
ডিমওয়ালা ইলিশ সংরক্ষণে বরিশালে নৌ-শোভাযাত্রা
অক্টোবর ৫, ২০২৫
এফআরসির নির্দেশনা মানেনি বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস
অক্টোবর ৫, ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোমা হামলা বন্ধ করা’র আহ্বান উপেক্ষা করে গতকাল ভোর থেকে গাজায় বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। আল জাজিরা জানিয়েছে, এসব হামলায় গতকাল অন্তত ৫৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোমা হামলা বন্ধ করা’র আহ্বান উপেক্ষা করে গতকাল ভোর থেকে গাজায় বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। আল জাজিরা জানিয়েছে, এসব হামলায় গতকাল অন্তত ৫৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এমনকি গতকাল ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ইসরায়েল সাময়িকভাবে বোমা হামলা বন্ধ রেখেছে তার ঘোষণা করা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সুযোগ দিতে’—এমন ঘোষণা দেয়ার পরও ইসরায়েল হামলা থামায়নি। একই সঙ্গে ট্রাম্প বন্দিদের মুক্তি দিতে হামাসকে তাগাদা দিয়েছেন।
এর আগে গতকাল গাজায় শান্তি পরিকল্পনায় হামাসের ইতিবাচক সাড়াকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তিতে সম্মত হয়েছে হামাস। তবে ট্রাম্পের ২০ দফা নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করেনি সংগঠনটি। সোমবার থেকে কাতারে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রথম দফা আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে।
এসবের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্লেষক কিংবা ফিলিস্তিনের মানুষ কেউই এখনো স্পষ্ট নয়, ঠিক কী হতে যাচ্ছে। ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হওয়া আর নিজের ঘরে ফিরতে পারার আশায় উদ্বেলিত অনেক ফিলিস্তিনি। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে ইসরায়েলি বিমান হামলায় গতকাল আল-মাওয়াসিতে দুই শিশু নিহত হয়। আহত হয় আটজন। এছাড়া আরো বেশ কয়েকটি স্থানে বিমান হামলা করেছে ইসরায়েল। নুসেইরাত ক্যাম্প ও তুফাহ এলাকায় হামলায় নিহত হয়েছে আরো কয়েকজন। ইসরায়েলি সেনাদের সামনাসামনি গুলিতেও নিহত হয়েছে কয়েকজন ফিলিস্তিনি। দিন শেষে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৫৫। যদিও এ সপ্তাহে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় গাজার জন্য ছিল সীমিত যুদ্ধবিরতি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্দিদের মুক্তি, হামাসের অস্ত্র ত্যাগ এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনাদের গাজা থেকে প্রত্যাহার করা।
অন্যদিকে গাজা উপত্যকায় নিজেদের অবস্থানকে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে সীমাবদ্ধ রাখতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গাজা সিটি ‘দখলের’ তৎপরতা থামাতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট”শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ অথবা নরকের মুখোমুখি হওয়ার জন্য হামাসকে রোববার (আজ) পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা যুদ্ধ সমাপ্তি ও জিম্মি মুক্তিসংক্রান্ত প্রস্তাবের জবাবে হামাস সম্মতি জানানোর পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দ্রুততার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। জিম্মিদের অবিলম্বে মুক্ত করার লক্ষ্যে ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের জন্য ইসরায়েল প্রস্তুত বলে জানিয়েছে নেতানিয়াহুর কার্যালয়। অন্যদিকে আইডিএফ-প্রধান তার শীর্ষ জেনারেলদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, জিম্মিদের অবিলম্বে মুক্তির জন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নে ইসরায়েল প্রস্তুত। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার দলের সঙ্গে আমরা পূর্ণ সহযোগিতায় কাজ চালিয়ে যাব, যাতে ইসরায়েলের দেয়া নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুদ্ধ শেষ করা যায়, যা ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় তাদের বিবৃতিতে গাজায়, ইসরায়েলি হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য ট্রাম্পের আহ্বানের কোনো উল্লেখ নেই। উল্লেখ্য, ট্রাম্প বলেছিলেন, জিম্মিদের নিরাপদে ও দ্রুত মুক্ত করার জন্য এ হামলা বন্ধ করা জরুরি।
হামাসের প্রতিক্রিয়া এবং ট্রাম্পের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আইডিএফ-প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে জিম্মিদের মুক্তির জন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আদেশে ঠিক কী কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে হামাসের জবাবে যদিও কিছুটা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তবে পরিকল্পনার মূল কয়েকটি বিষয় নিয়ে হামাস তাদের অবস্থান না জানানোয় সংঘাতে এরপর কী হতে যাচ্ছে তা নিশ্চিত নয়। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এ যুদ্ধ থামাতে সফল হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তবে তারা এটা বলছেন যে গাজা যুদ্ধ একটি নির্ণায়ক মুহূর্তে প্রবেশ করেছে।
এদিকে গতকাল ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন ঘোষণা করেছে, তিন-চারদিনের মধ্যে গাজার জলসীমায় তাদের বহর প্রবেশ করবে। তুরস্কে তাদের প্রতিনিধি এ কথা জানিয়েছেন। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ‘ভাই-বোনদের প্রতি সমর্থন ও গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার’ জন্য তারা যাত্রা করেছেন বলে জানিয়েছে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন।
উল্লেখ্য, গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ৪৪টি জাহাজের সবগুলোকে আটক করেছে ইসরায়েলের নৌবাহিনী। তারা জাহাজে থাকা ৫০টিরও বেশি দেশের ৪৫০ জনের বেশি অধিকারকর্মীকে আটক করেছে। গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ও ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল ফ্লোটিলা। এ বহরে আছেন জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা, বার্সেলোনার সাবেক মেয়র আডা কোলাও, ইউরোপীয় সংসদ এবং বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যরা।
বর্তমানে গাজার দিকে এগোতে থাকা কনশানস জাহাজে আছেন দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। গতকাল দুপুরে দেয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, এ আন্দোলনে অংশ নেয়া সবচেয়ে বড় নৌযান কনশানস। তিনি বলেছেন, এটি সবার শেষে (৩০ সেপ্টেম্বর) ইতালি থেকে রওনা দেয়। কনশানসের আগে আটটি নৌযান রওনা করেছিল। এছাড়া আরো দুটি নৌকাও আগে ছিল। তবে ওই দুটি নৌকার অবস্থান এখনো নিশ্চিত নয়। কনশানস সবার শেষে রওনা করলেও এটির গতি বেশি হওয়ায় আগে রওনা করা আটটি নৌযানকে ছুঁয়ে ফেলেছে। এখন কনশানসের গতি কমানো হয়েছে এবং সব নৌযান এখন একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।
শহিদুল আলম আরো লিখেছেন, ‘থাউজ্যান্ড ম্যাডলিনস একটি অবিস্মরণীয় ধারণা। জাতিগত নিধন ঠেকাতে বিশ্বনেতাদের পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়তা এবং কপট ভূমিকার কারণে বিশ্বের জনগণ নিজেরাই পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হাজারো জাহাজের ধারণাটি প্রতীকী। তবে নিঃসন্দেহে এভাবে একত্র হওয়া সমুদ্রযানের সবচেয়ে বড় বহর এটি।’
এ স্ট্যাটাস দেয়ার ২ ঘণ্টা পর শহিদুল আলম ফেসবুকে কনশানস জাহাজের ভেতরের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।


