নির্বাচনে থাকা দুই জোটই দেশকে হতাশ করেছে: চরমোনাই পীর
জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
নওগাঁয় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা
জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
নির্বাচনে থাকা দুই জোটই দেশকে হতাশ করেছে: চরমোনাই পীর
জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
নওগাঁয় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা
জানুয়ারি ৩১, ২০২৬

নতুন প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে ভালোই সাড়া পাচ্ছি

অতীতে আমার নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রার্থী হিসেবে এবারই প্রথম। দীর্ঘদিন এ দেশের মানুষ ভোট দেয়ার সুযোগ পাননি। বর্তমানে দেশজুড়ে নতুন ভোটাররা ভোট দেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন।

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফেনী-২ আসনে। আসন্ন নির্বাচন ও নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণের প্রতি অঙ্গীকার নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নুর উল্লাহ কায়সার

ভোটের মাঠে সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

অতীতে আমার নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রার্থী হিসেবে এবারই প্রথম। দীর্ঘদিন এ দেশের মানুষ ভোট দেয়ার সুযোগ পাননি। বর্তমানে দেশজুড়ে নতুন ভোটাররা ভোট দেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। ফেনী-২ আসনে আমার সঙ্গে যিনি ধানের শীষের প্রার্থী রয়েছেন, তিনি অভিজ্ঞ ও বয়স্ক মানুষ। তরুণদের সঙ্গে ওনার বয়সের একটা ব্যবধান আছে। আর আমার বয়স যা-ই হোক না কেন, ফেনীর ভোটাররা আমাকে তরুণ প্রার্থী হিসেবেই দেখছেন। আমি নতুন প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে ভালোই সাড়া পাচ্ছি। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলো আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। এ কারণে নির্বাচনী প্রচারণা, মতবিনিময়, গণসংযোগ ও পথসভাগুলোও উপভোগ করছি।

ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে ভোটারদের মধ্যে কোন বিষয়ে আগ্রহ বেশি বলে মনে হয়?

ভোটারদের মধ্যে নতুন বাংলাদেশ গঠনের এবং সব ক্ষেত্রে নতুন বন্দোবস্তের বিষয়ে প্রবল আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ভোটাররা বলছেন, আমরা তো পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোকে বারবার দেখেছি। তারা দুর্নীতি ও অর্থ পাচার থেকে বের হতে পারছে না। তাদের মধ্যে নানাভাবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ ও সব ক্ষেত্রে দলীয়করণের মনোভাব আছে। নতুন ভোটাররা বলছেন, আমাদের পরীক্ষার জন্য এবার ভোট দেবেন। ভোটারদের মধ্যে বিরাট প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তারা নতুনদের সুযোগ দিতে চান। পুরনো ধারার রাজনীতিতে তারা আর বিশ্বাস রাখতে চাচ্ছেন না। আমরা নতুন রাজনীতির কথা বলছি। রাষ্ট্র কীভাবে তার সঠিক ন্যায়পরায়ণতার জায়গায় যেতে পারে, সেসব বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করছি।

ফেনী-২ আসন থেকে নির্বাচিত হলে কোন ধরনের উন্নয়নকাজে অগ্রাধিকার দেবেন?

দেশে সুশাসন নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। একটি নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিতের চেষ্টা করব। যাতে প্রশাসন কাজে কর্তৃত্ব, সততা ও নৈতিকতা দেখাতে পারে। আমাদের দেশে রাজনীতিবিদদের দুর্নীতির কারণে কাজগুলো যথাযথ হচ্ছে না। একটি রাস্তার কাজ পাঁচ বছর টেকার কথা থাকলেও তা এক বছরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা উন্নয়নের কাজ নয়ছয় হয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন সঠিকভাবে করা যাচ্ছে না। দুর্নীতি দূর করে বরাদ্দগুলো যথাযথভাবে ব্যবহারের বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন করার চেষ্টা করব। রাজনীতিবিদদের সব বিভাজন দূর করে সবাই মিলে রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে। জাতীয় সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে যে চর্চাটি আমরা করেছি, সেটি বজায় রাখতে চেষ্টা করে যাব।

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে প্রার্থীদের যেসব বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোকে কীভাবে দেখছেন?

ফেনী-২ আসনে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে আমরা এখন পর্যন্ত তেমন কোনো বাধা পাইনি। কিছু ভোটার আছেন, যারা বলছেন; আপনাকে ভোট দেব। কিন্তু জনসমক্ষে এটা কাউকে বলা যাবে না। এতে বোঝা যায়, ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা ও ভয়-ভীতি কাজ করছে। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রচুর লঙ্ঘন হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে প্রশাসনকে খুব একটা দৃঢ় ভূমিকায় আমরা দেখছি না। বড় দলের প্রার্থীদের মধ্যে কেন্দ্রে ডামি প্রার্থীর এজেন্ট দেয়ার মানসিকতা আছে। এটাও কিন্তু সুষ্ঠু ভোট ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হবে। বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশন, পুলিশের আইজিপিকে অবহিত করেছি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে, হুমকি আসছে। এসব বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে দৃঢ় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু যেদিকে জোর আছে, সেদিকে হেলে পড়ার একটা প্রবণতা প্রশাসনের আছে। বিষয়টি প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ন করে।

গণভোটের বিষয়ে আপনার অবস্থান জানতে চাই।

গণভোটে আমরা নিশ্চিতভাবে হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছি। কারণ আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি। জুলাই সনদ যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে গণতন্ত্রের পথটা বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার, রাজনৈতিক সংস্কার ও দেশে নতুন বন্দোবস্তের সূচনা হবে। জুলাই সনদটা হচ্ছে দীর্ঘ সংগ্রামের পথে একটি মাইলফলক। এজন্য আমরা জোর দিয়ে জুলাই সনদে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি। অনেকেই আমাদের ভোট দেবেন না, কিন্তু তারাও গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে কাজ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *