চবিতে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও নীতিগত সংকট নিয়ে সেমিনার অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হয় না
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
বাংলাদেশে নতুন করে স্বৈরতন্ত্র কায়েমের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
চবিতে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও নীতিগত সংকট নিয়ে সেমিনার অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হয় না
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
বাংলাদেশে নতুন করে স্বৈরতন্ত্র কায়েমের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬

নারী প্রার্থী হওয়ায় অনেক বাধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে

নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই আমি নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। প্রচারণার প্রথম দিনেই আমার নির্বাচনী অফিস লুটপাট করা হয়েছে। যেসব ব্যানার ও ফেস্টুন লাগাচ্ছি, কোনো এক পক্ষ সেগুলো খুলে ফেলছে বা নষ্ট করে দিচ্ছে।

ঢাকা-২০ আসনে এনসিপির পক্ষ থেকে শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন নাবিলা তাসনিদ। নিজ নির্বাচনী এলাকা নিয়ে পরিকল্পনার কথা বণিক বার্তার কাছে তুলে ধরেছেন তিনি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া

একজন প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী পরিবেশ কেমন দেখছেন?

নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই আমি নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। প্রচারণার প্রথম দিনেই আমার নির্বাচনী অফিস লুটপাট করা হয়েছে। যেসব ব্যানার ও ফেস্টুন লাগাচ্ছি, কোনো এক পক্ষ সেগুলো খুলে ফেলছে বা নষ্ট করে দিচ্ছে। এক রুটে ব্যানার লাগিয়ে আসার পর পরবর্তী ভিজিটে গিয়ে দেখছি সেগুলো আর নেই। প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু তাদের ভূমিকা খুবই হতাশাজনক। তারা বলছেন, ব্যানার কে ছিঁড়ছে তার ছবি তুলে দিতে! এটা তো হাস্যকর। অন্যদিকে আমাদের প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ইউনিয়নের একাধিক অফিস ও ২০টির বেশি বিলবোর্ড লাগালেও প্রশাসন নির্বিকার। প্রশাসনের এ পক্ষপাতমূলক আচরণে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে যে নির্বাচনের সময় তাদের ভূমিকা আসলে কেমন থাকবে। তবে এর মধ্যেও ইতিবাচক বিষয় হলো সাধারণ মানুষের অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছি। মানুষ আসলে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের দেখে অতিষ্ঠ। তারা দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্তি চায়, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব চায়।

এলাকার উন্নয়নে আপনার কাছে কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে?

আমার প্রথম অগ্রাধিকার হলো কৃষি। ধামরাই কৃষির জন্য খুবই সম্ভাবনাময়। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই। কৃষি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে আমার। এছাড়া কৃষকদের জন্য ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস তৈরি করার পরিকল্পনা আছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা তাদের ফসল, হাঁস-মুরগি বা কৃষিপণ্য সরাসরি বিক্রি করতে পারবেন। এর পাশাপশি প্রতি ইউনিয়নে ‘টুল সেন্টার’ করা হবে, যেখান থেকে দরিদ্র কৃষকরা আধুনিক যন্ত্রপাতি স্বল্প মূল্যে ভাড়া নিতে পারবেন। সঠিক সময়ে সার ও বীজ জোগানের বিষয়টি আমি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেব। সামগ্রিকভাবে আমি পুরো প্রসেসটিকে ‘রি-ইঞ্জিনিয়ারিং’ করতে চাই, যাতে কম ব্যয়ে অধিক ফসল উৎপাদন করা যায়, কৃষকরা লাভবান হন এবং উৎপাদিত পণ্যের দামও কমে।

আমার আরেকটি অগ্রাধিকার হলো শিক্ষা, বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা। ধামরাইয়ের উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষায় জোর দিতে চাই। ধামরাইয়ে একটি কারিগরি শিক্ষার হাব তৈরি করতে চাই, যেখানে ছেলেমেয়েরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার, ফ্রিল্যান্সিং ও এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) শিখতে পারবে। ফলে তরুণদের বেকারত্ব হ্রাস পাবে। আমি মনে করি বর্তমান সময়ে কারিগরি শিক্ষা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং এ শিক্ষা ছাড়া বৈশ্বিক বাজারে তাল মেলানো সম্ভব নয়।

এ বছরে নারী প্রার্থীর সংখ্যা খুবই কম। আপনার মতে এর কারণ কী এবং রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে করণীয় কী?

রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো গ্রহণযোগ্যতা। মানুষ একজন যোগ্য নারী নেতৃত্বকে সহজে মেনে নিতে চায় না, বরং তাকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে এক ধরনের বিকৃত আনন্দ পায়। মানুষের এ মানসিকতা পরিবর্তন হওয়া খুব জরুরি। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে পজিটিভিটি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আপনি ‘হ্যাঁ’ বললেও লোক সমালোচনা করবে, ‘না’ বললেও করবে। তাই ‘হার্ড ওয়ার্কিং’, ‘পারসিস্ট্যান্ট’ এবং ‘কনসিস্ট্যান্ট’—এই তিনটি জিনিসের সমন্বয় ঘটাতে পারলে নারীরা রাজনীতিতে সফল হবেই। আমাদের উচিত নেতিবাচকতাকে উপেক্ষা করে নিজেদের লক্ষ্যে স্থির থাকা।

নারী প্রার্থী হিসেবে আপনি কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন?

হ্যাঁ, অনেক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছি। এমনকি আমার নিজ দলের (এনসিপি) তৃণমূল পর্যায়ের উপজেলা কমিটির লোকজন আমাকে নারী হওয়ার কারণে মেনে নিতে পারেনি। তারা আমাকে প্রচণ্ড অসহযোগিতা করেছে, এমনকি কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আমাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে প্রেস কনফারেন্স পর্যন্ত করেছে। এগুলো তারা করেছে শুধু আমি নারী বলে এবং তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে আঘাত লেগেছে বলে। এছাড়া জোটের রাজনীতিতেও আমি বাধার মুখে পড়েছি। আমাদের দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে আমাকে সমর্থন দেয়া হলেও খেলাফত মজলিসের মুফতি আশরাফ তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। তিনি প্রচারণায় নারীর ক্ষমতায়নকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছেন। এটি এক ধরনের মানসিক ও রাজনৈতিক হয়রানি।

নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে কোন বিষয়গুলো চ্যালেঞ্জিং হতে পারে?

মূল চ্যালেঞ্জ সৎ নেতৃত্বের অভাব পূরণ করা এবং দেশের মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। আর এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে নির্বাচনের ফলাফল এবং কারা সরকার গঠন করছে তার ওপর। গত দেড় বছরে যারা নানা বিতর্কিত কাজ করেছে, তারাই যদি আবার সরকারে আসে তবে খুব একটা ভালো কিছুর সুযোগ নেই। কিন্তু যদি স্বচ্ছ ও যোগ্য মানুষ সংসদে যেতে পারে, তবেই দেশের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *