
‘আল্লাহ যেন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপদে রাখেন’- সাকিব আল হাসান
নভেম্বর ২৫, ২০২৫
মুণ্ডা সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে পদক্ষেপ নেবে সরকার: পরিবেশ উপদেষ্টা
নভেম্বর ২৫, ২০২৫পর্যবেক্ষকরা যদি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে তাহলে সবকিছু ড্যামেজ হয়ে যাবে। তাই দয়া করে যারা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত, কোনো মিছিল-মিটিংয়ে যায়, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো লিংক আছে এ রকম কাউকে দয়া করে নিয়োগ দেবেন না।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে পর্যবেক্ষক সংস্থার সঙ্গে আয়োজিত সংলাপে এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘পর্যবেক্ষকরা যাতে কোনো দলীয় প্রচার-প্রচারণায় না যায়, ভোটারকে প্রভাবিত না করে কোনো মার্কায় ভোট দাও এসব না করে। তাদেরকে বুঝিয়ে দেবেন ইন্টারভেন করার দায়িত্ব তার না। উনি শুধু যা হচ্ছে তা রিপোর্ট করবেন। যদি কোনো রিপোর্ট আসে যে, পর্যবেক্ষকরা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ হয়ে কাজ করছে, ইনফ্লুয়েন্স করছে, তাহলে তো সমস্যা। তাই নিশ্চিত করবেন তারা যেন টোটালি নিউট্রাল থাকে। আমাদের একটাই এজেন্ডা, একটি ক্রেডিবল, সুন্দর, ট্রান্সপারেন্ট নির্বাচন জাতিকে উপহার দেয়া। সেটা সামনে রেখে আমরা কাজ করছি।‘
তিনি আরো বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে, এই নির্বাচনে আমাদের তো নিজস্ব সুপারভাইজারি মেকানিজম থাকবে। অফিশিয়াল মেকানিজম থাকবে, আমাদের কমিশনের রিটার্নিং অফিসার, পোলিং অফিসার, আমাদের ইলেক্ট ম্যাজিস্ট্রেসি ইত্যাদি থাকবে। কিন্তু আপনাদের চোখ দিয়েও আমরা নির্বাচনটা দেখতে চাই। আপনাদের চোখ যদি দুষ্ট না হয়, প্রভাবিত না হয়, তাহলে আপনাদের নির্বাচন দেখাটাও সঠিক হবে।’
সিইসি বলেন, ‘আমরা জাতিকে ওয়াদা দিয়েছি একটা সুষ্ঠু, সুন্দর এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিবো। এটা নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সবাই মিলে এই জাতীয় দায়িত্বটা পালন করতে হবে। এখানে অনেক পুরনো সংস্থা আছেন যারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে চাই না। আমি সবসময় সামনের দিকে তাকাতে চাই। অতীতের ভুলভ্রান্তি আমাদের অনেক হয়েছে। এটা হতে পারে, নানান কারণে হতে পারে। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সামনে এগোতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘যারা নতুন তাদের বলছি কোনোভাবেই আপনারা নিজেরা ইন্টারভেন করবেন না। আপনারা তো লোক নিয়োগ দেবেন। এবার আমরা বয়স কমিয়ে ২১ করেছি। এদের মধ্যে অনেকেই কিন্তু অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নয়। সুতরাং আপনাদের প্রাথমিক দায়িত্ব হবে এদেরকে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পর্কে একটা ওরিয়েন্টেশন টাইপের ট্রেনিং দেয়া। আপনারা এটা ইমিডিয়েটলি অর্গানাইজ করে ফেলবেন। আমরা যেটা নিশ্চিত করতে চাই সেটা হলো, নির্বাচনে যারা জড়িত থাকবে নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে ফিল্ড পর্যায় পর্যন্ত তাদের অ্যাকাউন্টেবিলিটি সম্পর্কে আপনারা রিপোর্ট করবেন। স্বচ্ছ উপায়ে আমাদের কাজকর্মগুলো হচ্ছে কিনা, নির্বাচনী আইন, ইলেকশনটা কন্ডাক্ট হচ্ছে কিনা, আমাদের যে অফিসার, পুলিশ অফিসারদের পারফরম্যান্স কেমন হচ্ছে, ভোটের দিন কী চলছে, কেন্দ্রীয় ম্যানেজমেন্ট কেমন, পুলিশ কাজ করছে কিনা, ভোটের বাক্স নিয়ে টানাটানি হচ্ছে কিনা, ভোটারদের বাধা দেয়া হচ্ছে কিনা ইত্যাদি সম্পর্কে আপনারা রিপোর্ট দেবেন। এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনাদের।’
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি সবসময় বলি, আমার সিসি ক্যামেরা হচ্ছে অবজারভার, আমার সাংবাদিক ভাই–বোনেরা। এরা যদি চোখ খোলা রাখে কেউ নিয়ম ভাঙতে সাহস পাবে না। ইনশাল্লাহ আমরা সবাই মিলে একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারব। আপনাদের সহযোগিতা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।’


