সুযোগ পেয়েও ভারতকে হারাতে পারল না বাংলাদেশ
জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড
জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
সুযোগ পেয়েও ভারতকে হারাতে পারল না বাংলাদেশ
জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড
জানুয়ারি ১৮, ২০২৬

আফ্রিকান নেশন্স কাপ ফাইনাল আজ দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে মরক্কো ও সেনেগাল

আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের (আফকন) ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক মরক্কো ও ২০২১ আসরের চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল।

আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের (আফকন) ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক মরক্কো ও ২০২১ আসরের চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল। রাবাতের প্রিন্স মৌলা আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে আজ স্থানীয় সময় রাত ৮টা ও বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ৩৫তম নেশন্স কাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ শুরু হবে।

আফ্রিকার দুই সর্বোচ্চ র‍্যাংকধারী দল ফাইনালে মুখোমুখি। মরক্কো রয়েছে ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ১১ নম্বরে, আর সেনেগাল ১৯ নম্বরে। ত্রিশের মধ্যে এ দুটি দেশ ছাড়া আফ্রিকার আর কোনো দেশ নেই।

২৪ দলের এ আসরে সেমিফাইনালে রেকর্ড সাতবারের চ্যাম্পিয়ন মিসরকে হারায় সেনেগাল, আর টাইব্রেকারে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পায় মরক্কো।

দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে ফাইনালে নামছে মরক্কো ও সেনেগাল। মরক্কো তাদের একমাত্র নেশন্স কাপ শিরোপা জয় করেন ১৯৭৬ সালে। ইথিওপিয়ায় অনুষ্ঠিত ৮ দলের সেই আসরে ফাইনাল ছিল না। গ্রুপ পর্ব শেষে ফাইনাল রাউন্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪ দল। মরক্কো, গিনি, নাইজেরিয়া ও মিসর। প্রত্যেকে একে অন্যের সঙ্গে খেলার পর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানধারী হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয় মরক্কো।

২০০৪ সালে তিউনিসিয়ায় অনুষ্ঠিত আসরের ফাইনালে স্বাগতিকদের কাছে ১-২ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় মরক্কো। এছাড়া ১৯৮০ সালে তৃতীয় এবং ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে চতুর্থ হয় উত্তর আফ্রিকার দেশটি।

সেনেগাল ২০২১ সালে ক্যামেরুনে অনুষ্ঠিত আফ্রিকান নেশন্স কাপের শিরোপা জয় করে। গোলশূন্য ফাইনালে টাইব্রকারে মিসরকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের আনন্দে মেতে ওঠে সাদিও মানের দল। এছাড়া ২০০২ ও ২০১৯ সালের আসরে তারা রানার্সআপ হয়। পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি নেশন্স কাপে চতুর্থ হয় মোট তিনবার। এবার দ্বিতীয় নেশন্স কাপ মুকুটের খোঁজে সাদিও মানে ও তার দল।

দুই ফাইনালিস্টের কেউই চলতি আসরে হারেনি। টুর্নামেন্টজুড়ে তারা কতটা ধারাবাহিক ও শক্তিশালী, তা এ পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে।

২০০৪ সালের পর আবার ফাইনালে ফিরেছে মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপে বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগালের মতো বড় দলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে মরক্কো। সর্বশেষ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট ‘দ্য অ্যাটলাস লায়ন্স’খ্যাত দলটি এবার ঘরের মাঠে শিরোপার বড় দাবিদার। সেমিতে তারা অবশ্য সহজে হারাতে পারেনি ‘সুপার ঈগল’ নাইজেরিয়াকে। সেনেগালও হঠাৎ করেই ফাইনালে আসেনি। সর্বশেষ চার আসরে এটা তাদের তৃতীয় ফাইনাল। সাদিও মানের দলের অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতার প্রমাণ দেয় এ রেকর্ড।

দুই দলের রেকর্ড ঈর্ষণীয়। চলতি টুর্নামেন্টে মাত্র এক গোল হজম করেছে মরক্কো। আর সেনেগাল করেছে মোট ১২ গোল এবং ২০১৯ সাল থেকে এ আসরে তারা অপরাজিত।

আজ স্বাগতিক হিসেবে বাড়তি সুবিধা পাবে মরক্কো। প্রিন্স মৌলা আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামের ৬৮ হাজার দর্শকের বেশির ভাগই তাদের হয়ে গলা ফাটাবে, যা আশরাফ হাকিমি ও এন নেসিরিদের উদ্দীপ্ত করবে। মরক্কান সমর্থকরা ১৯৭৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো মহাদেশীয় শিরোপার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আজ কি সেই মাহেন্দ্রক্ষণ?

গত চার আসরে তৃতীয় ফাইনাল খেলা সেনেগাল এবার সবচেয়ে অভিজ্ঞ দল নিয়ে খেলতে এসেছে। তাদের ব্যালান্সড স্কোয়াড আর চাপের মুখে মানিয়ে নেয়ার মানসিকতা আজ চাপে ফেলতে পারে ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের মরক্কোকে।

সেমিফাইনালের নায়ক ইয়াসিন বুনো আজ ফাইনালেও আশা দেখাচ্ছেন মরক্কোকে। তিনিই মরক্কোর রক্ষণ দেয়ালের মূল শক্তি। এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচে গোলবার অক্ষত রেখেছেন (ক্লিন শিট)। ডান প্রান্তে প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক ছড়াবেন আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম ডিয়াজ। রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড় ডিয়াজ এখন পর্যন্ত ৫ গোল করেছেন।

বলের দখলে টুর্নামেন্টে মরক্কোই সেরা। তারা ৬১ শতাংশ বল দখলে রাখে। অন্যদিকে যেকোনো দলের চেয়ে কম গোল হজম করেছে তারা। যদিও চোটের কারণে আজ্জেদিন ওউনাহি, রোমাইন সাইস ও সোফিয়ান আমরাবাতকে আজ ফাইনালে পাবে না মরক্কো।

সেনেগাল ফাইনালে পাবে না অধিনায়ক কালিদু কুলিবালি ও মিডফিল্ডার হাবিব দিয়ারাকে। আক্রমণভাগের কেন্দ্রে থাকবেন সাদিও মানে। এছাড়া ইলম্যান এনদিয়ায়ে ও নিকোলাস জ্যাকসন তার সঙ্গে মিলে মরক্কোর রক্ষণ ভাঙার মিশনে থাকবেন।

দুর্দান্ত টুর্নামেন্ট কাটানো এদুয়ার্দ মেন্দি সেনেগালের গোলবার সামলাবেন। চলতি আসরে প্রতিটি ম্যাচে গোল করেছে সেনেগাল এবং ২০১৯ সাল থেকে তারা নেশন্স কাপে অপরাজিত। ২০২৩ সালের আসরে শেষ ষোলোয় টাইব্রেকারে হেরেছে আইভরি কোস্টের কাছে। আইভরি কোস্ট ওই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থেকে আজ ফাইনালে নামছে মরক্কো। এখন পর্যন্ত দুই দল সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ৩১ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে মরক্কো ১৮ ম্যাচে ও ‘লায়ন্স অব তেরাঙ্গা’ সেনেগাল জিতেছে ৭টি ম্যাচ; বাকি ৬টি ম্যাচ অমীমাংসিত ছিল। দুই দল সর্বশেষ মুখোমুখি হয় ২০২৫ সালের আফ্রিকান নেশন্স চ্যাম্পিয়নশিপে, যে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ২০২০ সালে প্রীতি ম্যাচে ৩-১ গোলের জয় পায় মরক্কো।

ঐতিহাসিকভাবে এ দুই দলের দ্বৈরথে মরক্কোই আধিপত্য করে এসেছে। তবে সাদিও মানেদের সাম্প্রতিক উত্থান দুই দলের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটা কমিয়ে এনেছে। অনবদ্য ফর্মে আছে দুই দলই। মরক্কো ২৩ ম্যাচে অপরাজিত, আর সেনেগালও ২৭ ম্যাচে হারেনি। দুই দলের আজকের ফাইনালটি তাই জমে ওঠার দাবি রাখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *