা দায়িত্বে পাঠাই তারা নিজেদের আখের গোছানো ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ব্যস্ত। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা তারা কখনো চিন্তা করেন না। এটি হচ্ছে আমাদের জন্য সবচেয়ে দুঃখের বিষয়। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে চিকিৎসার জন্য যেখানে ১০-২০ লাখ টাকা লাগত, তা ২-৪ লাখ টাকার মধ্যে নিয়ে আসার। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ নির্দিষ্ট রোগের ফ্রি চিকিৎসা চালু করব। এ এলাকার জন্য আমি আলাদা হাসপাতাল স্থাপন করব, ইনশা আল্লাহ। স্বাস্থ্য খাতের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর ব্যবস্থা ও ক্যান্সার বসে আছে। প্রশাসনে ক্যান্সার বসে গেছে। এখানে কেউ ভালো করলে তাকে পুরস্কৃত না করে চেপে ধরে। আমরা এটি বন্ধ করব। জড়িতদের মুখোশ উন্মোচন করব এবং তাদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনব। তাদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করব।

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা দেখছেন কিনা?

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সবসময় ছিল। এটা আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে—আমরা এটিকে উড়িয়ে দিচ্ছি না। তবে এবার জনগণ জেগে উঠেছে। বিদেশী পর্যবেক্ষকরা সজাগ, আমরাও সজাগ আছি। সাংবাদিকরাও সজাগ থাকবেন। জাতি এ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে মুক্তি চায়। জাতি কোনো তন্ত্র বা ফ্যাসিবাদের কাছে আবদ্ধ না হয়ে গণতন্ত্র চায়, অধিকার চায়, আজাদি চায়।

তারেক রহমান গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছেন। এটিকে কীভাবে দেখছেন?

এটিকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি। সবার সুবুদ্ধি উদয় হোক। সবাইকে মাঠে আসতে হবে। নোংরা রাজনীতি বাদ দিয়ে সন্ত্রাস ও চাঁদামুক্ত রাজনীতি করতে হবে। পেশাগতভাবে দক্ষ ও নৈতিক না হলে রাজনীতিতে টিকে থাকা যাবে না। আমরা নোংরা রাজনীতি করতে চাচ্ছি না। আমরা ভালো কিছু করব, জাতিকে নিয়ে দেশকে গড়ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *