বিরল খনিজে সক্ষমতা তৈরিতে প্রায় ৭৩ বিলিয়ন রুপির প্রণোদনা প্যাকেজ ভারতে
নভেম্বর ২৬, ২০২৫
আট দফা দাবিতে বরিশালে নার্সদের ধর্মঘট
নভেম্বর ২৭, ২০২৫
বিরল খনিজে সক্ষমতা তৈরিতে প্রায় ৭৩ বিলিয়ন রুপির প্রণোদনা প্যাকেজ ভারতে
নভেম্বর ২৬, ২০২৫
আট দফা দাবিতে বরিশালে নার্সদের ধর্মঘট
নভেম্বর ২৭, ২০২৫

মিরসরাইয়ে এক মাসে শিশুর ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের হার বেড়েছে ১০ গুণ

ধীরে ধীরে প্রকৃতিতে শীতের মাত্রা বাড়ছে। তবে দিনের সঙ্গে রাতের তাপমাত্রার বেশ তারতম্য রয়েছে। রাতে কিছুটা শীত অনুভূত হলেও দিনের তাপমাত্রা গরমই থাকছে। আবহাওয়ার এমন বিরূপ আচরণের প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর। বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগ। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক মাসের ব্যবধানে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এজন্য শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সাতটি শিশু ভর্তি হয়। ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত ৬৬টি শিশু এ দুই রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার উত্তর পাশে শিশু ওয়ার্ডে ১৪টি শয্যা রয়েছে। তবে একটিও খালি নেই। এ সময় কথা হয় আট মাস বয়সী শিশু মো. আনাজের বাবা শাহেদের সঙ্গে। তিনি জানান, ২০ নভেম্বর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে আনাজকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। পরে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক শিশু ওয়ার্ডে ভর্তির পরামর্শ দেন।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত এক বছর বয়সী ফারহানের বাবা আবু জাফর বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ ঠাণ্ডাজনিত কারণে ফারহানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। চিকিৎসক বলেন, সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। পরে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্স অনন্যা রায় বলেন, ‘এক মাসের ব্যবধানে শিশু ওয়ার্ডে প্রায় ১০ গুণ রোগী বেড়েছে। শীত আরো বেশি পড়তে শুরু করলে রোগীর সংখ্যাও বাড়তে পারে।’

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স ইনচার্জ তানিয়া আক্তার বলেন, ‘শীতের শুরুতে যদি এভাবে রোগী বাড়তে থাকে, শীত বেশি পড়লে এ সংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা এখনো অনুমান করা যাচ্ছে না। এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হবে।’

মিরসরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ধীরে ধীরে শীতের মাত্রা বাড়ছে। তাই শিশু ও বৃদ্ধরা ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বাড়তি যত্নের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিনহাজ উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শীতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশু ও বৃদ্ধরা। তাই এ সময় তাদের বাড়তি যত্ন নিতে হবে। সুষম খাবারের পাশাপাশি সব সময় গরম কাপড় পরিধান করতে হবে। শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *