যুক্তরাষ্ট্রের মনোনীত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশের যাত্রায় পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র
অক্টোবর ২৫, ২০২৫
বিক্রি বাড়লেও লোকসানে সিঙ্গার বাংলাদেশ
অক্টোবর ২৫, ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের মনোনীত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশের যাত্রায় পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র
অক্টোবর ২৫, ২০২৫
বিক্রি বাড়লেও লোকসানে সিঙ্গার বাংলাদেশ
অক্টোবর ২৫, ২০২৫

এক দশকে আটবার অগ্নিকাণ্ড ঝুঁকিতে বেনাপোল স্থলবন্দরের গুদাম

বিগত এক দশকে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের গুদাম বা পণ্যাগারে আটবার আগুন লেগেছে।

বিগত এক দশকে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের গুদাম বা পণ্যাগারে আটবার আগুন লেগেছে। ঘটনার পরপরই প্রতিবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও ব্যবসায়ীরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, পরিকল্পিত নাশকতা যাতে না ঘটে সেজন্য বন্দর ও পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা এখন আরো বেশি সতর্ক রয়েছেন। কড়া নজরদারি করার পাশাপাশি নেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সম্প্রতি ফায়ার সার্ভিসের একটি প্রতিনিধি দল স্থলবন্দর পরিদর্শনে এসে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতে কিছু সুপারিশ করেছে।

দেশের বৃহত্তর স্থলবন্দর বেনাপোলের অধিকাংশ গুদাম ও ওপেন ইয়ার্ডে নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বিশেষত আমদানীকৃত অতি দাহ্যপণ্য বন্দরে স্থান সংকটের কারণে সাধারণ পণ্যের সঙ্গেই রাখা হয়। এতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে। সর্বশেষ গত বছরের ২৬ আগস্ট বন্দরের ৩৫ নম্বর শেডে আগুনে কোটি টাকার পণ্য পুড়ে যায়।

বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, গত ১০ বছরে বেনাপোল স্থলবন্দরের গুদামে আটবার অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় প্রতিবারই আগুন নেভাতে ব্যর্থ হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। তবে এর আগেই পুড়ে গেছে আমদানি করা মূল্যবান পণ্য। অন্যদিকে আগুনে পণ্য পুড়লেও ক্ষতিপূরণ পাননি আমদানিকারকরা।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল স্থলবন্দরে ৩৮টি গুদাম ও ওপেন ইয়ার্ড রয়েছে। এগুলোর মোট ধারণক্ষমতা ৪৭ হাজার ৪৪০ টন পণ্য। কিন্তু রাখা হচ্ছে প্রায় দেড় লাখ টন পণ্য। গাদাগাদি করে পণ্য রাখার কারণে অগ্নিঝুঁকি আরো প্রকট হয়েছে।

সম্প্রতি বন্দরের বিভিন্ন গুদামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অতি দাহ্য ও সাধারণ পণ্য কাছাকাছি রাখা রয়েছে। এর মধ্যে রযেছে ড্রামভর্তি ডাইস বা রঙ, বস্তা ভরা রেইজিং পাউডার ও ছাপাখানার কালিসহ বিভিন্ন পণ্য। তবে গুদামের পাশেই রয়েছে বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র (এক্সটিংগুইশার)।

বন্দরের ৩৪ নম্বর গুদামে গিয়ে দেখা গেছে, মোটরগাড়ির ইঞ্জিন তেলসহ (লুব্রিক্যান্ট) বিভিন্ন দাহ্যপণ্য এলোমেলোভাবে রাখা হয়েছে। একই অবস্থা ২৯ নম্বর গুদাম ও খালি ট্রাক টার্মিনাল এলাকায়ও। এসব জায়গায় আগুন নেভানোর কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর বন্দরের ২৩ নম্বর গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে গুদামে রাখা তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের আমদানি করা কাপড়, ডাইস (রঙ), বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক, শিল্পের যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ, মোটরগাড়ির যন্ত্রাংশ, ফাইবার, মশা তাড়ানো স্প্রে, তুলা, কাগজসহ কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন ধরনের পণ্য পুড়ে যায়। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তখন তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তিন বছরেও ব্যবসায়ীরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি।

বেনাপোল স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বন্দরের প্রতিটি গুদাম ও ওপেন ইয়ার্ড অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে। এজন্য নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে হবে।’ এখানে যেকোনো ধরনের নাশকতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন এ ব্যবসায়ী।

বেনাপোল স্থলবন্দর ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়াডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ‘বন্দরে পণ্য রাখার জায়গা বাড়াতে হবে। অতি দাহ্যপণ্য নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে। আগুন নেভানোর জন্য নিজস্ব ব্যবস্থা থাকতে হবে। তাহলেই কেবল এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।’

বেনাপোল স্থলবন্দর অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে জানিয়ে যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘গত কয়েক বছরের অগ্নিকাণ্ডে অনেক ব্যবসায়ী সর্বস্বান্ত হয়েছেন। আমরা বারবার বলার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এমনকি রহস্যজনক কারণে গুদামে থাকা পণ্যের বীমাও করা হয় না। যদিও ব্যবসায়ীরা সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছেন, বন্দরের ভাড়া দিচ্ছেন অথচ তাদের আমদানি করা পণ্যের নিরাপত্তা মিলছে না।’ এজন্য বন্দর এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা ও পুরো বন্দর সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি স্থলবন্দরের গুদামগুলো বেনাপোল ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের একটি প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করেছে জানিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বায়োজিদ বোস্তামি বলেন, ‘বন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা অপ্রতুল। আমরা দাহ্য পদার্থ কীভাবে রাখতে হয় তার সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতের সুপারিশ করেছি।’

এ প্রসঙ্গে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন রেজা বলেন, ‘বন্দরের প্রতিটি গুদামেই ফায়ার হাইডেন পয়েন্ট ও ফায়ার পাম্প রয়েছে। তার পরও অগ্নিঝুঁকি নেই এ কথা বলা যাবে না।’ তবে যেকোনো ধরনের নাশকতার চেষ্টা ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *