আসন্ন রমজান আমদানি বন্ধে চাঙ্গা হচ্ছে নিম্নমুখী থাকা দেশী পেঁয়াজের বাজার
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
ভালুকায় মিনি বাস উল্টে নিহত ২
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬দুর্নীতি বন্ধ না হলে দেশে ভালো সরকার গঠন করলেও উন্নয়ন সম্ভব নয়। দুর্নীতির মতোই আরেকটি বড় রাষ্ট্রীয় ব্যাধি হচ্ছে হয়রানি। এর মূলে রয়েছে জনবান্ধব নয় এমন রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং আমলাতন্ত্রের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকার সংস্কৃতি।
দুর্নীতি বন্ধ না হলে দেশে ভালো সরকার গঠন করলেও উন্নয়ন সম্ভব নয়। দুর্নীতির মতোই আরেকটি বড় রাষ্ট্রীয় ব্যাধি হচ্ছে হয়রানি। এর মূলে রয়েছে জনবান্ধব নয় এমন রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং আমলাতন্ত্রের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকার সংস্কৃতি।
গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘অর্থনৈতিক শাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এসব কথা বলেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার’-এর (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ’ (সিজিএস) এ সংলাপের আয়োজন করে।
সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) নির্বাহী পরিচালক এম আবু ইউসুফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য (প্রশাসন) সায়মা হক বিদিশা, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সাবেক সভাপতি শাহেদুল ইসলাম হেলাল।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘দুর্নীতি ও হয়রানির কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের একটি কাজের জন্য অসংখ্য দপ্তরে ঘুরতে হয় এবং নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এসব দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করা না গেলে ভালো সরকার গঠন করলেও দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
সরকারি অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে চরম অদক্ষতা এবং জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে জানিয়ে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘রাজধানীর মিন্টো রোডে জনগণের টাকায় সচিবদের জন্য যে ফ্ল্যাটগুলো তৈরি করা হয়েছে, এসব ফ্ল্যাটের সুযোগ-সুবিধা বিলাসবহুল হোটেলকেও হার মানাবে। সচিবদের ফ্ল্যাট নির্মাণে জনগণের টাকা অপচয় করা হচ্ছে। অথচ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সরকারি টাকা কোথায় এবং কেন খরচ হচ্ছে, তার কোনো সঠিক হিসাব নেই।’
তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি বর্তমানে দুটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একটি পোশাক শিল্প, আরেকটি প্রবাসীদের পাঠানো আয়। এ দুই খাতেরই প্রধান শক্তি হলো আমাদের দেশের সস্তা শ্রম। তবে ভবিষ্যতের জন্য দেশের উন্নয়নের নতুন কোনো চালিকাশক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। বর্তমানে তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব অনেক বেশি। দক্ষতা বৃদ্ধির নামে অসংখ্য প্রকল্প নেয়া হলেও সেগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ কাগজে-কলমে খরচ হলেও বাস্তবে তরুণরা কতটা দক্ষ হচ্ছে তার কোনো সঠিক হিসাব নেই। ভবিষ্যতে এগোতে হলে উদ্ভাবনী ক্ষমতার ওপর নজর দিতে হবে।
দেশে অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে বলে উল্লেখ করে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে বিনিয়োগ ব্যবস্থা থমকে আছে। তরুণ সমাজ ২০২৪ সালে পরিবর্তনের যে আন্দোলন করেছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। কিন্তু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে দারিদ্র্য কমার বদলে উল্টো বাড়ছে।’
সভাপতির বক্তব্যে সিজিএস প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান বলেন, ‘একটি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখার সূচনা হলেও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে দেশ হোঁচট খাচ্ছে। দুর্নীতি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা, অথচ বর্তমান সরকার টেকসই কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ছে, ফলে সাধারণ মানুষ উপেক্ষিত বোধ করছে। চলতি বছর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে থাকলেও দেশ কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে তিনি সংশয় রয়েছে।’
দেশে সুশাসনের বিষয়টি দুই দিক থেকেই ভাবতে হবে বলে মনে করেন র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক এম আবু ইউসুফ। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই উন্নয়ন বাজেট কমানোর কথা বলি। অপারেশনাল বাজেট কমানোর সুযোগও রয়েছে। একজন এমপি বা মন্ত্রীর কতটি গাড়ি প্রয়োজন, কেন তারা ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি পাবেন, কতজন স্টাফ রাখা যৌক্তিক—এসব প্রশ্ন তোলা দরকার।’


