
রাজশাহীর বরেন্দ্র জাদুঘর প্রাঙ্গণে শিল্প ও সংস্কৃতি মেলা
নভেম্বর ২৯, ২০২৫
সিলেটে ছয় বছর পর ঝুঁকিপূর্ণ ২৪ ভবন অপসারণের উদ্যোগ
নভেম্বর ২৯, ২০২৫নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা বা নবান্ন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা বা নবান্ন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শস্য দেবতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ভালো ফসলের আশায় প্রতি বছর এ উৎসব পালন করে গারো সম্প্রদায়। গতকাল উপজেলার পাঁচগাঁও সেন্ট পিটার্স চার্চ সাব প্যারিস গির্জা মাঠে দিনব্যাপী ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, প্রার্থনা, আলোচনা, নৃত্য-গান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে উৎসবটি উদযাপন করা হয়।
‘ওয়ানা’ শব্দের অর্থ দেব-দেবীর দানের দ্রব্যসামগ্রী আর ‘গালা’ শব্দের অর্থ উৎসর্গ করা। গারোদের বিশ্বাস, দেবতা মিসি সালজংয়ের নির্দেশে সূর্য বীজ থেকে চারার অঙ্কুরোদগম ও তার পরিপক্বতা ঘটায়। তাই ফসল গ্রহণের আগে তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় এ উৎসবে। একে নবান্ন বা ধন্যবাদের উৎসবও বলা হয়ে থাকে।
উৎসবের নিয়ম অনুসারে জুমখেতের মাঝখানের কিছু অংশের ধান কাটা হয় সবশেষে। ওই স্থানকে গারোরা বলে আ’সিরকার স্থান। ধান কাটা হয় দেবতার উদ্দেশ্যে ধূপ উৎসর্গ করে। অতপর গোড়া থেকে কেটে আঁটি বেঁধে ধান নিয়ে আসে বাড়িতে। এ সময় সবাই আনন্দধ্বনি করে। তাদের বিশ্বাস, শেষ ফসলের সঙ্গে তারা দেবতাদেরও বাড়িতে নিয়ে আসে। তারা মনে করে, দেব-দেবীরা পৃথিবীতে সব সময় থাকেন না। ওয়ানগালার সময় তারা ভক্তদের আশীর্বাদ করে আবার চলে যান নিজ আবাসে।
বিরিশিরি কালচারাল একাডেমির পরিচালক চয়ন রিছিলের সভাপতিত্বে উৎসবের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ পিসিসি সংস্থার পরিচালক সিলভেস্টার গমেজ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মঈনুল হাসান, বাংলা একাডেমির পরিচালক (সংস্কৃতি, পত্রিকা ও মিলনায়তন বিভাগ) ড. সরকার আমিন ও কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত।
সকালে ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। পরে গারো শিল্পীরা নিজেদের মাতৃভাষায় গান পরিবেশন করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল নতুন ফসল উৎসর্গ, ঐতিহ্যবাহী জুম নাচ ও অন্যান্য গারো সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। উৎসবে নারী-পুরুষ উভয়েই পরিধান করে তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক। কারো মাথায় ছিল কারুকাজ করা ‘খুতুপে’ পাগড়ি, কেউ পরেছিলেন মোরগের পালক দিয়ে তৈরি ‘দমি’ নামের ঐতিহ্যবাহী অলংকার।
আয়োজকরা জানান, গারোদের এ উৎসব শুধু নতুন ফসল উদযাপনই নয়, বরং তাদের সামাজিক সংহতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ ও লালন করার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে প্রতি বছরই পালিত হয়ে আসছে।


