‘নির্মমতম নির্যাতন’: মুক্ত ফিলিস্তিনিদের মুখে ইসরায়েলি কারাগারের ভয়াবহতা
অক্টোবর ১৫, ২০২৫
মিরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দ্বিতীয় দিনে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
অক্টোবর ১৫, ২০২৫
‘নির্মমতম নির্যাতন’: মুক্ত ফিলিস্তিনিদের মুখে ইসরায়েলি কারাগারের ভয়াবহতা
অক্টোবর ১৫, ২০২৫
মিরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দ্বিতীয় দিনে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
অক্টোবর ১৫, ২০২৫

মাদাগাস্কারে সামরিক অভ্যুত্থান: জেনজি আন্দোলনের মধ্যেই ক্ষমতা দখল করল সেনাবাহিনী

সেনাবাহিনী এখন একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করবে, দুই বছরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করবে। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনসহ বেশ কয়েকটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

ভারত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র মাদাগাস্কারের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারো অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সপ্তাহব্যাপী তরুণদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভের পর দেশটির ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। খবর বিবিসি।

মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েলিনার কাছ থেকে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির এক অভিজাত সামরিক ইউনিট। রাজধানী আন্তানানারিভোতে প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের বাইরে দাঁড়িয়ে সেনা কর্মকর্তা কর্নেল মাইকেল র‍্যান্ড্রিয়ানিরিনা জানান, সেনাবাহিনী এখন একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করবে, দুই বছরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করবে। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনসহ বেশ কয়েকটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

কর্নেল র‍্যান্ড্রিয়ানিরিনা বলেন, ‘এই আন্দোলন এসেছে রাজপথ থেকে—তরুণদের কাছ থেকে। তাই নতুন পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় আমরা তাদের দাবিগুলোকে সম্মান জানাব।’

ঘোষণার পর রাজধানীতে হাজারো মানুষকে পতাকা ওড়াতে ও উল্লাস করতে দেখা যায়। সেনা সদস্য ও আন্দোলনকারীরা একসঙ্গে প্রেসিডেন্টের পতন উদযাপন করেন।

এরইমধ্যে মাদাগাস্কারের সংবিধানিক আদালত কর্নেল র‍্যান্ড্রিয়ায়ানিরিনাকে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজোয়েলিনা এখনো রাষ্ট্রপতি। যা ঘটছে তা ‘একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানের চেষ্টা।’

এ পরিস্থিতিতে রাজোয়েলিনার অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, তিনি সম্ভবত একটি ফরাসি সামরিক বিমানে দেশ ছাড়েন। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট নিজে বলেছেন, তিনি ‘নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ে আছেন’ এবং সামরিক ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রকারীদের ‘জীবননাশের প্রচেষ্টা’ থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও সেনাবাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে। দ্রুতই তা রূপ নেয় বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনে। বেকারত্ব, দুর্নীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির মতো সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ পায় সেখানে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এ বিক্ষোভে কমপক্ষে ২২ জন নিহত ও ১০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সব পক্ষকে সংবিধানসম্মত শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। আফ্রিকান ইউনিয়নও সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। সেসঙ্গে ‘অসাংবিধানিকভাবে সরকার পরিবর্তনের’ যে কোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *