দেশব্যাপী চলছে ওয়ালটনের আইটি ফেয়ার
অক্টোবর ৩১, ২০২৫
বলের আঘাতে অস্ট্রেলিয়ান কিশোর ক্রিকেটারের মৃত্যু
অক্টোবর ৩১, ২০২৫
দেশব্যাপী চলছে ওয়ালটনের আইটি ফেয়ার
অক্টোবর ৩১, ২০২৫
বলের আঘাতে অস্ট্রেলিয়ান কিশোর ক্রিকেটারের মৃত্যু
অক্টোবর ৩১, ২০২৫

গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হোক: অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা

গত বছর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটে। এ অভ্যুত্থান ছিল জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ—অগণতান্ত্রিক শাসন, দমননীতি ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিরোধ। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশবাসী নতুন করে গণতন্ত্রের আশায় বুক বাঁধে।

সরকার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জবাবদিহিতা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করে। পতিত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি ও প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে পরিস্থিতি ছিল জটিল, তবে অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়তা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে তা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব এদেশেও পড়েছে, কিন্তু সরকার তা সফলভাবে মোকাবিলা করছে।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেন। পরে ২ জুলাই নির্বাচনী সনদ প্রকাশ করে তিনি সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সনদে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষর থাকলেও এনসিপি এখনো স্বাক্ষর করেনি।

তবে গণতান্ত্রিক কাঠামো গঠন সহজ কাজ নয়। সারা দেশে এখনো চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও প্রভাব খাটানোর প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বিদ্যমান। বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতর থেকে সংস্কার আনতে হবে। দলের নেতৃত্ব, সংগঠন ও আচরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না এলে গণতন্ত্রের শেকড় গভীরে পৌঁছাবে না।

অতীতের ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনগুলো বাংলাদেশের ইতিহাসে ভোটাধিকার হরণের উদাহরণ হয়ে আছে। সেসব নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, কেন্দ্র দখল ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। তরুণ ভোটারদের অনেকেই কখনো একটি সত্যিকারের সুষ্ঠু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা পাননি।

এ কারণে এবারকার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী মহল, তরুণ প্রজন্ম এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গন—সবাই চায় এই নির্বাচন হোক সত্যিকারের অংশগ্রহণমূলক, যেখানে জনগণ তাদের মত প্রকাশ করতে পারবে স্বাধীনভাবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। যদি সরকার সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে এবং জনগণকে নিরাপদ পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেয়, তবে বাংলাদেশ এক নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।

দেশবাসী আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন চায় না। তারা চায় এমন একটি নির্বাচন যেখানে তাদের ভোটই হবে ক্ষমতার একমাত্র উৎস, আর সরকারের ভিত্তি হবে জনগণের ইচ্ছা।

গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হোক—এই হোক বাংলাদেশের নতুন অভিযাত্রার শপথ।

জাকির হোসেন, সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *