
আইসিইতে কোকোর দরবৃদ্ধি
জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার সমর্থনের ব্যাখ্যা দিল সরকার
জানুয়ারি ১৯, ২০২৬বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন আলাদা একটি বিভাগ খোলা হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন আলাদা একটি বিভাগ খোলা হবে।
গতকাল রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি তার এ পরিকল্পনার কথা জানান।
তারেক রহমান বলেন, ‘একাত্তর সালে এ দেশের মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবন দিয়েছিলেন, ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। ঠিক একইভাবে ২৪-এর যোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন। তারা স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছিল একাত্তর সালে। তাকেই আবার রক্ষা করা হয়েছে ২০২৪ সালে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি আগে যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তখন ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের কল্যাণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের দেখভালের জন্য সেই মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি আলাদা বিভাগ তৈরি করা হবে।’
তারেক রহমান আরো বলেন, ‘যাকে আমরা হারিয়েছি, তাকে তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। কিন্তু যারা পেছনে রয়ে গেছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের সুবিধা-অসুবিধা রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে দেখভাল করতে হবে। কারণ, আপনারাও মুক্তিযোদ্ধা, আপনারাও যোদ্ধা।’
তিনি বলেন, ‘শুধু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেই ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। এর মধ্যে কয়েকশ মানুষ আছেন, যাদের এক বা দুই চোখ নষ্ট হয়ে গেছে, অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন। যেভাবে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিকে এক বাক্যে স্রেফ আমরা একটি গণহত্যা বলতে পারি।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন, তাদের অনেকেই আজকের এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন। আমাদের সামনে বক্তব্য রেখেছেন কেউ কেউ। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী আহতদের যারা বক্তব্য রেখেছেন তাদের কষ্টের কথাগুলো আমরা শুনেছি। আপনাদের কারণেই, আপনাদের সাহসী ভূমিকার কারণেই ফ্যাসিবাদী চক্র শুধু রাষ্ট্র ক্ষমতা নয়, বরং এ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।’
২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট দেয়া নিজের বক্তব্যের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান জানান, সেদিন তিনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শহীদদের নাম উল্লেখ করেছিলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, স্কুলের ছাত্র, আইনজীবী, রাজমিস্ত্রি, দোকানের কর্মচারী, গাড়িচালক, দিনমজুর—এমনকি ছয় বছরের শিশু রিয়াও সেই গণহত্যা থেকে রেহাই পায়নি। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর ছিল না। দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। সেদিনকার প্রতিটি ছবি তার সাক্ষ্য দেয়।’
তারেক রহমান বলেন, ‘এ আন্দোলনের চেতনাকে সুসংহত করতে হলে দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। যারা এ স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাদের বিষয়ে গণতন্ত্রকামী মানুষকে সজাগ থাকতে হবে বলে জানান তারেক রহমান।
আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কষ্ট কোনোকিছুর বিনিময়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং যে উদ্দেশ্যে তারা রাজপথে নেমেছিলেন, সেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করা যেতে পারে।’
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা যদি ব্যর্থ হই, তাহলে ভবিষ্যতেও এভাবেই শোকগাথা আর শোকসমাবেশ চলতে থাকবে।’ গণতন্ত্রের বিজয়গাথা রচনা করার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি অতিথি সারিতে শহীদ পরিবারের সঙ্গে বসেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।


