
বছরে হৃদরোগ নিয়ে জন্মায় ৭৩ হাজার শিশু, পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট মাত্র ৫৩
নভেম্বর ৭, ২০২৫
সরকার নিজেই একটা অবস্থা তৈরি করছে যাতে নির্বাচন ব্যাহত হয়: মির্জা ফখরুল
নভেম্বর ৭, ২০২৫‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। প্রস্তাবিত আইনে গুম করার অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। প্রস্তাবিত আইনে গুম করার অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গতকাল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এর অনুমোদন দেয়া হয়।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। প্রেস সচিব বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী আইন হিসেবে বিবেচিত হবে। এ আইনে গোপন আটককৃত স্থান, অর্থাৎ আয়নাঘর ব্যবহারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া গুমসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে।’
আইনটির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব আরো বলেন, ‘গুমসংক্রান্ত অভিযোগ গঠনের পর ১২০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার বাধ্যবাধকতাসংক্রান্ত বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আইনে। ভুক্তভোগী, তথ্যদাতা ও সাক্ষীর নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ এবং আইনগত সহায়তা নিশ্চিতে অধ্যাদেশে স্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। গুমসংক্রান্ত ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ ও ভুক্তভোগী পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য একটি বিশেষ তহবিল ও কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার গঠনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।’
প্রেস সচিব তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আগের সরকারের আমলে বাংলাদেশে গুমের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছিল। গঠিত গুম কমিশনে প্রায় দুই হাজার অভিযোগ এসেছে। তবে কমিশনের সদস্যদের হিসাবে প্রকৃত সংখ্যা চার হাজারেরও বেশি হতে পারে। দেশে অনেক মানুষ আছেন, যারা নিখোঁজ হওয়ার পর আর ফেরেননি। আবার কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। বিএনপির অনেক কর্মী এখনো নিখোঁজ। এ বাস্তবতাই আইনটিকে জরুরি করে তুলেছে। এ আইনের ফলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা দেশে গুমের রাজত্ব চালাতে পারবে না। কোনো গোপন আটক কেন্দ্র বা ‘আয়নাঘর’ আর তৈরি হবে না।
উপদেষ্টা পরিষদের ৪৭তম বৈঠকে সরকার ‘জাতীয় লজিস্টিকস নীতি-২০২৫’ অনুমোদন দিয়েছে। নীতিমালাটি দেশের পরিবহন, সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আধুনিক, দক্ষ ও টেকসই করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এ নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একটা নীতিমালা থাকলে সরকার তার কাজগুলো ঠিকভাবে করতে পারে, একটা নির্দেশনা পায়। আজকের নীতিমালাটি লজিস্টিক খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিকনির্দেশনা। এর ফলে বাংলাদেশের বেসরকারি ও সরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। বিদেশী বিনিয়োগ আসবে এবং বাংলাদেশের রফতানি খাতের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় আরো বৃদ্ধি পাবে।’
প্রেস সচিব জানান, বর্তমানে দেশের প্রধান নৌবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো কোনো সময় পণ্য রফতানিতে ১১ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। এ লজিস্টিকস নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে পারলে পণ্য পরিবহন ও প্রাপ্যতা অনেক দ্রুত হবে এবং রফতানি কার্যক্রম আরো সহজ হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘২০২৪ সালে এ ধরনের একটি নীতি করা হয়েছিল। পরে তা পুনর্মূল্যায়ন করে দেখা যায়, সেটি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। পরবর্তী সময়ে জনপ্রশাসন সচিব এহসানুল হকের নেতৃত্বে একটি কমিটি নতুনভাবে খসড়া প্রণয়ন করে।’
নীতিমালার মূল লক্ষ্য সম্পর্কে প্রেস সচিব বলেন, ‘২০৫০ সালের মধ্যে লজিস্টিক খাতে অগ্রাধিকার দেয়া হবে রেলওয়ে ও নৌ-পরিবহন খাতকে। দেশের প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে, যার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে নীতিমালায়। এর মাধ্যমে লজিস্টিক খাতকে একটি ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে আনা হবে, যেখানে শুল্ক, ফি ও কাগজপত্রসহ সব কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’
আগামী বছরের অর্থাৎ ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকাও অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। সব মিলিয়ে আগামী বছর ছুটি আছে ২৮ দিন। এর মধ্যে নয়দিন শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি পড়েছে।


