মুন্সিগঞ্জে তিন আসনের দুটিতেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
আইসিসিবির গোলটেবিল বৈঠকে গভর্নর খেলাপি ঋণ কমালে মূল্যস্ফীতিও কমে আসবে
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
মুন্সিগঞ্জে তিন আসনের দুটিতেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
আইসিসিবির গোলটেবিল বৈঠকে গভর্নর খেলাপি ঋণ কমালে মূল্যস্ফীতিও কমে আসবে
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬

ময়মনসিংহে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান তরুণদের কর্মসংস্থান ও মাদক সমস্যার সমাধান করতে চাই

নির্বাচিত হলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও মাদক সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বিকালে ময়মনসিংহ নগরের সার্কিট হাউজ ময়দানে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

নির্বাচিত হলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও মাদক সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বিকালে ময়মনসিংহ নগরের সার্কিট হাউজ ময়দানে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

জনসভায় তারেক রহমান ময়মনসিংহসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। নেত্রকোনা, শেরপুরসহ বিভিন্ন জায়গার মাদক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এ মাদক সমস্যার সমাধান করতে চাই। মাদক সমস্যার সমাধান করতে হলে আমাদের সেই তরুণ ও যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষের যখন কাজ থাকবে, চাকরি থাকবে, ব্যবসা-বাণিজ্য থাকবে, তখন মানুষ এগুলোর মধ্যে যাবে না। আমরা সেই পরিবেশ তৈরি করতে চাই।’

তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘আমরা দেশে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট বেশি করে তৈরি করব। যাতে আমরা আমাদের তরুণ ও যুবসমাজের সদস্যদের বিভিন্ন রকম ট্রেনিং (প্রশিক্ষণ) দেব। যেই ট্রেনিংয়ের বিনিময়ে তারা বিদেশে যেমন যেতে পারবে, একইভাবে দেশে কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে। যারা আইটিতে কাজ করে তাদের জন্য বিভিন্ন রকমের আইটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছি, যাতে তারা ঘরে বসে আয় বাড়াতে পারে।’

চিকিৎসা খাতের বিষয়ে বলতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে মানুষের চিকিৎসা সমস্যা। আমরা ময়মনসিংহসহ চার জেলার জেলা হাসপাতালগুলোকে আরো বড় করতে চাই। হেলথকেয়ার অ্যাপয়েন্ট (নিয়োগ) করতে চাই। শহীদ জিয়ার সময় পল্লী চিকিৎসকরা গ্রামে গ্রামে ঘরে ঘরে গিয়ে চিকিৎসা দিতেন। আমরা ঠিক একইভাবে ঘরে ঘরে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে চাই। মা-বোন ও শিশুদের চিকিৎসায় অনেক সমস্যা হয়, তারা যেন ঘরে বসে চিকিৎসা পান, সেজন্য আমরা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে চাই।’

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল বিএনপির বিরুদ্ধে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের মতো মুখের ভাষা ব্যবহার করছে।’ জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তিনি আরো বলেন, ‘তাদের বক্তব্য যে—বিএনপি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও তো দুজন সদস্য বিএনপির সরকারে ছিল। বিএনপি যদি এতই খারাপ হয় তাহলে ওই দুই ব্যক্তি পদত্যাগ করে চলে আসেনি কেন।’

২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদ। নিজামীকে প্রথম কৃষিমন্ত্রী করা হয়েছিল, পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। আর মুজাহিদ ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। সেই বিষয়ে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘তাদের দুজন পদত্যাগ করেননি, কারণ তারা ভালো করে জানতেন খালেদা জিয়া কঠোরহস্তে দুর্নীতি দমন করছেন। সব ধরনের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলে খালেদা জিয়ার সময় দেশ দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের হতে শুরু করে। যেই দল বিএনপিকে এভাবে দোষারোপ করে তাদের দুই সদস্য প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে ছিল। এটা প্রমাণ করে তারা নিজেরাই নিজেদের লোক সম্পর্কে কত বড় মিথ্যা কথা বলছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি বাংলাদেশের মানুষের জন্য। নির্বাচনী জনসভায় দেখি অনেক দল এসে অন্য দল সম্পর্কে বিভিন্ন রকমের কথাবার্তা বলে। আজকে যদি আমি এখানে দাঁড়িয়ে অন্য দল সম্পর্কে অন্য রকম কথা বলি, তাদের সম্পর্কে গিবত গাই, তাদের সমালোচনা করি, তাতে কি জনগণের কোনো লাভ হবে? হবে না। কারণ জনগণ তাকেই ভোট দেবে, যারা জনগণের জন্য কাজ করবে। জনগণের জন্য যদি কাজ করতে হয় তাহলে একটি রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা থাকতে হবে কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে। কীভাবে কী কী কাজ করবে জনগণের জন্য, সেই পরিকল্পনাগুলো থাকতে হবে।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই দলটির (বিএনপি) অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে কীভাবে দেশে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করতে হয়, জেলায় জেলায়, উপজেলায়, ইউনিয়ন, গ্রাম পর্যায়ে রাস্তাঘাট নির্মাণ করতে হয়। বিএনপির অভিজ্ঞতা রয়েছে কীভাবে শিক্ষার আলো এ দেশের সন্তানদের কাছে পৌঁছে দিতে হয়, কীভাবে বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপদে রাখতে হয়, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘যে অধিকার আদায়ের জন্য গত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে হাজারো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, হাজার হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছে। সেই অধিকার আপনারা প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এই ভোটের অধিকার দরকার, কারণ আমরা চাই এ দেশের মালিক যে জনগণ সেই জনগণের ইচ্ছামতো যাতে আগামী দিন এ দেশ সামনে চলতে পারে। সেই ইচ্ছার প্রতিফলন বা বাস্তবায়ন হতে পারে সেজন্য দরকার ভোটের অধিকার। মানুষের কথা বলার অধিকার, মানুষের ন্যায্য অধিকার যাতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সেজন্যই দরকার ভোটের অধিকার।’

নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড, বেকার সমস্যা সমাধানসহ সরকার গঠন করলে কী কী করতে চান তার একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষের প্রার্থীদের জন্য ভোট চান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘একজন অভিভাবক চায় তার সন্তান যেন সুশিক্ষা বা সঠিকভাবে শিক্ষা পান। চান তার সন্তান সেই শিক্ষা পাক, যেই শিক্ষা শেষ হলে সন্তান কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে, বেকার থাকবে না। তরুণেরা-যুবকেরা চায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। দেশে মিল ফ্যাক্টরি হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য হবে, যাতে তারা সুন্দরভাবে ও নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য বা চাকরি করতে পারে। মানুষ চায় অসুস্থ হলে যাতে সময়মতো চিকিৎসা সুবিধা পায়। এ কাজগুলো বিএনপি করবে।’

এ সময় বিভাগে ২৪টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হাতে দেয়া ধানের শীষ দেখিয়ে প্রার্থীদের বিজয়ী করতে আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এ ২৪ জনকে দায়িত্ব দিয়ে গেলাম চার জেলার উন্নয়ন করার জন্য। তাদের হাতে ধানের শীষ দিয়ে দায়িত্ব দিয়েছি এখন আপনাদের দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে তাদের কাছ থেকে। ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। এদের জিতিয়ে আনতে পারলে আমরা ওই কাজগুলো করতে পারব। এদের জেতাতে হলে আপনাদের এগিয়ে আসতে হবে।’

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম, বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কালাম, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন, আবু ওয়াহাব আকন্দ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আফজাল এইচ খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক নিলুফা চৌধুরী মনি প্রমুখ।

ঢাকা থেকে সড়কপথে বেলা ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে সভাস্থলে আসেন তারেক রহমান। মঞ্চে ওঠার আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। বিকাল ৪টায় তিনি সভামঞ্চে উঠলে স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানান উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। বিকাল ৪টা ২৬ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন তিনি। তার সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

ময়মনসিংহের সমাবেশ শেষে ঢাকায় ফেরার পথে তারেক রহমান আরো দুটি জনসভায় বক্তব্য দেন। রাত পৌনে ১২টার দিকে গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে এবং রাত ১টার দিকে ঢাকার উত্তরার আজমপুর ঈদগাহ মাঠে জনসভায় তিনি বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *