বিদ্যুচ্চালিত মোটরযান শিল্পের প্রসারে নিবন্ধন পাচ্ছে ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার
অক্টোবর ৩, ২০২৫
সুন্দরবনে বনদস্যুদের থেকে জিম্মি থাকা ৪ জেলে উদ্ধার
অক্টোবর ৩, ২০২৫
বিদ্যুচ্চালিত মোটরযান শিল্পের প্রসারে নিবন্ধন পাচ্ছে ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার
অক্টোবর ৩, ২০২৫
সুন্দরবনে বনদস্যুদের থেকে জিম্মি থাকা ৪ জেলে উদ্ধার
অক্টোবর ৩, ২০২৫

বাংলাদেশিদের জাপানযাত্রায় ভাষা দক্ষতা থাকলেও বাধা রয়ে গেছে

জাপান যাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে দালালের পেছনে ঘুরতে হবে না। সেখানে গিয়ে বেতন-ভাতাও পাওয়া যাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে যাওয়ার জন্য জানতে হবে জাপানি ভাষা। ছয় থেকে নয় মাসের ভাষা শিক্ষা কোর্স করেই যাওয়া যাবে জাপানে। পরে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগও আছে। এমনই আকর্ষণীয় জাপানের শ্রমবাজার। অথচ দেশটিতে কর্মী পাঠানোর এই সম্ভাবনা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ।

জাপানে সন্তান জন্মদানের হার গোটা বিশ্বেই সর্বনিম্ন। ১২৫ বছরের মধ্যে এ হার ২০২৪ সালে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। সংকট মোকাবিলায় জাপান সরকার ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েনের ‘শিশু যত্ননীতি প্যাকেজ’ ঘোষণা করেছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি রিসার্চের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২০৭০ সাল নাগাদ জাপানের জনসংখ্যা বর্তমানের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমে ৮ কোটি ৭০ লাখে নেমে যেতে পারে। তখন দেশটির প্রতি ১০ জন মানুষের মধ্যে ৪ জনের বয়স হবে ৬৫ বা তার বেশি।

সন্তান জন্মদানের হার কমে যাওয়ায় দেশটিতে কর্মক্ষম ও তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বছর বছর কমছে। অন্যদিকে বাড়ছে বয়স্ক লোকের সংখ্যা। দেশটিতে অবশ্য মৃত্যুহারও কম। সে জন্য জাপান এখন ‘বয়স্কদের দেশ’ হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দেশটির জনসংখ্যা কমে ১২ কোটি ৩ লাখে নেমেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ৯ লাখ কম। এসব কারণে জাপানের কোম্পানিগুলো কর্মী খুঁজে পাচ্ছে না। শ্রমিকসংকট চরম আকার ধারণ করায় তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লোক চাইছে। এ সুযোগটাই নিতে পারে বাংলাদেশ। মুশকিল হচ্ছে, জাপানি ভাষা শিক্ষা ছাড়া দেশটিতে কোনো কাজই পাওয়া যায় না।

বিএমইটির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার বা কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্র (টিটিসি) মিরপুর, মহিলা টিটিসি (মিরপুর), বাংলাদেশ কোরিয়া টিটিসি (চট্টগ্রাম), নরসিংদী টিটিসি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ টিটিসি, টাঙ্গাইল টিটিসি ও খুলনা টিটিসি। এগুলোতে ‘এন-ফোর’ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। জাপানি ভাষা বোঝার মৌলিক ক্ষমতা অর্জন করাকেই এন-ফোর পাস বোঝানো হয়। এসএসসি পাসের সনদ থাকলেই ভর্তি হওয়া যায়।

এ ছাড়া আরও ‘হাইব্রিড মডেল’ নাম দিয়ে আরও কয়েকটি জাপানি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র খোলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ কোরিয়া টিটিসি (মিরপুর), মহিলা টিটিসি (মিরপুর), বাংলাদেশ কোরিয়া টিটিসি (চট্টগ্রাম), চাঁপাইনবাবগঞ্জ টিটিসি, খুলনা টিটিসি, মৌলভীবাজার টিটিসি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া টিটিসি, কিশোরগঞ্জ টিটিসি, কাপাসিয়া টিটিসি, বরিশাল টিটিসি, রাজবাড়ী টিটিসি, চাঁদপুর সদর টিটিসিসহ আরও কয়েকটি কেন্দ্র। প্রশিক্ষণের পর পরীক্ষায় বসেন কর্মীরা। উত্তীর্ণ হলে জাপানের ব্যবস্থাপনায় আরও চার মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর শিক্ষানবিশ হিসেবে তাঁদের জাপানে নেওয়া হয়।

বিএমইটির আওতায় থাকা জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে দক্ষ জাপানি ভাষা শিক্ষকের অভাব রয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা স্বীকার করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *